মেইন ম্যেনু

অগ্রিম ভোটাভুটিতে ৪ রাজ্যে হিলারি এগিয়ে, ৩টিতে ট্রাম্প

সোমবার থেকে অন্যতম ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য ফ্লোরিডার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এখানে চূড়ান্ত নির্বাচনের ২ সপ্তাহ আগে হিলারি এগিয়ে আছেন প্রায় পাঁচ শতাংশ ভোটে। আর এই ফ্লোরিডাসহ ১৫টি ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্যের অন্তত ৯টিতে জরিপে এগিয়ে রাখা হয়েছে হিলারিকে গড়ে ৫ থেকে ১২ শতাংশ ভোটে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ক’দিনে প্রায় ৬ মিলিয়ন বা ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ৩৭টি রাজ্যের ভোট শুরু হবে ৮ নভেম্বর।

যেখানে অঞ্চলে এক পক্ষের প্রভাব বরাবরই বেশি থাকে সে অঞ্চলকে ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য বলা হয়।

এ নিয়ে অগ্রিম ভোটগ্রহণ চলছে মোট ৭টি রাজ্যে। তার মধ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ওহাইয়ো, আইওয়া আর জর্জিয়াতে ভালো ফলাফল করতে পারেন বলে ভোটারদের মতামত। অন্যদিকে হিলারি বৃহৎ রাজ্য ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোলিনা, রিপাবলিকান রাজ্য এ্যারিজোনা আর কলোরাডোতে এগিয়ে আছেন।

ফ্লোরিডা হলো সত্যিকারের নির্বাচনী যুদ্ধক্ষেত্র। কেননা, শুধু এখানেই জয়ী হলে হিলারির হোয়াইট হাউসে যাওয়া নিশ্চিত বলে জানাচ্ছেন গণমাধ্যম জরিপ বিশ্লেষকেরা। এখানে হিলারির পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন ডেমোক্র‍্যাট দলের শীর্ষ নেতা। সেই তালিকায় আছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আর বার্নি স্যান্ডার্স সমর্থকদের প্রিয় নেতা আদিবাসী সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তবে ফ্লোরিডার একটি মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী জরিপের তথ্যগুলোকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, এবিসি নিউজসহ যেসব গণমাধ্যম নির্বাচনী জরিপ দেখাচ্ছে সেগুলো ভুয়া। এগুলো করা হচ্ছে ভোটাররা যেন আগ্রহ হারিয়ে নির্বাচনে না যান। সে কারণে আমি জানি আসল জরিপ কি বলছে, যেখানে আমি হিলারির চেয়ে ২ শতাংশ ভোটে এগিয়ে আছি এবং এই নির্বাচনে আমিই জয়ী হবো। প্রাইমারি নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলিনাতে ট্রাম্প হেরে যাবে বলে যে জরিপ দেখিয়েছিল, সেখানে আমি ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছিলাম। এগুলো সবই কলুষিত গণমাধ্যম প্রচারণার অংশ।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প জরিপ অস্বীকার করলেও তার নির্বাচনী প্রচার প্রধান ক্যলিয়ন কন্ওয়ে স্বীকার করেছেন যে তারা অবশ্যই পিছিয়ে আছেন। কন্ওয়ে ঐতিহাসিকভাবে শীর্ষ রিপাবলিকান পোলেস্টার বা জরিপ বিশ্লেষক এবং একজন নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ার। এমএসএনবিসি’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কন্ওয়ে বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা পিছিয়ে আছি হিলারি প্রচার যন্ত্রের কাছে, তাদের সাংগঠনিক শক্তির কাছে। তবে আমরা লড়াই করছি বাতাসের বিপরীতে, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার বিপরীতে। নির্বাচনের শেষদিন পর্যন্ত আমরা জয়ের আশা ছাড়ছি না।’

এইসব জরিপ ফলাফলে শীর্ষ রিপাবলিকান নেতারা তাদের প্রার্থীতা নিয়ে এখন হতাশ। হিলারির পক্ষে পুরো ডেমক্রেট দলের কেন্দ্রীয় সংগঠন, প্রেসিডেন্ট, ফাস্ট লেডি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিরোধী প্রার্থী বার্নি স্যান্ডার্স আর তারকাদের সঙ্গে রিপাবলিকান শীর্ষ অনেক পরিচিত মুখ কাজ করছেন দিনরাত। সেই হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলা চলে একাই। তার আশপাশে কেউ নেই সেভাবে। এমনকি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস বা আরএনসি বেশ আগে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট চেয়ে যেসব মেইল দিয়েছিল দেশের জনগণকে, সেটা বন্ধ করে রেখেছিল। শীর্ষ কোনো নেতাই ট্রাম্পের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেননি গত প্রায় এক মাস হলো। এসব নিয়েই ট্রাম্প বলেছেন, পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র আমার বিপক্ষে লেগেছে, তাতেই বোঝা যায় এই সিস্টেম ভাঙা কতটা কষ্টকর।

ফ্লোরিডার জনসভায় ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্ষেপ করেই বলেছিলেন, আমেরিকার জনগণ দুর্নীতিপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা আর গণমাধ্যমের প্রচারণায় ত্যক্তবিরক্ত। দেশের গণমাধ্যম সাধারণ মানুষের সমস্যা দেখে না। ইতিহাসে আমার মতো সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে কেউ রাজনীতির মাঠ গরম করে বিজয়ের এত কাছাকাছি পৌঁছেনি। আমি যদি দুর্নীতিগ্রস্ত গণমাধ্যমের পছন্দের তালিকায় থাকার চেষ্টা করতাম, সেটাই আমার জন্য সহজ ছিল। কিন্তু শুধু সাধারণ মানুষের কথা বলার জন্য এই কঠিন পথ বেছে নিয়ে সবার বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে।

ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করছে মানুষ কতটা উদগ্রীব হয়ে ভোট দিতে যাচ্ছেন তার উপর। নেতিবাচক প্রচারণা আর জাতি বিদ্বেষ, বিভেদকে স্পষ্ট করার জন্য যারা আগ্রহী তাদের আগ্রহের চেয়ে এক আমেরিকা, বিভেদ নয় ঐক্যের পক্ষের লোকজনের আগ্রহ যদি কম হয় তাহলে নির্বাচনী ফলাফল সেরকম হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়ে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানিয়েছেন হিলারি ক্লিনটন।

নিউ হ্যাম্পশায়রের নির্বাচনী জনসভায় হিলারি জানান, যত বিভেদ নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ গরম করেছে তার সব উত্তর রয়েছে ব্যালট পেপারে। তাই প্রতিটি ভোটারকে নিজের এবং অন্যকে ভোট দিতে উৎসাহ দিতে অনুরোধ করেছেন হিলারি তার কর্মী সমর্থকদের।

আর উদারপন্থী ডেমোক্রেট দলীয় সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, যিনি বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকদের প্রিয়মুখ, তিনি শক্তভাবে মাঠে নেমেছেন হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায়। নিউ হ্যাম্পশায়রে হিলারির পক্ষে জনসভা করতে গিয়ে ট্রাম্পকে নারী ভোটারদের শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাস্টিওমেনরা বা জঘন্য নারীরা মাঠে নেমেছে। ন্যাস্টিওমেনরা অনেক স্মার্ট এবং তারা মাঠে নেমেছে ট্রাম্পকে চিরতরে তার মুখ বন্ধ করার জন্য। এসময় হিলারি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু প্রেসিডেন্ট পদে যোগ্য নন, বরং তিনি বিপদজনক।

ট্রাম্পকে নিয়ে রিপাবলিকান দলের অস্বস্তি এখন বেশ প্রকাশ্য। শীর্ষ রিপাবলিকান সিনেটররা চান না ট্রাম্প নির্বাচিত হোক অথবা তারা তার জয়ের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন এটা বলা যায়। তবে, প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উত্থানের পেছনে রিপাবলিকান দলীয় শীর্ষ সিনেটরদের দোষ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওবামা।

হিলারির সমর্থনে ফ্লোরিডার নির্বাচনী প্রচারণার সময় সোমবার ওবামা বলেন, শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে বারাক ওবামার পথকে কাঁটা দিয়ে বিছিয়ে রাখতে চেয়েছিল তারা। যতসব আজগুবি বিষয়ে সরকারকে আটকে দিতে চেয়েছিল রিপাবলিকান শীর্ষ সিনেটররা। তাদের সেসব মিথ্যা প্রচারণা আর গল্পগুলোকে জনসম্মুক্ষে নিজের নাম যেচে প্রচার করেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন তাদের গলার কাঁটা। তাই এখনকার রিপাবলিকানদের অস্বস্তির জন্য তারা নিজেরা দায়ী বলে জানান প্রেসিডেন্ট।