মেইন ম্যেনু

৯৬ বছর বয়সে এমএ ভর্তি!

দীর্ঘ ৭৭ বছরের স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত করতে যাচ্ছেন ৯৬ বছর বয়সী রাজকুমার বৈশ্য। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে অর্থনীতি নিয়ে নালন্দা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ভর্তি হলেন তিনি। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এমন খবর জানা গেছে।

তার মতে, বয়স শুধু এক মানসিক অবস্থা। তাই শতবর্ষের পথে এগিয়ে চলা রাজকুমার নিজেকে নিয়ে আজও পরীক্ষা-নিরিক্ষায় মগ্ন। ১৯৩৮ সালে আগ্রা বিশ্বিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন তিনি।

কিন্তু চাকরির চাপে আর পড়াশোনা করার সময় পাননি। এবার নিজের সেই আক্ষেপ মেটাতে তত্‍পর হয়েছেন। রাজকুমারের কথায়, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ আমার সারাজীবনের ইচ্ছা। পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে যথাসময় তা করতে পারিনি। অর্থনীতি আমাকে বরাবর আকর্ষণ করে। তাই এ বিষয় নিয়েই মাস্টার্স করতে চাই।

১৯২০ সালের ১ এপ্রিল জন্ম তার। বরেলির গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯৩৪ সালে। এরপর ১৯৩৮ সালে আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৯৪০ সালে এলএলবিও পাস করেন। শেষবার কলেজের চৌকাঠ পেরিয়েছিলেন ৭৫ বছর আগে।

বর্তমানে পটনায় ছেলের সঙ্গে বসবাস করেন রাজকুমারবাবু। মঙ্গলবার শুধু তার জন্য নিয়ম ভেঙে বাড়ি এসে ভর্তির ফর্ম পূর্ণ করে গিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তার হাতে স্টাডি মেটিরিয়াল তুলে দেয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের রাজকুমার তার ইংরেজি সংস্করণ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

জীবনে ফেলে আসা দিনগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, রোজগারের তাগিদে বাধ্য হয়ে বিদ্যার্জনে ইতি টেনে কোডারমায় খ্রিস্টান মাইকা ইন্ডাস্ট্রিজে আইন কর্মকর্তার পদে বহাল হতে হয়। ১৯৭৭ সালে সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার পদে নিযুক্ত থাকাকালীন অবসর নিয়ে বরেলিতে ফিরে আসেন।

রাজকুমার বৈশ্যর ৩ ছেলে। কালক্রমে তারাও কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ২০০৩ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর পটনায় এক ছেলের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন তিনি।

কিন্তু সারাজীবনের নানা ওঠাপড়ার মাঝেও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের স্বপ্ন বেঁচে থাকে। ছয় মাস আগে ছেলে ও পুত্রবধূকে ডেকে মনোবাসনার কথা জানান তিনি।

রাজকুমারের কথায়, এমএ ক্লাসে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা শুনে আমার অসুবিধা হতে পারে ভেবে ওরা আশঙ্কা প্রকাশ করে। আমি তখন আশ্বাস দিই যে, সেরকম কিছু ঘটবে না। তাতে ওরা রাজি হয়। ক্লাস শুরুর অপেক্ষায় দিন গুনছেন নবতিপর জ্ঞানান্বেষী।