মেইন ম্যেনু

৮২ বছর পর মা-মেয়ের সাক্ষাত

অধিকাংশ সময়ই সন্তান জন্মদানে অপারগ দম্পতিরা সন্তান দত্তক নিয়ে থাকেন। তাদেরই কোলে পিঠে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে সেই দত্তক নেয়া সন্তানটি। কিন্তু তারপরেও রক্তের সম্পর্কের পিতা-মাতা আর দত্তক সূত্রে পিতা-মাতার স্নেহে কোথায় যেন একটা সূক্ষ্ণ পার্থক্য থেকেই যায়, যা একমাত্র ওই সন্তানটিই বুঝতে পারে। তাইতো সন্তানটি যখন বড় হয়ে নিজের জন্ম পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারে তখন তাদের বেশিরভাগেরই মনে একটাই আশা থাকে। আর সেটা হলো তাকে জন্মদানকারী মাকে একটি বারের জন্য হলেও দেখা। অনেকের ক্ষেত্রেই এমন আশা পূরণ হয় না। কিন্তু আশা পূরণ হয়েছে বেটি মোরেল নামের একজন সন্তানের। মাত্র ছয় মাস বয়সেই কিশোরী মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বেটিকে।

বেটির মায়ের নাম পিয়ার্স। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর নিউইয়র্কের বিংহ্যামটন বিমানবন্দরে মায়ের সঙ্গে দেখা হয় তার। পিয়ার্সের বয়স যখন ১৪ বছর তখনই তিনি গর্ভবতী হয়। সময়টা ছিল ১৯৩৩ সাল যখন বেটির বয়স মাত্র ছয় মাস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আইন মোতাবেক যেখানে মায়ের বয়স এত কম সেখানে একটি মা চাইলেই বাচ্চার দায়িত্বভার গ্রহন করতে পারে না। তাই একপ্রকার জোরপূর্বক মা ও তার সন্তানকে একে অপরের কাছ থেকে আলাদা করে দেয়া হয়। তবে সন্তান হারিয়ে থেমে ছিল না পিয়ার্সের জীবন। পরবর্তীতে তিনি আবার বিয়ে করেন এবং সেই ঘরে তার আরো সাতজন সন্তান রয়েছে। কিন্তু এরপরও কিশোর বয়সের জন্ম দেয়া সন্তাটিকে দেখার ইচ্ছে যেন থেকেই যায়।

বিশ বছর ধরে বেটি তার পালক বাবা-মায়ের কাছে থাকতো। একদিন সে তার আসল জন্ম পরিচয় জানতে পারলে তারা তাকে প্রতিশ্রুতি দেয় তার আসল মায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার। আর সে জন্য তারা প্রথমে যায় যেখান থেকে তারা বেটিকে দত্তক এনেছিল। সেখানকার কর্মকর্তারা তাদের একটি হাসপাতালের নাম বলে যেখান থেকে তারা বেটিকে নিয়ে এসেছিল। এরপর সেখান থেকে পিয়ার্সের নাম ও ঠিকানা জোগাড় করে একটি ওয়েবসাইটে সন্ধান চালিয়ে পাওয়া যায় পিয়ার্সের বর্তমান ঠিকানা। প্রায় দীর্ঘ ৮২ বছর পর নিউইয়র্কের বিংহ্যামটন বিমানবন্দরে দেখা হয় এই মা-মেয়ের। এতদিন পর দেখা হয়ে দুজনই কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। পুরো বিমানবন্দর জুড়ে একটি আবেগআপ্লুত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মায়ের সঙ্গে দেখা করে বেটি বলেন, ‘আগে আমি মনে করতাম এ পৃথিবীতে আমার আপন বলে কেউ নেই, কিন্তু এখন দেখছি আমার মা, ভাই, বোন সব আছে। এখন মনে হচ্ছে আমর পরিবার সম্পূর্ণ হয়েছে’।



« (পূর্বের সংবাদ)
(পরের সংবাদ) »