মেইন ম্যেনু

অভিবাসী বিতাড়নে বেকায়দায় পড়বেন ট্রাম্প!

saheed-vai

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার নাম স্যানচুয়ারি সিটি। স্যানচুয়ারি শব্দের বাংলা অর্থ অভয়ারণ্য। ধারণা করা হয় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যে ১১ মিলিয়ন অবৈধ বা কাগজপত্রবিহীন নাগরিক আছেন তাদের সিংহভাগের বসবাস এখানকার ২৩টি স্যানচুয়ারি সিটিতে। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলস, বাল্টিমোর, শিকাগোসহ সব বড় শহরগুলো তার অর্থনৈতিক কর্মচাঞ্চল্য ধরে রাখার জন্য অভিবাসীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করেন। এ কারণে অভিবাসীরা শহরের নিরাপত্তা জালের মধ্যেই বসবাস করেন। তাই শহরের কর্তারা চাইছেন অভিবাসীরা থাকুক। এ প্রেক্ষাপটে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটা বেকায়দায় পড়বেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পেছনে বড় কারণ তিনি অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করছে, মানুষ মারছে প্রভৃতি কথাবার্তা বলে, যেসব শহর এসব অবৈধ অভিবাসীর সুযোগ সুবিধা দেয় সেসব শহরের রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বাতিলের ঘোষণাও দেন নির্বাচনের আগে। নির্বাচনের আগে পেনসিলভেনিয়ার পিটারসবার্গে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চার নম্বর ধায়ায় তিনি উল্লেখ করেছিলেন, স্যানচুয়ারি সিটির বাজেট ব্লক করে দেওয়া হবে। ‘আমি নির্বাচিত হলে স্যানচুয়ারি সিটির বাজেট ব্লক করে দেওয়া হবে। এই শহরগুলো ঋণের দায়ে জর্জরিত। এরা অবৈধ অভিবাসীদের জায়গা দেবে আর সরকারি পয়সা খরচ করবে সেটা হতে দেওয়া হবে না বন্ধুরা’- স্পষ্ট বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এসময় অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের লেখাপড়া আর তারা যেন আইনের মধ্যে থেকে সরকারি ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারে সে কারণে প্রেসিডেন্ট ওবামার যেসব নির্বাহী আদেশ ছিল সেগুলোকে দায়িত্বগ্রহণের পরপরই বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এই আকাশচুম্বী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন তখনও তিনি জানতেন না তার আয়ত্বের মধ্যেই থাকবে আইনসভা আর কংগ্রেস। এখন কংগ্রেস আর সিনেটেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে রিপাবলিকানদের। তাই চাইলে ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সংক্রান্ত বিল তারা নিতে পারেন এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারেন।

এ নিয়ে একদিকে স্যানচুয়ারি সিটির অভিবাসীদের মধ্যে ভীতি আর শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে অন্যদিকে অভিবাসী ছাড়া শহরের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ার হুমকির মধ্যে আছে। তবে এটা স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন যতই শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে, ততই স্যানচুয়ারি সিটির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছেন ফেডারেল সরকারের নির্দেশ অমান্য করার জন্য।

শিকাগো শহরের মেয়র গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলন করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন কিংবা কি তার অভিবাসন নীতি সেটা শিকাগো শহর প্রশাসন মেনে চলবে না, শিকাগো সব সময়ের মতোই একটি অভয়ারণ্য শহর বা স্যানচুয়ারি সিটি হিসেবেই থাকবে।

‘নির্বাচনের পর যেসব মানুষ ভীতি আর শঙ্কার মধ্যে তাদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবছেন বা বিচলিত তাদের জন্য বলছি, শিকাগো আপনার শহর, আপনার ইমিগ্রেশন বৈধতা আছে কি নেই সেটা বিবেচনা করে আপনার দিন চালাতে হবে না এখানে। আপনি সমান নাগরিক সুবিধা পাবেন। ফেডারেল সরকারের নিয়ম এখানে প্রযোজ্য হবে না’- ৫ দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন রালফ ইমানুয়েল।

লস এঞ্জেলস শহরের মেয়র এরিক গারসিটি এরই মধ্যে বলেছেন, ‘অভিবাসীদের বিতাড়ন করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সিটি প্রশাসন ফেডারেল সরকারের যে কোনো উপদেশ ছুঁড়ে ফেলে দেবে।’

‘দেখুন যদি কোনো অপরাধীকে ধরিয়ে দেবার প্রয়োজন পড়ে অবশ্যই সরকারকে সহযোগিতা করবে পুলিশ বাহিনী। তবে নগর পুলিশ অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে খুঁজে বের করে বর্ডার পেট্রোল বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার দায়িত্ব যদি ফেডারেল সরকার দেয়, সেটা নগরের পুলিশ করবে না। এই শহরের ৬৩ ভাগ ব্যবসা বাণিজ্য অভিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে। তাদের কারণেই এই শহর আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে মন্দার পর। এখন তাদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে আপনি উন্নয়ন করবেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন, সেটা হাস্যকর’- সিএনএন’কে বলেছিলেন মেয়র এরিক গারসিটি।

ট্রাম্পের ফেডারেল সরকারের অভিবাসী বিতাড়ন নীতি সমর্থন করে তাদের আদেশ নিষেধ মানবে না শিকাগো, নিউইয়র্ক বা লস এঞ্জেলস। তাহলে এসব শহর পরিচালনার খরচ কি দেবে না সরকার? এই প্রশ্ন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে মনোনয়ন পাওয়া সিনিয়র রাজনীতিক আরএনসি চেয়ারম্যান র‌্যান্স পিয়ারিবাস এর কাছে। পিয়ারিবাস বলেন, ‘আপনি ফেডারেল সরকারের উপদেশ না মানলে আপনাকে নগর পরিচালনায় অর্থ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কীভাবে?’

‘এটা শুনতেও কেমন লাগে যে আপনি সরকারের নির্দেশ মানবেন না অথচ আপনি সরকারের টাকা চান। এটা বেশ জটিল ইস্যু, আমরা সবাই মিলে শহরগুলোর সঙ্গে এ নিয়ে পরামর্শ করব’- সিএনএন এর সঙ্গে বলেছিলেন চিফ অফ স্টাফ র‌্যান্স পিয়ারিবাস।

এসব আলোচনায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসী বিতাড়ন পরিকল্পনা সহসাই যে আলোর মুখ দেখবে এটা বলা মুশকিল। আবার সেটা না করতে পারলে যদি ফেডারেল সরকার নগর পরিচালনার তহবিল কেড়ে নেয় তাহলে বিবর্ণ হতে থাকবে বড় বড় শহরগুলোর চেহারা। সামনের দিনগুলোতে তাই এই টানা হেঁচড়া আর অভিবাসন কেন্দ্রিক বাকবিতণ্ডা আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।