মেইন ম্যেনু

৮ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে হারিয়ে গেল কুকুরটি

প্রভুভক্ত প্রাণী বলা হয়ে থাকে কুকুরকে। আবার এই কুকুরই মানুষের পরম বন্ধু। এমন কথা মিথ্যা নয় তা আবারও প্রমাণ করলো একটি কুকুর। এই কুকুরটিকে কি বিশেষণে বিশেষায়িত করা যায়?

যে কুকুর ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় প্রবল তুষারপাতের মধ্যে একে একে আটজনের প্রাণ বাঁচিয়েছে তার জন্য সব প্রশংসাই যেন অল্প হয়ে যাবে। অবাকা হচ্ছেন! অবাক হওয়ার আরও অনেক বাকি। কুকুরটি ওই আটজনের প্রাণ বাঁচিয়ে নিজে হারিয়ে যায়! পাওয়া যায়নি আর তাকে!

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পঞ্জাবের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাত জন ছাত্র এবং তাদের প্রশিক্ষক হিমাচল প্রদেশের কুলুর পাহাড়ি এলাকায় অভিযানে গিয়ে প্রায় আট হাজার ফুট উচ্চতায় প্রবল তুষার ঝড়ে আটকে পড়েন। তিন দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে গত ১৪ মার্চ তাদের উদ্ধার করা হয়। যদিও প্রবল তুষারঝড়ের মধ্যেও নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য পথচলতি একটি কুকুরকেই ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এই অভিযাত্রী দলের সদস্যরা।

অভিযানের মাঝপথে কুলুর বিজলেশ্বর মহাদেব মন্দির থেকে চন্দারখানি পর্বত চূড়ায় যাওয়ার সময়েই এই কুকুরটি তাঁদের সঙ্গ নেয়। বেশ কয়েকবার তাঁরা কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিলেও সেটি তাঁদের পিছু ছাড়েনি।

অভিযাত্রী দলেরই এক সদস্য সৌরভ শর্মা নামে এক ছাত্র জানিয়েছেন, তুষারপাত শুরু হওয়ার পরে তারা পথ হারিয়ে ফেলেন। সেই সময়ে কুকুরটি তাদের পথ দেখিয়ে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসে।

তার আরও দাবি, কুকুরটিকে খেতে দিলেও কোনও এক অজানা কারণে সেটি কিচ্ছুটি মুখে তুলত না। শুধু তাই নয়, অভিযাত্রী দলের সদস্যরা রাতে তাঁবুর ভিতরে ঘুমোলেও তুষারপাতের মধ্যেই কুকুরটি বাইরে ঘুমোত।

১২ হাজার ফুট উচ্চতায় পর্যাপ্ত খাবার এবং জীবনদায়ী সরঞ্জাম ছাড়াই প্রায় ৭৮ ঘণ্টা আটকে ছিলেন ওই অভিযাত্রীরা। দলের আর এক সদস্য অনিল কুমার দাবি করেছেন, ক্রমাগত তুষারপাত সত্ত্বেও জঙ্গলের মধ্যে গিরিপথ ধরে কুকুরটি তাদের পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়।

এর পরে উদ্ধারকারী দলের একটি হেলিকপ্টার দেখে তারা হাত নাড়তে শুরু করেন। কুকুরটিও ক্রমাগত ডাকতে থাকে। শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে এক উদ্ধারকারী নেমে ওই অভিযাত্রীদের একে একে উদ্ধার করেন। যদিও কুকুরটিকে উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারকারী দলের এক সদস্যের দাবি, কুকুরটিক কম্বল জড়িয়ে উপরে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোনওভাবে বাঁধন ছাড়িয়ে সেটি পালিয়ে যায়।

যাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে কুকুরটি, অভিযাত্রী দলের সেই সদস্যরা অবশ্য এখনও অচেনা ওই জীবনদাতার জন্য আফসোস করছেন। সৌরভ শর্মা নামে ওই ছাত্রের কথায়, ‘কুকুরটাকে না নিয়ে আসতে পেরে নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। কে জানে, ওইরকম তুষারপাতের মধ্য ও আদৌ প্রাণে বাঁচতে পারবে কি না!’