মেইন ম্যেনু

অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে করা রিট শুনানিতে বিব্রত হাইকোর্ট

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের পদ নিয়ে করা রিটের শুনানিতে বিব্রত বোধ করেছেন হাইকোর্ট। রোববার রিট আবেদনটি শুনানির জন্য হাইকোর্ট এলে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের একজন বিচারপতি শুনানিতে বিব্রত বোধ করেন।

রিটের আবেদন এখন নিয়ম অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি যে বেঞ্চ ঠিক করে দেবেন সেখানে এর শুনানি হবে। রিটকারী আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ এসব জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নিয়ে এই রিট আবেদন করেন তিনি। রিটে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বিবাদী করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিটে বলা হয়, সংবিধানের ৬৪(১)/৯৬(১) অনুযায়ী ৬৭ বছর পরে আর এই পদে থাকার নিয়ম নেই। রিটে আরো বলা হয়, আইন লঙ্ঘন করে প্রায় আট বছর অবিরামভাবে এই পদে বহাল আছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল।

রিটে ৬৭ বছর অতিক্রম করার পরও মাহবুবে আলম কোন কর্তৃত্ববলে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে বহাল রয়েছেন তার নির্দেশনা জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিটে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ বিষয়ে সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রিমকোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোনো ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হবেন।

সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে কোনো বিচারক ৬৭ বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।’

রিটে বলা হয়, লিগ্যাল রিমেমব্রান্সের ম্যানুয়াল-১৯৬০ এর ক্লজ-২, চ্যাপ্টার ১ অনুযায়ী অ্যাটর্নিদের পদ ২ বছরের জন্য, কিন্তু ২ বছর পূর্বেও ৩ মাসের নোটিশ দিয়ে রাষ্ট্রপতি অপসারণ করতে পারেন। কিন্তু ওই আইন লঙ্ঘন করেও প্রায় ৮ বছর অরিবারমভাবে এ পদে বহাল আছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল পদটি সাংবিধানিক উল্লেখ করে রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধান মেলে চলা সকলেরই দায়িত্ব ও কর্তৃব্য। সাংবিধানিক অন্য সকল পদেই নির্ধারিত সময় পরে আর কেহ থাকতে পারেন না।

জানা গেছে, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।

আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে থাকা নিয়ে গত ২১ মার্চ মাহবুবে আলমকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়াছিলাম। কিন্তু এই লিগ্যাল নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় এই রিট দায়ের করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ এবং বয়স নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে রিটে।