মেইন ম্যেনু

৭৪ বছর পর পার্ল হারবারের নাবিকদের ঘরে ফেরা

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাসকায় অবস্থিত অফফুট এয়ারফোর্স বেসের একটি পুরনো বিমান কারখানার ভেতরে, কাচের জানালা পেরিয়ে একটি আদিম পরীক্ষাগার, যেখানে একটি বিশেষ টেবিলের উপর কালো ফেনার মধ্যে আবৃত হয়ে ইতিহাসের কালো সাক্ষী হয়ে পড়ে আছেন ইউএসএস ওকলাহোমা জাহাজের নিখোঁজ নাবিকগন।

তাদের শরীরের হাড়গোড় প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে মাটির নিচে সমাধিস্থ। তারো আগে মাসের পর মাস পার্ল হারবারের তৈলাক্ত পানির ভেতর যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষের ভেতর বন্দী থাকায় বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। হাত, পা, বুকের পাঁজর, মেরুদন্ডের হাড়গুলোকে নীল ট্যাগ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু কিছু ট্যাগের রঙ আবার বেইজ রঙের যেটি নির্দেশ করে যে এই হাড় থেকে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

এই হাড়গোড়গুলো সেইসব শত শত নাবিক এবং নৌ সৈনিকের যারা ৭৪ বছর আগে পার্ল হারবারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন। তাদেরকে এতবছর ধরে সনাক্ত করা হয়নি। কাজেই এখনও পরিবারের সদস্যদের কাছে এই নাবিক এবং নৌসেনারা নিখোঁজ হয়ে আছেন।

সাত দশক পর, যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এই নাবিক এবং নৌসেনাদের সনাক্তকরণের পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। গত ছয় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পার্ল হারবারের ইউএসএস যুদ্ধজাহাজের এই নাবিকদের সনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য তাদের দেহবাশেষ হাওয়াইয়ের কবরস্থান থেকে তুলে আনা হয়েছে এবং এই এয়ারবেজের নতুন ল্যাবরেটরিতে নিয়ে আসা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যে হাড়গোড় থেকে নাবিকদের সনাক্তকরণের কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

সবার লক্ষ্য একটাই, এই নিখোঁজ নাবিক ও নৌসেনাদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

ক্যারি এ. ব্রাউন নামের একজন নৃতত্ত্ববিদ বলেন যে ‘এটি পরিবারের সদস্যদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষের কাছেই পার্ল হারবার পারিবারিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা যার গল্প বংশ পরম্পরায় বলে আসা হচ্ছে।’

ক্যারি এ. ব্রাউন আরো বলেন, ‘অনেক মানুষই বলে যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কারা মারা গেছে, কারা বেঁচে আছে কেউ জানেও না। এবং এর জন্যই এটা অত্যাবশকীয় যে আমরা এই নিখোঁজ নাবিকদের ঘরে ফেরত পাঠাই।’

ওকলাহোমা ডিপিএএর হিদার হ্যারিসের মেমো অনুযায়ী, বেশিরভাগ নাবিকের মৃতদেহ মাসব্যাপী সন্ধানের পরে জাহাজের ধ্বংসস্তুপের ভেতর পাওয়া যায়। এরপর সনাক্তকরণের ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার কারণে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর এরা আজো ইতিহাসের পাতায় নিখোঁজ হয়েই আছেন।

এবার তাদের ঘরে ফেরার পালা।

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট



(পরের সংবাদ) »