মেইন ম্যেনু

৯০০ কর্মী ছাটাই পরিকল্পনা করেছে গ্রামীণফোন!

দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ৯ শতাধিক কর্মী ছাটাই পরিকল্পনা করেছে। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছা অবসর স্কিম (ভিআরএস) ঘোষণা করেছে অপারেটরটি। ভিআরএস নিতে আগ্রহীদের আগামী ১৫ জুনের মধ্যে এ ব্যাপারে আবেদন করতে বলা হয়েছে। তবে যেসব কর্মীর বয়স ৫৮ বছর বা তার অধিক তারা এ স্কিমের আওতায় পড়বেন না। এই প্রতিবেদন লেখা (শুক্রবার) পর্যন্ত মাত্র ৯৭ জন কর্মী এতে অগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে এফ ক্যাটাগরির পিয়নের সংখ্যাই বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ সরাসরি কর্মী ছাটাইয়ের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

অপারেটরটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাংলালিংকের চেয়েও দ্বিগুণ স্বেচ্ছা অবসর স্কিম ঘোষণা করেছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটি আশা করেছিল তাদের কাংখিত ৯০০ কর্মী এতে অংশগ্রহণ করবে। বাংলালিংকে ৩০ জন থেকে ৪৭০ জন কর্মী স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে নাম লেখিয়েছে। কিন্তু গ্রামীণফোনে কর্মীদের থেকে সে ধরণের সাড়া পাচ্ছেন না কর্তৃপক্ষ। আরও ৫ দিন সময় হাতে থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৯৭ জন এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে।

গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এটাকে স্বেচ্ছা অবসর স্কিম (ভিআরএস) বললেও গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, এটা ম্যানেজমেন্ট নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এখানে যে কেউ ভিআরএস-এর জন্য আবেদন করতে পারলেও সে আদৌ যেতে পারবে কিনা তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কর্তৃপক্ষ। এখানে কর্মীদের স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে যাওয়ার ব্যাপারে কোন স্বাধীনতা নেই। গ্রামীণফোন কর্মীরা জানিয়েছেন, স্বেচ্ছা অবসর নেওয়ার ব্যাপারে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার চাপ প্রয়োগ করছে না। তবে যাদেরকে বুঝানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা স্বেচ্ছায় অবসরের জন্য বল প্রয়োগ করছে।

গ্রামীণফোনে এফ থেকে এ ক্যাটাগরি অর্থাৎ পিয়ন থেকে প্রধান নির্বাহী পর্যন্ত চাকরির পদমর্যাদা রয়েছে। এর মধ্যে যারা এফ ক্যাটাগরিতে চাকরি করেন তাদের বেসিক বেতনের ৬০ থেকে ৭০টি বেসিক বেতন, ই ক্যাটাগরিতে ৫৪ থেকে ৬৪টি বেসিক বেতন, ডি ক্যাটাগরিতে ৪২ থেকে ৫২টি বেসিক বেতন এবং সি ও বি ক্যাটাগরির জন্য ২৪ থেকে ৩৪টি বেসিক বেতনের অফার দেওয়া হয়েছে। ই ক্যাটাগরিতে ইউনিয়নের লিডারদের সংখ্যা বেশি এবং ডি ক্যাটাগরিতে মধ্য সারির ম্যানেজমেন্টের সংখ্যা বেশি। এই দুটি ক্যাটাগরিতে যারা আছেন তাদের নিয়েই মূলত প্রতিষ্ঠানের মাথা ব্যাথা। ই ক্যাটাগরির প্রতিটি কর্মীর বেতন বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। অথচ এই শ্রেণীর কর্মীদের কাজ আউটসোর্সিং করলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সম্ভব।

২০০৭-২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কর্মী ছিল ৫ হাজারের মতো। ২০০৯ সালে এসে ১২ শতাধিক কর্মী ছাটাই করে কর্তৃপক্ষ। ২০১২ সালে এসে আরও ৩ শতাধিক কর্মী ছাটাই করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে নানান ধরণের রাজনীতি শুরু হলে শেষ পর্যন্ত একটি ইউনিয়ন গড়ে ওঠে। ২০১৩ সালে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল গড়ে ওঠে। এ বছর ১৮৮ জনকে সম্মানের সাথে বিদায় জানানো হয়। ২০১৪ সালে কোন সমস্যা হয়নি। ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ৪ থেকে ১০টি বেসিক বেতন দিয়ে ২৮ জনকে বিদায় দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে এসে গ্রামীণফোনের বর্তমানে ২৯৬৮ জন কর্মী থেকে অন্তত ৯০০ জনকে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে ছাটাই করে ২ হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠান করার জন্য নতুন একটি পরিকল্পনা হাতে নেয় গ্রামীণফোন। তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে ভালো কোন সাড়া পাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।

নতুন করে কর্মী ছাটাই বিষয়ে গ্রামীণফোন এমপ্লয়ি ইউনিয়নের (জিপিইইউ) সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ বলেন, আপনি কি চিন্তা করে দেখেছেন সব কোম্পানি যদি এভাবে অনেক অনেক কর্মী ছাটাই করে তাহলে জব মার্কেটে কি ধরণের প্রভাব পড়বে? সরকারের এ ব্যাপারে চিন্তা করা উচিৎ। অধিকাংশ কর্মীই এখন মধ্য বয়সে রয়েছেন। তারা কেউ এখন সরকারি চাকরিতেও আবেদন করতে পারবে না। গ্রামীণফোন ২ হাজার কোটি টাকার লাভজনক কোম্পানি। তারা যদি এভাবে কর্মী ছাটাই করে তাহলে বড় বড় প্রতিষ্ঠানও তাদেরকে অনুসরণ করতে শুরু করবে। তখন তাদের ব্যাপারে জব মার্কেট কি বিবেচনা করবে? এখন অভিজ্ঞতার কি মূল্য আছে?

এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশন্স সৈয়দ তালাত কামাল বলেন, ‘গ্রামীণফোন কর্তৃক প্রস্তাবিত স্কিমটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তিনি বলেন, স্বেচ্ছা অবসরের সুবিধাটি গ্রামীণফোনে কর্মরত সকল স্থায়ী কর্মীদের জন্যই চালু করেছি আমরা। তবে এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক স্কিম। গ্রামীণফোনে কর্মীদের মূল্যবান অবদান রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবেই এই সুবিধা চালু করা হয়েছে। তারা চাইলে প্রতিষ্ঠানের বাইরে ক্যারিয়ার শুরুর কথা বিবেচনা করতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলালিংকও কর্মীদের ঠিক একই রকম স্কিম সুবিধা প্রদান করে। বিতর্কিত বাংলালিংক কর্মী ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক থাকায় এক কর্মীকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করার প্রতিবাদের পরপরই এই স্কিম সুবিধা চালু করা হয়। বাংলালিংকের প্রায় ৪৭০ জন কর্মী মার্চ মাসে স্বেচ্ছা অবসর গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদায় নেন। কর্মীদের রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই স্বেচ্ছা অবসর স্কিম সুবিধা চালু করা হয়েছিল বলে বাংলালিংক দাবি করে। কিন্তু বাংলালিংক কর্মীদের দাবি, ব্যবস্থাপনা পর্ষদ জোরপূর্বক তাদের স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বাধ্য করেছে। সেই বিতর্ক এখন কিছুটা থেমে গেলেও এবার নতুন করে কর্মী ছাটাই করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।



« (পূর্বের সংবাদ)