মেইন ম্যেনু

কুড়িগ্রামে সাংবাদিকদের সাথে ইসলামিক রিলিফের মতবিনিময়

৭৫০ এতিম ও তার পরিবার উন্নয়নে কাজ করছে ইসলামিক রিলিফ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের উলিপুরে সাংবাদিকদের সাথে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ এর Kurigram Islamic Relief photo- 26.05.16 (1)মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামিক রিলিফ উলিপুর উপজেলা অফিসে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সংস্থার এডভোকেসি ও যোগাযোগ সমন্বয়কারী শফিউল আযম, জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, উলিপুর উপজেলার ৭শ ৫০ জন অসহায় এতিম পরিবারের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ। পাশাপাশি পরিবারের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আয়বর্ধনমুলক কর্মসৃষ্টি, শিশুদের অধিকার, সুরক্ষা, শিক্ষা ও এতিম পরিবারের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। এছাড়াও এতিম শিশুদের পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ৫০০ টাকা এবং পরিবারের সচ্ছলতা আনয়নে এককালীন ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সংস্থাটি কুড়িগ্রামে ২০১৪ সাল থেকে কাজ করে আসছে।

পরে জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এতিম শিশুদের কয়েকটি পরিবার ও এতিম কিশোর-কিশোরীদের বিনোদন ক্লাব সরেজমিনে প্রদর্শন করানো হয়।

পরিদর্শন কালে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুরের নওদাবাস গ্রামের মোসা বেবি বেগম। স্বামী মারা যাবার পর দুই মেয়ে নিয়ে সমস্যায় পড়েন। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো ও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। একটু সাহায্যের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ান। পরে ইসলামিক রিলিফ এর সহায়তায় মেয়েদের পড়া-লেখা চালাচ্ছি। পাশাপাশি তাদের সাহায্যে দিয়ে সংসারের আয় বাড়াচ্ছেন।
রওশন আরা বেগম বলেন, বাড়ি দুর্গাপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামে। ১০ বছর আগে স্বামী মারা যায় ব্লাড ক্যান্সারে। কোলের শিশু নিয়ে বিপাকে পড়েন। জমি জমা নাই। কোলের শিশুকে রেখে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন ঝি হিসেবে। এভাবেই চলছিল তার দিনাতিপাত। এখন ইসলামিক রিলিফ এর সহযোগীতায় স্বালম্বী হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিন্দু রানী এককালীন ২০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়ে তিনি গরু ও ভেড়া কিনেন। এগুলোর আয় থেকে সংসারের খরচ মেটান। রোশনারা ২০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় শাক সবজি চাষ ও হাঁস মুরগি পালন করেন। এরপর আয় থেকে গরু ও বাছুর কিনেন। এখন তাঁর সংসার ভালভাবে চলছে। আর বেবি বেগম প্রথমে ২০ শতক জমি বন্ধক নেন এবং ছাগল পালন শুরু করেন। এখন সচ্ছলভাবে দিনাতিপাত করছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার অসহায় এতিম পরিবারের টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আয়বর্ধনমুলক কর্মসৃষ্টি, শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ৭৫০ এতিম পরিবারের জীবন মান উন্নয়ন ও শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এতিম শিশুদের পড়াশোনার জন্য মাস প্রতি ৫০০ টাকা এবং পরিবারের সচ্ছলতা আনয়নে এককালীন ২০ হাজার টাকা করে ব্যবসা শুরুর জন্য নগদ অর্থ সাহায্য দেয়া হয়েছে।

উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল আজিজ প্রধান বলেন, সংস্থাটি প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় বিধবা নারীদের বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে, যা গ্রামীন অসহায় দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য খুবই কার্যকরী পদক্ষেপ।

উলিপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানারা আক্তার বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও নিজেদের স্বাবলম্বী করতে এই ধরণের কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সব্জি চাষ, সেলাই প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয় দরিদ্র নারীদের। এই কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারণ করা দরকার।

সংস্থার এডভোকেসি ও যোগাযোগ সমন্বয়কারী সফিউল আযম বলেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে কাজ করছে এবং বর্তমানে কৃড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬ হাজার এতিম শিশু ও তাদের পরিবারের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করছে। এরই অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামে এই পকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

পরিবারের স্বাবলম্বীতার পাশাপাশি এতিম শিশুদের জীবনমান উন্নয়নেও সংস্থাটি কাজ করছে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেজন্য মতামত প্রদান ও নেতৃত্ব বিকাশের মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ৪৪ শিশু ক্লাব গঠন করা হয়েছে। যেখানে শিশুরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে, শারিরীক ও মানসিক বিকাশে নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড এবং সমাজ সচেতনতামূলক কাজ যেমন শিশু নির্যাতন, বাল্য বিয়ে, ইভটিজিং, যৌতুক প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কাজে অগ্রনী ভ’মিকা রাখছে।