মেইন ম্যেনু

৭০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে আমেরিকার জাতীয় বীর ইমরান!

আমেরিকার ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো নাইট ক্লাবে র সেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৭০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা ইমরান ইউসূফ। হামলাকারী একজন মুসলিম হওয়ায় জঙ্গি হামলা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সেদিন আরেক মুসলিম এত সংখ্যক লোকের প্রাণ বাঁচানোয় জাতীয়র বীর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে ইমরানকে।

ইমরান একসময় মার্কিন নৌসেনার নাবিক ছিলেন। চাকরির কারণে সন্ত্রাস-বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে বেশ কয়েক বছর কাটিয়েছেন তিনি। সদ্য নাবিকের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে পালসে বাউন্সার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন চব্বিশ বছরের ইমরান।

অন্য দিনের মতো রোববার রাতেও পালস নাইটক্লাবে ডিউটিতে ছিলেন ইমরান ইউসুফ। হঠাৎ তিনি একটানা গুলির শব্দ শুনতে পান। প্রথম চার রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার পরেই তাঁর বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ‘হাই ক্যালিবার’ বন্দুক থেকে গুলি চলছে নাইটক্লাবে।

মুহূর্তে হামলার বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। ছুটে যান পালস ক্লাবের অভ্যন্তরে। তিনি জানতেন এখান থেকে প্রাণ বাঁচানোর একটাই উপায়। পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে হবে। কিন্তু ততক্ষণে আতঙ্কিত লোকজন সেখানে ভিড় জমিয়েছে। কিন্তু তারা কেউ দরজার হুড়কোটা খুলতে পারছেন না। অত লোকের ভিড় ঠেলে ইমরানের পক্ষেও সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব। কিন্তু এটি না খুলতে পারলে যে সবাইকে গুলি খেয়ে মরতে হবে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন ইমরান। তিনি তখন লাফ দিয়ে দরজার উপর গিয়ে পড়েন এবং ধাক্কা দিয়ে হুড়কোটা ভেঙে ফেলেন। এরপর ক্লাবের অভ্যন্তরে আটকে পরা আতঙ্কিত মানুষগুলোকে ওই দরজা দিয়ে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন। তিনি সবমিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ জনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সে রাতে কমপক্ষে ৭০ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে তাঁদের নাইটক্লাব ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছিলেন ইমরান।

ইমরানের সাহসিকতার কাহিনি এখন লোকের মুখে মুখে ফিরছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে তার ওপর একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এ নিয়ে বেশ বিব্রত তিনি। নিজের ফেসবুক পেজে সম্প্রতি লিখেছেন, ‘আমাকে অনেকেই নায়কের আসন দিচ্ছেন দেখছি। কিন্তু আমি তখন যা করেছি, সেটা একটা ঘটনার প্রতিক্রিয়া মাত্র।’

আসলে নিজের এই সাহসিকতা ও মানবিকতার ঘটনায় কোনো বাহবা নিতে নারাজ এই হিন্দু যুবক। তাইতো স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম সিবিএসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন,‘আহা, আমি যদি আরো মানুষের জীবন বাচাতে পারতাম! ওই রাতে অনেক লোক মারা গেছে।’ এ কথা বলার সময় নিহত মানুষগুলোকে স্মরণ করে তার দু চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরছিল।

রোববার রাতে অরল্যান্ডো নাইট ক্লাবে বন্দুকধারী ওমর মতিনের গুলিতে ৪৯ জন নিহত এবং আরো ৫৩ জন আহত হয়েছিল।