মেইন ম্যেনু

আজ সবচেয়ে কাছাকাছি পূর্ণিমার চাঁদ

super-moon_30685_1479118047-1

চাঁদ আর পৃথিবী খুব কাছাকাছি আসবে আজ। এমন মাহেন্দ্রযোগ সহজে মেলে না!

আজ, সোমবার পূর্ণিমার রাতে অনেকটাই কাছাকাছি আসছে চাঁদ ও পৃথিবী। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়

পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, চাঁদ আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় (৫টা ২২ মিনিটে) অনুসূর বিন্দুতে প্রবেশ করছে। আজ সূর্যাস্ত ৫টা ১৩ মিনিটে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা পজিশনাল অ্যাস্ট্রোনমি সেন্টারের অধিকর্তা সঞ্জীব সেন জানান, সোমবার পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কমে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫১১ কিলোমিটার তো হচ্ছেই। সেই সঙ্গে লগ্নটা পূর্ণিমা।

এর আগে ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি পূর্ণিমার রাতে এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন পৃথিবী ও চাঁদের দূরত্ব ছিল তিন লাখ ৫৬ হাজার ৪৬২ কিলোমিটার।

২০৩৪ সালের ২৫ নভেম্বর পূর্ণিমায় আবারও চাঁদ ও পৃথিবী এত কাছাকাছি আসবে। সেদিন দূরত্ব কমে হবে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৪৪৭ কিলোমিটার।

সৌর পরিবারের গ্রহ পৃথিবী আর পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদের গড় দূরত্ব তিন লক্ষ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। আজ সেটা ২৭ হাজার ৮৮৯ কিলোমিটার কমে হবে তিন লাখ ৫৬ হাজার ৫১১ কিমি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসেব অনুযায়ী, পৃথিবী ও চাঁদকে পূর্ণিমায় এত কাছে শেষ দেখা গিয়েছিল প্রায় ৬৯ বছর আগে। সেবার উভয়ের মধ্যে অবশ্য আরও একটু বেশি দূরত্ব কমেছিল— ২৭ হাজার ৯৩৮ কিলোমিটার। ফের দু’জনকে এত কাছাকাছি দেখতে হলে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে এই গ্রহের বাসিন্দাদের।

উভয়ের মধ্যে দূরত্ব কমে কীভাবে: আদিকাল থেকে সারা বিশ্বের কবি-শিল্পীদের চোখে চাঁদ আর পৃথিবীর সম্পর্ক রোমান্সে ভরা। এ রোমান্স চিরবিরহের বলেই চিরজীবী। চিরবিরহ, কেননা কখনওই তাদের মিলন হয় না, হওয়ারও নয়। তাই উভয়ের কাছাকাছি আসাটুকুই প্রাপ্তি। দীর্ঘ ব্যবধানে একটু বেশি কাছে আসাটা বাড়তি পাওয়ায় পৃথিবীবাসীর।

প্রশ্ন আসে,উভয়ের মধ্যে দূরত্ব কমে কীভাবে? কে-ই বা কার কাছে আসে?

বিজ্ঞানের বিশ্লেষণ, সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে। আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে উপবৃত্তাকার (অনেকটা ডিমের মতো) কক্ষপথে পাক খায় চাঁদ। পৃথিবীকে একবার পাক খেতে তার সময় লাগে সাড়ে সাতাশ দিন। এই সাড়ে সাতাশ দিনের মধ্যে চাঁদ একবার পৃথিবীর কাছে চলে আসে এবং এক বার পৃথিবীর থেকে দূরে চলে যায়।

দূরত্বটা যখন সব থেকে কমে যায়, সেটাকে বলে ‘অনুসূর’ অবস্থান এবং তারা যখন একে অপরের থেকে সর্বাধিক দূরত্বে থাকে, সেই অবস্থানের নাম ‘অপসূর’। চাঁদই কাছে আসে পৃথিবীর। কিন্তু সেই কাছে আসাটা যে কখনওই মিলনের পূর্ণতা পায় না, তার কারণ উভয়ের কক্ষপথ পৃথক।

যথাসম্ভব কাছে আসার ক্ষেত্রেও দূরত্বের হেরফের হয়।

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ, প্রতিটি অনুসূর অবস্থানে দূরত্ব সমান হয় না। বেশিরভাগ সময়েই চাঁদ ও পৃথিবীর দূরত্ব তিন লাখ ৫৭ হাজার কিলোমিটার বা তার বেশি হয়। এই অবস্থানে সব সময় পূর্ণিমাও মেলে না। এই সব দিক থেকেই আজকের পূর্ণিমা গুরুত্বপূর্ণ।

সুপারমুন: ‘সুপারমুন’ বলে একটি বিষয় নিয়ে চর্চা চলে নেট-দুনিয়ায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘সুপারমুন’ বলে কিছু নেই। তবে নেট-জগতে বা সোশ্যাল মিডিয়ার চর্চা থেকে তারা দেখেছেন, পূর্ণিমা এবং চাঁদের অনুসূর অবস্থান— এই দু’টি মিলে গেলেই সাধারণত ‘সুপারমুন’ বলে প্রচার শুরু হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে, সোমবার সুপারমুনের ফলে চাঁদ নাকি অনেক বড় দেখাবে। ঔজ্জ্বল্যও বেড়ে যাবে অনেকটা। আর চাঁদের চারপাশে দেখা যাবে মায়াবী বলয়!

এক জ্যোতির্বিজ্ঞান-গবেষক জানান, চাঁদ ও পৃথিবী কাছাকাছি আসবে ঠিকই। তার ফলে চাঁদকে কিছুটা বড় দেখাতে পারে। ঔজ্জ্বল্যও বাড়া উচিত। কিন্তু সেগুলো খালি চোখে ধরা পড়ে না। মায়াবী বলয়েরও কোনও বাস্তবভিত্তি নেই। অনেক সময় বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তরে বরফকণা তৈরি হলে তার মধ্য দিয়ে চাঁদের আলো প্রতিসৃত হওয়ায় ছটা দেখা যায়। কিন্তু তার সঙ্গে অনুসূর অবস্থান বা সুপারমুনের কোনও সম্পর্ক নেই।