মেইন ম্যেনু

৮০০০ কোটি টাকা খরচ করে পুত্রের বিয়ে দিলেন এক ধনকুবের বাবা!

কোনো রাজা বাদশার বিয়ে এমন ব্যয়বহুল হয়েছে কি না তার পরিসংখ্যান জানা নেই, তবে একবিংশ শতাব্দিতে এই বিয়ের আয়োজন খরচের দিক দিয়ে উপরের সারিতেই থাকবে।

রাশিয়ার মুসলিম ধনকুবের বাবা তার পুত্রের বিয়েতে এমন খরচ করেছেন যে তা নজির হয়েই থাকবে। ধনকুবের মিখাইল গুতসেরিয়েভ তার ২৮ বছর বয়সী পুত্র সাইদ গুতসেরিয়েভের বিয়ে দিয়েছেন ২০ বছরের কনে খাদিজা উঝাকোভার সঙ্গে। আর তারকা-ঠাসা মস্কোর এই জাঁকজমকপূর্ণ বিয়েতে তিনি খরচ করেছেন ৮ হাজার কোটি টাকা!

তেলের মূল্য পড়ে গেলেও মিখাইলের এই খরচ করতে এতটুকু বাঁধেনি। কারণ রাশিয়ার ধনকুবেরের পুত্রের ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে বিয়ে বলে কথা, তাই টাকা কোনো বিষয় নয়।

বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিনোদনের জন্য তিনি হাজির করিয়েছেন এনরিক ইগ্লেসিয়াস, এল্টন জন ও স্টিংয়ের মত শিল্পীদের। নাচিয়েছেন জেনিফার লোপেজের মত তারকাকে।

আগত অতিথিরা অসংখ্য ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করেছেন। তার মধ্যে জাঁকালো পুষ্পশোভিত দেয়াল এবং শামিয়ানার ছবিও রয়েছে। এই উদযাপনের মধ্যে আতশবাজি ও নয় স্তর বিশিষ্ট বিয়ের কেকও ছিল।

কন্টাক্ট মিউজিকের বরাতে জানানো হয়, জেনিফার লোপেজ তার নাচের অনুষ্ঠানের সময়টুকুতে তিনবার পোশাক পরিবর্তন করেন। এরমধ্যে তার সেরা তিনটি গান ‘গেট অন দি ফ্লোর, ড্যান্স এগেইন এবং গেট রাইট’ ছিল।

ইন্সটাগ্রাম প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি নতুন দম্পতির জন্য শুভকামনা করেন এবং বলেন, ‘সঠিকভাবে তোমাদের নাম উচ্চারণ করাটা ছিল আজকের দিনে সবথেকে কঠিন কাজ।’ কনের পরনে ছিল বিখ্যাত ডিজাইনার এলি সাবেরের কাস্টম গুটির কাজ করা গাউন যার মূল্য ২০,৪০,০০০ টাকা।

এটা আমদানি করা হয় প্যারিস থেকে যার ওজন ২৫পাউন্ডের মত। অত্যধিক গুটি কাজের কারণেই এমন ওজন। এ কারণে নববধূকে সিড়ি বেয়ে উঠতে অন্যের সহায়তা নিতে হয়েছে।

ফোর্বসের দেয়া তথ্য মতে, মিখাইল গুতসেরিয়েভের সম্পদের পরিমাণ ৬২ হাজার কোটি টাকা। এর বেশির ভাগই তিনি অর্জন করেছেন কমিউনিজম ব্যবস্থার পতনের পরে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করে।

এছাড়াও তার বেশ কয়েকটা তেল কোম্পানি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার অর্থনীতি নিম্নগামী হলে তিনি সম্পদ ক্রয় এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনিয়োগ করেন।

তার পুত্র সাইদ গুতসেরিয়েভ ব্রিটেনের অক্সফোর্ড থেকে প্রত্নতত্ত্ব ও ভূগোল বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে পারিবারিক ব্যবসা দেখাশুনার কাজে যোগ দিয়েছেন।