মেইন ম্যেনু

অভিষিক্ত মিরাজে প্রথম দিনটি বাংলাদেশের

miraz_320161020174656

ইশ! ১ রানে থাকা মঈন আলীর উইকেটের জন্য যদি রিভিউয়ের সাহস করতেন মুশফিকুর রহিম তাহলে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনটি পুরোপুরি বাংলাদেশের হতে পারত।

গ্যারি ব্যালেন্সকে মাত্রই সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে বাংলাদেশ মঈন আলী উপর চাপ তৈরি করে। দেশের ৮০তম টেস্ট ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ তখন ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

একের পর এক বল বিট করে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের জন্য ২২ গজের ক্রিজ মৃত্যফাঁদ বানিয়ে ফেলে। সেই ফাঁদেই ১ রানে আটকে যেত মঈন। আউটসাইড ক্রিজ থেকে বল করে লেগ সাইড থেকে অফস্ট্যাম্পে টার্ন করিয়ে বল মঈন আলীর প্যাডে আঘাত করান মিরাজ। সঙ্গে সঙ্গে জোরালো আবেদন, পিছন থেকে মুশফিক, সাব্বির ও ইমরুলের উইকেটের জন্য আর্তনাদ। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের আম্পায়ার ক্রিস গ্রাফেনির মন গলল না! আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের চ্যালেঞ্জের সুযোগ ছিল মুশফিকের।

কিন্তু সাহস দেখালেন না! কারণ এক ওভার আগেই যে রিভিউ নিয়ে গ্যারি ব্যালেন্সকে সাজঘরে ফেরত পাঠান মুশফিক, মিরাজ। এ জন্যই হয়তো রিভিউয়ের আবেদন করেনি টিম বাংলাদেশ। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে স্ট্যম্পের উপর পড়া বল আঘাত করত মিডল এন্ড অফস্ট্যাম্পের মাঝে! জীবন পাওয়া মঈন আলী শেষ পর্যন্ত থামেন ৬৮ রানে। সকালে সেশনে না হলেও শেষ সেশনে ঠিকই মঈনকে সাজঘরে ফেরত পাঠান মিরাজ। শুধু মিরাজের বলেই না ৬৮ রানের ইনিংসে পাঁচ রিভিউ আবেদনে বেঁচেছেন মঈন আলী। এর মধ্যে সাকিবের ছয় বলের ব্যবধানে আম্পায়ার ধর্মাসেনা তিনবার আউট দিয়েছিলেন। রিভিউ নিয়ে তিনবারই বেঁচে যান বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। আর তাইজুল ও মিরাজের বলে রিভিউ আবেদন চেয়েও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।

শেষ পর্যন্ত রিভিউ নাটকের দিনে ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছে। ক্রিস ওয়াকস ৩৬ ও আদিল রশিদ ৫ রানে অপরাজিত আছেন।

বাংলাদেশ আক্ষেপ করতে পারে ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান করা জনি বেয়াটস্টোর উইকেট নিয়ে। তাইজুলের বলে স্লিপে সাব্বির রহমান জনি বেয়াটস্টোর ক্যাচ না ফেললে ইংল্যান্ডের রান হয়তো দুই’শও হত না! সে সময় উইকেটরক্ষক এ ব্যাটসম্যানের রান ছিল ১৩।

চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিনের সবচেয়ে বড় নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৮ বছর ৩৬১ দিন বয়সি মিরাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের প্রথম দিনই বুঝিয়ে দিয়েছেন ফুরিয়ে যেতে তিনি আসেননি। খুলনার এ যুবা দিনের শুরু থেকেই আগ্রাসী। নিজের চতুর্থ ওভারে বাংলাদেশকে এনে দেন প্রথম সাফল্য। অ্যালিস্টার কুকের নবম টেস্ট পার্টনার অভিষিক্ত বেন ডাকেট (১৪) মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড। পরের ওভারেই গ্যারি ব্যালেন্সের উইকেট। মিরাজের তৃতীয় শিকার ইংলিশদের সেরা ব্যাটসম্যান জো রুট। ৪০ রান করা রুট মিরাজের বলে উইকেটের পিছনে ক্যাচ দেন। মুশফিকের হাঁটুতে লেগে উঠে যাওয়া বল স্লিপে লুফে নেন সাব্বির।

এরপর পড়ন্ত বিকেলে মিরাজের শেষ দুই শিকার দুই সর্বোচ্চ সংগ্রাহক মঈন আলী ও জনি বেয়ারস্টো। বেয়ারস্টোর উইকেট নিয়ে সপ্তম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি দেখালেন মিরাজ। এর আগে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন নাঈমুর রহমান দূর্জয়, মনজুরুল ইসলাম রানা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইলিয়াস সানী, সোহাগ গাজী ও তাইজুল ইসলাম অভিষেক টেস্টে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।

মিরাজের সঙ্গে বল হাতে দূত্যি ছড়িয়েছেন সাকিব আল হাসান। সফরকারীদের দুই বড় তারকা অ্যালিস্টার কুক (৪) ও বেন স্টোকসের (১৮) উইকেট নেন বাঁহাতি এ স্পিনার। ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট খেলার রেকর্ডের দিনে কুকের ব্যাট হাসেনি। হেসেছেন অভিষিক্ত মিরাজ। হাসিয়েছেন বাংলাদেশকে। দিন শেষে মিরাজের বোলিং ফিগার ৩৩-৬-৬৪-৫। চোখ জুড়ানো বটে।