মেইন ম্যেনু

৬ বছর ধরে মেয়েকে বাবার ধর্ষণ

ভারতে এক ছাত্রী শিক্ষকের হাতে এক টুকরো কাগজ দিলে, ছুটির আবেদনপত্র ভেবে শিক্ষক কাগজটি নিয়ে পড়ে। কিন্তু শিক্ষক ভাবতেও পারেন নি, সেই কাগজে লেখা রয়েছে ১৩ বছরের ওই ছাত্রীর সাহায্যের আর্তি। আর কাগজে লেখাটি পড়ে আঁতকে উঠেছিলেন শিক্ষক। ছাত্রীটি জানিয়েছে, তার বাবা তাকে প্রতিদিন ধর্ষণ করে। আর তার মা তা দেখেও তাকে কোনও সাহায্য করে না। সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীর এই লেখা পড়ে শিক্ষক তখন কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন।

ওই শিক্ষক বাসির একটি স্থানীয় স্বেচ্ছ্বাসেবী সংস্থা (এনজিও)-র দ্বারস্থ হন। ওই এনজিও-র সাহায্যেই ওই বিকৃতমনস্ক বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রীর বাবা একজন ফল বিক্রেতা। পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই ছাত্রী জানিয়েছে, ‘মায়ের সামনেই বাবা আমাকে ধর্ষণ করে। আর এরপর মা আমাকে কিছু ওষুধ খেতে দেয়। আমার যখন সাত বছর বয়স তখন থেকেই বাবা আমাকে ধর্ষণ করছে। মায়ের কাছে আমি বারবারই আপত্তি জানিয়েছি। কিন্তু মা কিছুই করেনি’।

ছাত্রীটিকে যে ওযুধ খাওয়ানো হত তা গর্ভনিরোধক কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ওই ছাত্রীর এক বড় বোন, এক বড় ভাই এবং আরও দুটি ছোট ভাই রয়েছে। ভাইরা বাড়িতে না থাকলেই তার বাবা তাকে ধর্ষণ করত বলে ওই ছাত্রীর অভিযোগ। পুলিশকে সে বলেছে, ‘আমার ভাইরা বাড়িতে না থাকলে সেই সুযোগে বাড়ির মধ্যেই বাবা আমাকে মায়ের সামনেই ধর্ষণ করত। মা কখনও আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি’। ছাত্রীটি একথা তার ১৭ বছরের বোনকেও জানিয়েছে। কিন্তু তার বোন বাড়িতে থাকে না। আর তার বোনও বাবার যৌন লালসার শিকার হয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে ওই ছাত্রী।

ছাত্রীটি বিষয়টি প্রতিবেশীদেরও জানিয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হয়নি। তারা তাকে পুলিশের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েই দায় সেরেছে।

কিন্তু স্কুলে একটি কাউন্সেলিংয়ের পর সাহস যোগাড় করতে পারে সে। শিক্ষকের সাহায্য চায় সে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি এনজিও নবি মুম্বাইয়ের স্কুলগুলিতে যৌন নিগ্রহ সম্পর্কে কাউন্সেলিং করে। আর এতেই ফল মিলেছে।

পুলিশ ছাত্রীর মাকেও জেরা করেছে। কিন্তু সে মেয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওই নারীর দাবি, দিন পনেরো আগে সে ঘটনাটি জানতে পারে। আর এজন্য স্বামীকে বকাঝকাও করেছে বলে ওই নারীর দাবি।

নির্যাতিতা ছাত্রীকে এনজিও-টি পরিচালিত শিশুদের হোমে রাখা হয়েছে।

পুলিশ বাবা-মা দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা দায়ের করেছে। ছাত্রীর বাবাকে গতকাল গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাকে আদালত ২৩ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। প্রয়োজনে ছাত্রীর মাকেও গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন নবি মুম্বই জোন-১-এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার।

সূত্র: এবিপি