মেইন ম্যেনু

আদালতের গোপন তথ্য ফাঁস, বিচারক ক্ষুব্ধ!

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতের গোপন তথ্য ফাঁসের ঘটনায় আদালতের সাধারণ নিবন্ধন বিভাগের ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন এক বিচারক।

ঢাকার মহানগর হাকিম মেহের নিগার সূচনার আদালতে সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

আদালতের পেশকার মো. ইমরান হোসেন জানান, সোমবার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় নারী ও শিশু অপহরণের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছিল।

এ মামলায় ভিকটিম গত ৪ নভেম্বর আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেন। আসামির আইনজীবী জামিন শুনানির সময় ২২ ধারার সমস্ত তথ্য আদালতকে জানান।

মো. ইমরান হোসেন জানান, আদালতকে এমন তথ্য জানানোর পর বিচারক আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ‘আপনি কীভাবে তা জানেন?’ তখন আইনজীবী বলেন, ‘২২ ধারায় লিখিত কাগজ আমার কাছে আছে।’

তখন বিচারক সে কাগজ আইনজীবীর কাছ থেকে নিয়ে জব্দ করেন এবং আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জামাল উদ্দিনের কাছে জানতে চান, ‘কীভাবে এ জবানবন্দি আইনজীবীর কাছে গেলো?’

জবাবে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে বিচারককে জানান। তখন বিচারক ক্ষিপ্ত হয়ে বিষয়টি সিএমএম শেখ হাফিজুরর রহমানককে জানাবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আইনজীবী কীভাবে এ কাগজ পেলেন আমি তা জানি না।’

ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার আনিসুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি বিচারকের কাছে কাছে, তাই তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

ঢাকা বারের আইনজীবী মুনজুর আলম জানান, ভিকটিমের জবানবন্দি শুধু বিচারক ও আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তার দেখার এখতিয়ার রয়েছে। বাইরের কেউ তা দেখার ক্ষমতা রাখেন না এবং বাইরের কেউ দেখলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভিকটিমের বয়স ১৫ বছর। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। বাসা থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় আসামি মাসুদ ভিকটিমকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা মতিঝিল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪৬(১০)১৬।