মেইন ম্যেনু

৬ মাস পানিতে ভেসে ফিরে এল দুই কিশোর

দালালের খপ্পরে পরে সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রার পর ৬ মাস পানিতে ভেসে অবশেষে মা-বাবার কোলে ফিরে এসেছে জয়পুরহাটের দুই কিশোর। তাদের বাড়ি ক্ষেতলাল উপজেলার সমন্তাহার গ্রামে।

মায়ানমার নেভি কর্তৃক আটক হলে তাদের উদ্ধার করে বিজিবি। এরপর পর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে বাড়ি ফিরে আসে নাহিদ (১৭) ও মোতালেব (১৭) নামের এই দুই কিশোর।

নাহিদ ক্ষেতলালের সমন্তাহার গ্রামের লজিমদ্দিন এবং মোতালেব একই গ্রামের আব্দুল মজিদের পুত্র।

জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় দালাল বাহাউদ্দিনের খপ্পরে পরে মালয়েশিয়া যাবার স্বপ্নে নাহিদ ও মোতালেব বাড়ি থেকে লাপাত্তা হয়ে প্রথমে তার সঙ্গে বাসে কক্সবাজারের মহেশখালী যায়। সেখান থেকে এই দুই কিশোরকে একটি ছোট্ট বোটে তুলে চট্টগ্রামের গভীর সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর সেখানে একটি বড় জাহাজে তুলে মালয়েশিয়া যাত্রা শুরু হয়। এই কিশোরদের সঙ্গে সেখানে আরো ৩ শতাধিক যুবক ও কিশোরকে জাহাজে তোলা হয় মালয়েশিয়া নিয়ে যাবার জন্য। এরপর স্থানীয় দালাল চম্পট দেয়।

এই দুই কিশোরকে অন্যান্যদের মতো বলা হয়েছিল যে, মালয়েশিয়া গিয়ে চাকরি করে যাবার খরচ ও দালালের টাকা পরিশোধ করার কথা। এভাবে প্রায় ৩ মাস সাগরে ভাসার পর গত গত ২২ রমজান তারা মায়ানমার নেভি কর্তৃক আটক হয়। এরপর মায়ানমার নেভি তাদের কাছে দুই লক্ষ টাকা করে দাবি করে তাদের দিয়ে বাড়ীতে মা-বাবার কাছে ফোন করায়।

কিশোররা জানায়, মায়ানমার নেভি তাদেরকে একটি পাহাড়ে আটকে রেখে দিনে এক বেলা খাবার দিত এবং টাকা না পাঠালে মেরে ফেলার হুমকি দিত। অবশেষে তাদের বাড়ি থেকে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাঠানোর পর তাদেরকে বাংলাদেশ সীমান্তে এনে ছেড়ে দেয় মায়ানমার নেভি। বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে হস্তান্তর করে।

এরপর চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট তাদেরকে ঢাকা রেড ক্রিসেন্টে হস্তান্তর করলে ঢাকা রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি বৃহস্পতিবার জয়পুরহাট জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তারা মা-বাবার কোলে ফিরে আসে। স্থানীয় ওই দালাল লাপাত্তা রয়েছে বলে জানা গেছে।