মেইন ম্যেনু

অবশেষে মাশরাফির সঙ্গে বিরোধ নিয়ে মুখ খুললেন নাফিসা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চতুর্থ আসর বাজে ভাবে কাটছে মাশরফি নেতৃত্বাধীন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। এ পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে তারা।

সর্বশেষ সোমবার রাতে ভালো খেলেও তামিম ইকবালের চট্টগ্রাম ভাইকিংসের কাছে হেরে গেছে কুমিল্লা। এ অবস্থায় ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখাটা আর সম্ভব নয়।

আর এই বাস্তবতা মানেন ফ্রাঞ্চাইজির কর্ণধার নাফিসা কামাল নিজেও। এজন্যই হয়তো দলের বর্তমান অবস্থা, অধিনায়কের সঙ্গে ফ্রাঞ্চাইজির বিরোধ নিয়ে সোমবার নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন তিনি।

ফেসবুকে নাফিসা কামাল লেখেন, ‘আপনি যখন সবার ওপরে থাকবেন, সবকিছু খুব সহজ মনে হবে। ভক্ত, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষিদের তখন চারপাশে পাবেন। কিন্তু যখন হারতে শুরু করবেন, তখনই বুঝতে পারবেন, বাস্তবতা কাকে বলে।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমি অন্তত এটা বলতে পারি, এই একটানা পরাজয়ের পরও যে কোনো সময়ের চেয়ে আমার এখন বন্ধু, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষি বেশি। এতো ভালোবাসা আর সম্মান আমাকে মুগ্ধ করে এবং বিস্মিত করে।’

নাফিসা কামাল বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে শনিবার আমরা একটা জয় পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা বুঝি বিশ্বকাপ জিতে ফেলেছি। গত দু’দিন আমি প্রতিটা মুহূর্তে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে শুভেচ্ছা পেয়েছি। টং দোকানের চাওয়ালা থেকে শুরু করে মন্ত্রী মহোদয়, আমাকে সবাই অভিনন্দন জানিয়েছেন।’

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে এই ভালোবাসা দেখানোর জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান নাফিসা কামাল। বলেন, ‘এই ভালোবাসাই আমাদের কষ্টকে সার্থক করে।’

অধিনায়কের সঙ্গে বিরোধ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সুযোগে একটু বলি, কিছু লোক আমার এবং আমাদের অধিনায়ককে নিয়ে কিছু নেতিবাচক খবর প্রচার করেছেন। আমি জানি আপনারা কারা। আমি আপনাদের এই কাজ মনেও রাখব না, যদি আপনারা সত্যিই মনে করেন যে, নিতান্ত হতাশা থেকে এই কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘দেখুন, এটা দল যখনই খারাপ করে, আপনারা ম্যানেজমেন্ট অথবা খেলোয়াড়দের দোষ দেন। কিন্তু একবার কেউ অনুভব করেন না, দলের মালিক বা অধিনায়ক যে কারও চেয়ে এই খারাপ ফলাফলে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন!’

এরপরই আশাবাদী নাফিসা বলেন, ‘যাই হোক, আপনাদের এই নেতিবাচক প্রচারণা আমাদের দলের সকলকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে, আমরা আরও শক্ত হয়ে উঠেছি। ফলে সমালোচকদেরও ধন্যবাদ।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটা ব্যাপার জানানো উচিত। আমি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিদেশী খেলোয়াড় রিক্রুটের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। এরপর আমি অধিনায়ক, কোচ ও ম্যানেজার নির্বাচন করেছি। আমার কাজ এইটুকুতেই শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে ড্রাফটে (খেলোয়াড় নিলাম) সকল স্থানীয় খেলোয়াড় নির্বাচন থেকে শুরু করে দলের সকল নীতিগত সিদ্ধান্ত এই তিনজনই (অধিনায়ক, কোচ ও ম্যানেজার) নিয়েছেন। আমি কোনো একটা ন্যূনতম সিদ্ধান্তও দেইনি। শুরু থেকে আমার ওনাদের প্রতিটা সিদ্ধান্তে পূর্ণ আস্থা ছিল, এখনও পূর্ণ আস্থা আছে। তারা সেরা দল করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘গতবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দল নিয়ে আমি যেমন গর্বিত ছিলাম, এবারের দল নিয়েও আমি একই রকম গর্বিত। আমরা যে নিয়মিত জিততে পারছি না, সেটা স্রেফ একটা দূর্ভাগ্য। আমরা গতবার ভাগ্যবান ছিলাম, তাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এবার ভাগ্য পক্ষে নেই বলে কিছু ম্যাচ হারছি।’

নাফিসা কামাল আরও বলেন, ‘তবে সবকিছুরই ‘নেক্সট টাইম’ আছে। আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমরা অবশ্যই আরও শক্তিশালী হয়ে, আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব, ইনশাল্লাহ।’