মেইন ম্যেনু

‘৭৮৬’ সংখ্যা দিয়ে হদিস মিলল দুই খুনির

৭৮৬- এই তিনটি সংখ্যা দিয়েই হদিস মিলল দুই খুনির। উন্মোচিত হলো একটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য। কীভাবে? তাই শুনুন। ঘটনাটি কলকাতার কসবা এলাকার। এই ৪ জানুয়ারি কসবার নস্করহাটে চারতলা বাড়ির দোতলায় নিজের ফ্ল্যাটে খুন হন প্রৌঢ়া কমলা রাজবংশী। পুলিশ কূলকিনারা পাচ্ছিল না হত্যারহস্যের। তবে সন্দেহের তির ছিল এই বাড়িরই জামাই সুনীলের দিকে। সেই সন্দেহটা যে সঠিক, সেটাই প্রমাণ করে দিল ‘৭৮৬’ সংখ্যাটি।
শুভ হিসেবে গণ্য ৭৮৬ সংখ্যাটি কসবার প্রৌঢ়ার খুনিদের হদিস পেতে পুলিশের জন্যও শুভ হয়ে উঠল। ৭৮৬ সংখ্যার সূত্র ধরে কমলা খুনের পাঁচ দিন পর শনিবার রাতে কলকাতার পিকনিক গার্ডেন থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করে কসবা থানার পুলিশ। যুবকের নাম নিয়াজ আহমেদ। সে নিহত কমলার বড় জামাই সুনীলের বন্ধু।

কমলা খুন হওয়ার পর তদন্তে নেমে পুলিশ দেখে, কমলার গোটা ফ্ল্যাট তছনছ, সব আলমারির দরজা হাট। তদন্তকারীরা জেনেছেন, নগদ ২০ হাজার টাকাও লুট করে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। আর খোয়া গেছে কমলার মোবাইলটিও। লুট হওয়া টাকার বেশ কিছু নোটে ৭৮৬ নম্বরটা ছিল।

নম্বরটা থাকার ক্ষেত্রেও আছে এক মজার ঘটনা। মা খুন হওয়ার খবর পেয়ে মুম্বাই থেকে কলকাতা আসেন কমলার ছোট মেয়ে আয়েশা। আয়েশা তার দিদি গীতার কাছে কিছু টাকা চান মায়ের শেষকৃত্য ও অন্যান্য কাজের জন্য। গীতা যে নোটগুলো দেন, তা দেখে চমকে ওঠেন আয়েশা। প্রতিটি নোটেরই শেষ তিনটি অঙ্ক ৭৮৬। দিদিকে আয়েশা জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, সুনীলই গীতাকে ওই সব নোট দিয়েছে।

পুলিশকে আয়েশা জানান, ৭৮৬ সংখ্যাটি শুভ বলে নম্বরের শেষে ওই সংখ্যা রয়েছে, এমন বহু নোট সংগ্রহ করে তিনি তার মা-কে পাঠিয়ে সেগুলো রেখে দিতে বলেছিলেন। পুলিশ আরো জেনেছে, সুনীল প্রায়ই একটি ট্যাক্সি ব্যবহার করত। তার চালক পুলিশকে জানান, সুনীল দুদিন আগে তাকে নগদ আড়াই হাজার টাকা দিয়েছেন। পুলিশ দেখে, ওই সব নোটের নম্বরের শেষেও ৭৮৬।

পুলিশের ভরসা ছিল, খুনের পরে খোয়া যাওয়া মোবাইল থেকে কিছু হদিস মিলবে। কিন্তু তা বন্ধ ছিল। তদন্তকারীরা তক্কে তক্কে ছিলেন, কখন সেটি চালু করা হয়। শেষমেশ সেটি প্রথম চালু হয় ৬ জানুয়ারি, বুধবার। ফোনটি ছিল সুনীলের বন্ধু নিয়াজের কাছে। নিয়াজকে পাকড়াও করে পুলিশ।
জেরায় নিয়াজ জানিয়েছে, ওই প্রৌঢ়াকে খুনের পরিকল্পনা সুনীলেরই। কমলাদেবীর হাতে চা খাওয়ার পরে সুনীল ও নিয়াজ দুজনে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করে। সুনীল নিজের বেল্ট দিয়ে ও নিয়াজ শাড়ির ফাঁস লাগিয়েছিল কমলাদেবীর গলায়।

খুনের কারণ, আয়েশার টাকায় কেনা কসবার নস্করপাড়ার দুটি ফ্ল্যাট ও শ্যালিকা আয়েশার টাকাপয়সা, যা হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল সুনীল। শাশুড়ি কমলা না চাওয়ায় এই খুন। এর পর থেকে সুনীল লাপাত্তা।