মেইন ম্যেনু

আপনার শরীর এই ৭টি আশ্চর্য কাজও করতে পারে? যা আপনি নিজেও জানেন না

image

যে শরীর আমরা জন্মসূত্রে প্রাপ্ত হয়েছি, তার রহস্য কিন্তু অপার। সেই রহস্যের অনেকটাই আমাদের অজানা। আমরা সাধারণভাবে জানিই না, আমাদের শরীর ঠিক কোন কোন কাজে সক্ষম। জানার পরে অবাক হতে হয়। এখানে রইল স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত এমন ৭টি শারীরিক কাজের কথা, যেগুলি আমাদের অধিকাংশের কাছেই অজানা।

আপনার চোখের তারা জানিয়ে দিতে পারে আপনার শরীরের তাপমাত্রা: আমরা যখন খুব শীত বোধ করি তখন শরীরে কাঁপুনি দেখা দেয়। এই কাঁপুনির মাধ্যমে শরীর নিজের উত্তাপ বাড়িয়ে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। যখন শরীরের তাপমাত্রা আরও কমে যায়, তখন সবার আগে প্রভাবিত হয় আমাদের চোখ। চোখের ভিতরকার শিরা-উপশিরাগুলি তখন সংকুচিত হয়ে শরীরের এনার্জি সাশ্রয়ের আপ্রাণ চেষ্টা করে।

চোখের এই আভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টার ফলে আপনি সাময়িকভাবে অন্ধও হয়ে যেতে পারেন। যেমনটা ঘটেছিল সুপারমডেল কেট আপটনের সঙ্গে। স্পোর্টস ইলাসট্রেটেডের সুইমস্যুট ইস্যুর জন্য মডেলিং করছিলেন কেট। ফোটোশ্যুট হচ্ছিল আন্টার্কটিকায়। বরফে আচ্ছাদিত আন্টার্কটিকার তাপমাত্রা তখন মাইনাস ২০ ডিগ্রি। সেই অবস্থায় বিকিনি পরিহিতা কেটের শরীরের তাপমাত্রা এত কমে যায় যে তিনি সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি হারান।

আপনি চাইলে অসাধারণ শ্রবণশক্তির অধিকারী হতে পারেন: জানেন কি, আমাদের শরীরের কান দু’টি আলাদা আলাদা রকমের শব্দ শোনার কাজে ব্যবহৃত হয়, এবং ঠিক শব্দের জন্য ঠিক কানকে কাজে লাগালে আমাদের শ্রবণশক্তির অনেকটাই উন্নতি হতে পারে? যখন কোনও ভীড়ের মধ্যে দাড়িয়ে কোনও বন্ধুর কথা শুনছেন তখন আপনার বাঁ কানটি বন্ধুর দিকে রাখুন, এতে তাঁর কথা অনেক স্পষ্টভাবে শুনতে পাবেন।

আবার যে কোনও সক্রিয় চলমান শব্দ (যেমন রেডিও বা টিভির আওয়াজ ইত্যাদি) ভাল করে শুনতে চাইলে ডান কানটি রাখুন শব্দের উৎসের দিকে। ইউনিভার্সিটি মেডিকাল স্কুল অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দু’টি কানের সংযোগ মস্তিস্কের দুটি আলাদা হেমিস্ফিয়ারের সঙ্গে থাকে। ফলে দু’টি কানের কাজও আলাদা। ঠিক শব্দের জন্য ঠিক কানকে কাজে লাগালেই অনেকটা উন্নতি হতে পারে আমাদের শ্রবণক্ষমতার।

কোনও ওষুধ ছাড়াই মুক্তি পেতে পারেন অম্বল বা বুকজ্বালার সমস্যা থেকে: রাত্রে তেল মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যদি ঘুমোতে শোওয়া হয়, তাহলে অনেক সময়েই দেখা যায়, মাঝরাতে গলা বুকজ্বালা কিংবা অম্বলের সমস্যায় ঘুম ভেঙে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোনও অ্যান্টাসিডের শরণ নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। শুধু শোওয়ার সময়ে বাঁ পাশ ফিরে শুলেই চলবে।

আসলে আমাদের শরীরের ভিতরে অন্ননালী এবং পাকস্থলী এমনই একটি বিশেষ কৌণিক বিন্দুতে অবস্থান করে যে, ডান পাশ ফিরে শুলে পাকস্থলীটি থাকে অন্ননালীর থেকে উপরে। ফলে পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড চলে আসে গলায়। সেই সময়েই গলা বুকজ্বালার সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাঁ পাশ ফিরে শুলে পাকস্থলী অন্ননালীর চেয়ে নীচে অবস্থান করে। ফলে মাধ্যাকর্ষণের নিয়মে অ্যাসিড আর গলার দিকে যেতে পারে না। মুক্তি মেলে অম্বলের সমস্যা থেকেও।

আপনি সাপের মতোই ত্যাগ করতে পারেন আপনার চামড়া: শীতকালে অনেকেই গোড়ালি ফাটার সমস্যায় ভোগেন। গোড়ালির ত্বক শুষ্ক হয়ে গিয়ে অনেক সময়ে ঘা-ও দেখা দেয় গোড়ালিতে। এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় হল, গোড়ালির পুরনো চামড়াটিকে পরিত্যাগ করা।

শুনতে আজগুবি মনে হলেও, বাজারে এমন লোশন জাতীয় প্রোডাক্ট রয়েছে, যেগুলি পায়ের গোড়ালিতে লাগালে গোড়ালির একেবারের উপরিভাগের ত্বকটি ছেড়ে আসে। ত্বকটি তুলে দেওয়ার পরে সেখানে গজায় নতুন চামড়া। তরতাজা চামড়ায় শুষ্কতা চট করে কামড় বসাতে পারে না। ফলে গোড়ালি ফাটার সমস্যা থেকেও মেলে মুক্তি।

আপনার পেটই আপনাকে দিতে পারে আশ্চর্য ক্ষমতা: যখন আপনি নিজের বা অন্য কারও প্রয়োজনে প্রচুর শারীরিক শক্তির প্রয়োজন অনুভব করছেন, তখন আপনার পাচনতন্ত্রই জোগাতে পারে সেই শক্তি। আমরা যখন পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি, তখন আমাদের শরীরের স্নায়ুতন্ত্র তাতে সাড়া দেয়। তার ফলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ শুরু হয়।

এই অ্যাড্রিনালিনের প্রভাবে হৃদস্পন্দন ও শ্বসনের হার বৃদ্ধি পায়, চোখের তারা বড় হয়ে ওঠে। এর পরিণামে পাচনতন্ত্র কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলত শরীরের সমস্ত মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে গিয়ে আপনাকে পরিশ্রমের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। পরিশ্রমের প্রয়োজন মিটে গেলে পরিপাক তন্ত্র আবার তার স্বাভাবিক কাজকর্ম করা শুরু করে দেয়।

আপনার শরীর আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারে: হ্যাঁ, পারে, এবং কোনও কোনও সময়ে হাওয়া-অফিসের চেয়ে নিখুঁতভাবেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে পারে আমাদের শরীর। কোনও ঝড় আসার আগের মুহূর্তে বায়ুমণ্ডলের চাপ হ্রাস পায়। এর ফলে যাঁরা গাঁটের ব্যথায় ভোগেন, তাঁদের শরীরের গাঁটে রসস্ফীতি ঘটে। এর ফলে তাঁরা বেদনা অনুভব করেন। ঝড়-বৃষ্টি কেটে গেলে আবার বেদনা কমে যায়।

আবার তাপমাত্রার আকস্মিক হ্রাস বা বৃদ্ধির ফলে মাইগ্রেন রোগীদের মস্তিস্কে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা ঘটে এবং সেরাটোনিন ক্ষরণ শুরু হয়। ফলে তাঁরা মাথার যন্ত্রণা অনুভব করেন। আবার শীতকাল কতদিন স্থায়ী হবে, তা জানাতে পারে আমাদের চোখ। শীত কমে গিয়ে যখন উষ্ণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন আমাদের চোখের স্পোর এবং পোলেন কাউন্ট বৃদ্ধি পায়। ফলে শীতকাল শেষ হয়ে আসার আগাম পূর্বাভাস দেয় আমাদের চোখ।

আপনার চোখ বলে দিতে পারে আপনার মনের কথা: যখন কোনও ভালোলাগার মানুষের সান্নিধ্য লাভ করি আমরা, তখন স্নায়ুতন্ত্রে তার প্রভাব পড়ে এবং আমাদের চোখের তারা বিস্ফারিত হয়।

আর এইভাবেই প্রকাশ পেয়ে যায় আমাদের গোপন ভালবাসার কথা। কাজেই আপনার পছন্দের মানুষটিও আপনাকে পছন্দ করেন কি না, তা তাঁর চোখের তারার দিকে তাকিয়ে বলে দেওয়া সম্ভব।