মেইন ম্যেনু

আপনার শরীরে কী এমন লালচে তিল আছে? তাহলে আজ থেকেই সাবধান…

image-3

অনেকের শরীরেই বিভিন্ন অংশে তিল বা আঁচিল দেখা যায়। সাধারণভাবে তিল বা আঁচিল কালো রং-এর হয়ে থাকে। কিন্তু অনেক সময়ে লাল রং-এর তিলও দেখা দেয় শরীরে। এই ধরনের তিল অনেকের চিন্তারও কারণ হয়ে থাকে। কিন্তু সত্যিই কি চিন্তার কিছু রয়েছে এই ধরনের লালচে তিল নিয়ে? কেনই বা শরীরে দেখা দেয় এই জাতীয় তিল? এই বিষয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে ‘বি হেলদি’ নামের আন্তর্জাতিক জার্নালে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক প্রয়োজনীয় তথ্যগুলি।

জানানো হচ্ছে, সাধারণভাবে শরীরের যেসব অংশে চামড়ার ঠিক নীচেই থাকে শিরা (যেমন ঘাড়, গলা, পিঠ কিংবা বুক), সেখানেই এই ধরনের লালচে আঁচিল তৈরি হয়। চলতি কথায় এই জাতীয় আঁচিলকে রুবি পয়েন্ট বলা হলেও ডাক্তারি পরিভাষায় এর নাম ক্যাম্পবেল দে মরগ্যান স্পট। সাধারণত ত্বকের নীচেই অবস্থিত কোনও শিরার স্ফীতি ঘটলে ত্বকের উপরে এই রকম আঁচিল তৈরি হয়। তিরিশোর্ধ্ব বয়সে যখন রক্তবাহী শিরা বা ধমনী পাতলা হতে থাকে, তখনই এই ধরনের আঁচিল তৈরির সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। অবশ্য তার অর্থ এই ‌নয় যে, এই রকম আঁচিল অল্প বয়সিদের শরীরে দেখা দেবে না। সমস্ত বয়সেই শরীরে তৈরি হতে পারে রুবি পয়েন্ট। কিন্তু এই জাতীয় আঁচিল কি শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনও অশনি সংকেত দেয়?

সাধারণভাবে লাল রং-এর আঁচিলগুলি হয় বিনাইন বা নির্বিষ টিউমার। অর্থাৎ এগুলি ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে পরিগণিত হয় না। কিন্তু সময়বিশেষে লাল আঁচিল ত্বকের ক্যানসারের আভাস দিতেই পারে। বলা হচ্ছে, যদি—
আঁচিলটি আচমকা আকারে বাড়তে থাকে, কিংবা তা থেকে রক্তপাত হয়, কিংবা আঁচিলে ব্যথা বা চুলকানি

অনুভব করেন,
যদি আঁচিলের দুই দিকে দু’রকম রং (একদিকে লাল, অন্যদিকে কালো বা অন্য কোনও রং) দেখা দেয়,

যদি আঁচিলের চার পাশে কোনও বর্ডারের মতো দেখা যায়, কিংবা

যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঁচিলের রং কালচে হয়ে যেতে থাকে

তাহলে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। কারণ এসব ক্ষেত্রে আঁচিলটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।

কীভাবে দূর করা যায় এই জাতীয় আঁচিল? সাধারণভাবে ডাক্তারি পদক্ষেপই নিতে হয় আঁচিলের হাত থেকে মুক্তি পেতে। সার্জারি, লেজার ট্রিটমেন্ট বা ক্রায়ো থেরাপির মতো চিকিৎসার মাধ্যমে দূর করা যায় আঁচিল। কিন্তু এই জাতীয় চিকিৎসা ব্যয়বহুল। কাজেই প্রাসঙ্গিক জার্নালটিতে দেওয়া হয়েছে আঁচিলের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া কৌশলের হদিশও। জানানো হচ্ছে, আঁচিলের হাত থেকে মুক্তি পেতে—

১. এক টুকরো তুলো ক্যাস্টর অয়েলে ভিজিয়ে লিউকোপ্লাস্ট দিয়ে লাগিয়ে দিন আঁচিলের উপরে। রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে এমনটা করুন। পরদিন ঘুম থেকে উঠে তুলোটা ফেলে দিয়ে সাদা জলে জায়গাটি ধুয়ে শুকনো কাপড়ে মুছে নিন। পর পর ৭ দিন এমনটা করলেই আঁচিলটি অনেকটা ছোট হয়ে আসবে। এবং আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাবে।

২. ক্যাস্টর অয়েলে ভেজানো তুলোর পরিবর্তে ওই একই কৌশলে আঁচিলের উপরে টেপ দিয়ে বেঁধে দিতে পারেন এক কোয়া রসুনও। সকালে উঠে রসুন ফেলে দিয়ে জায়গাটি ধুয়ে নিন। হপ্তা দু’য়েকের মধ্যেই উপকার পাবেন। তবে যদি হিতে বিপরীত হয়, অর্থাৎ ক্যাস্টর অয়েল বা রসুনের যদি কোনও অবাঞ্ছিত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় চামড়ায়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।