মেইন ম্যেনু

৭৭ গ্রাহককে খুঁজছে বেসিক ব্যাংক

বেসিক ব্যাংক থেকে ৭৭ গ্রাহক ৩ হাজার ২০১ কোটি ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন যা তারা ফেরত দিচ্ছেন না। অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে তাই ব্যাংকের সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করছেন না। ঋণ আদায়ের জন্য বেসিক ব্যাংক এখন হন্যে হয়ে এ ৭৭ গ্রহীতাকে খুঁজছে।

এছাড়া ১৬৯ গ্রাহক ঋণ নিয়েছেন ৬ হাজার ২২১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এরাও অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন। এদের ঋণ পরিশোধের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ উপস্থাপন করা হয়। তা থেকেই এ তথ্য ও পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

বেসিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ৭৭ গ্রাহক ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যাংকের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করছেন না। এরা ২০১০ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যোগসাজশে নামে বেনামে এই বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই গ্রাহকরা অধিকাংশই অনিয়মের মাধ্যমের, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ঋণ নিয়েছে।

তবে ব্যাংকটির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, নতুন পরিচালনা পর্ষদ আসার পর ব্যাংকটি পুনুরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কাকে কি ভাবে ঋণ দেওয়া হয়েছ, কার কাছে কত টাকা পাওনা তা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বেশ কিছু গ্রাহকের কোন সন্ধান মিলছে না। তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না বা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেনা না এমন ৭৭ গ্রাহককে চিহ্নিত করা গেলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এরা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন। এদের কাছে মোট ৩ হাজার ২০১ কোটি ৮ লাখ টাকা পাওনা। তাদের খুঁজে পেলে ঋণের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেবো।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বেসিক ব্যাংক পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত এক বৈঠক সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকেদের সঙ্গে আলাপকালে ব্যাংকটিকে ‘চুরি-চামারি’ করে ‘হরিলুট’ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এই চুরিচামারি-হরিলুটের পিছনে জড়িত ছিলেন ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চু, তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা ফখরুল ইসলাসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা এবং তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ। যেখানে ছিলেন, সরকার মনোনিত রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, অর্থনীতিবীদ এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন কর্মকর্তা। এরা সবাই মিলে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানকে মাত্র দু’বছরের মধ্যে প্রায় দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানে পরিনত করে।

মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে ১৬৯ জনকে এক মাসের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এসময়ের মধ্যে তাদের ঋণ পরিশোধ করা না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর যে ৭৭ গ্রাহক ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়ার জন্য ব্যাংকের সাথে যোগাযোগাই করছেন না তাদের বিরুদ্ধে এতদিনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই এদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসিক ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৩২৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। পুনঃতফসিলকৃত কোম্পানির মধ্যে ১৩৭টি কোম্পানি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে। আর যারা কিস্তি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১টি প্রতিষ্ঠান পুনঃতফসিলীকরণের শর্ত পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগতব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে পাওয়ানা টাকার পরিমান ৪৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বেসিক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্রমবর্ধমান হারে ও ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করে আসছিল। সরকারকে নিয়মিত বিরতিতে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ দিয়ে আসছিল। যার পরিমান যথাক্রমে ৫৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং ২৮৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। সরকারকে নিয়মিত কর্পোরেট ট্যাক্স দিয়েছে যার পরিমান ৭৮৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। নিজস্ব মুনাফা দিয়ে প্রয়োজনীয় মূলধনের সংস্থান হয়েছে।

সবসময় প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষন করতো এ ব্যাংক। এ ছাড়াও শ্রেণিকৃত ঋণের হার আন্তর্জাতিক গ্রহনযোগ্য মানের চেয়েও অনেক নীচে থাকতো। ক্যামেল রেটিংয়ে অবস্থান ছিল সৃদৃঢ়। সেবার মান ও কার্যক্রমে ২০০৯ পর্যন্ত একটি আদর্শ ও অনুকরনীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য ছিল। মাত্র চার বছরের মধ্যে ব্যাংকটির দশা হয়েছে বেহাল।