আবদুল হাই ইদ্রিছী’র একগুচ্ছ যুগের ছড়া

মানুষ খুঁজি
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

মানুষ আমি খুঁজে ফিরি
মানুষ কোথাও পাই না,
মানুষগুলো নয় তো মানুষ
রূপের মানুষ চাই না।

মানুষগুলো মানুষ হলে
থাকতো মানুষ ভালো,
এ সমাজে থাকতো না তো
কোথাও লেগে কালো।

মানুষগুলো মানুষ হলে
মেকি ভালোবাসায়,
পুড়তো না কেউ কোন ভাবে
মিথ্যা স্বপ্ন আশায়।

মানুষগুলো মানুষ হলে
খুন হতো না কেহ,
পাহাড়াতে রাখতো সবে
একে অন্যের দেহ।

মানুষগুলো মানুষ হলে
ধর্ষিতা কি হতো,
নারীদেরে দেখতো সবে
মা জননীর মতো।

মানুষগুলো মানুষ হলে
বৃদ্ধাশ্রম কি দিতো?
মা-বাবাকে সন্তানেরা
বুকে তুলে নিতো।

মানুষগুলো মানুষ হলে
ইভটিজিং কি হতো?
মেয়েদেরে দেখলে ওরা
করতো মাথা নতো।

মানুষগুলো মানুষ হলে
যৌতুকেতে বলি,
হতো না আর কোন নারী
ঝরতো না ফুল কলি।

মানুষগুলো মানুষ হলে
শান্তি বয়ে যেত,
অশান্তিটার দেখা কোথাও
কেউ কি খুঁজে পেত?

মানুষগুলো মানুষ হলে
সুদ- ঘুষেতে ছেয়ে,
সমজটাকে পারতো না তো
করতে সাবাড় খেয়ে?

মানুষগুলো মানুষ হলে
করতো না কেউ ভিক্ষা,
পাওনাগুলো দিতে ওদের
থাকতো সবার শিক্ষা।

মানুষগুলো মানুষ হলে
চোর ডাকাতের ডরে,
কোন জিনিস থাকতো না তো
তালা দেয়া ঘরে।

তাই তো আমি মানুষ খুঁজি
পাইনি কোথাও দেখা,
মানুষ এখন গড়তে হবে
বলতে ছড়া লেখা।

জন্ম সূত্রের মানুষদেরে
হেরার শিক্ষা দিলে,
থাকবে সমাজ শান্তি সুখে
ওদের বুকে নিলে।
………………………..

পরিচয়
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

নামটা যত চকচক-ই হোক
কর্ম হলে বাজে,
এমন নামে কি লাভ বলো
পরিচয় তো কাজে।

দামি পোশাক গায়ে তবে
খারাব ব্যবহারে,
লোকে যদি নিন্দা করে
সম্মান কি আর বাড়ে?

কর্মে তোমার মর্ম হবে
দেশ ও জাতির কাছে,
ভাল কাজের মূল্যায়নটা
সব জাগাতে আছে।

রূপেতে নয় গুণেতে হও
তুমি সবার সেরা,
তবেই জীবন সফল হবে
যাবে না তো টেরা।
…………………….

সইবে কেমন করে
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

সব-চে আপন ভেবে যাকে
টানবে তুমি কাছে,
সে-ই যদি দূরে ঠেলে
এর-চে ব্যথা আছে?

করে যদি ছল-চাতুরী
বাহানাতে-ই থাকে,
কেমন করে মেনে নেবে
আপন বলে তাকে?

তোমার কাঁধে অস্ত্র রেখে
শিকার যদি ধরে,
ভালোবাসার মনটা তোমার
সইবে কেমন করে?

এমন মানুষ যার মনেতে
বাসা বেঁধে নেবে,
তিলে তিলে জীবনটাকে
ধ্বংস করে দেবে!
……………………

দোহাই লাগে
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

পচাগলা রাজনীতি আর
চায় না জাতি চায় না,
প্রতিহিংসার নোংরা জালে
স্বস্তি কোথাও পায় না।

দেশের মালিক যে জনগন
সংবিধানে লেখা,
তাদের কথা ভাবতে কেহ
যায় না কোথাও দেখা।

আমি-তুমি কে বড় আজ
এই তো চলছে খেলা,
খেলায় খেলায় যাচ্ছে চলে
নিত্য এখন বেলা।

প্রতিহিংসা ঠেলা ধাক্কা
দূরে ঠেলে দিয়ে,
দোহাই লাগে ভাবনাটা হোক
দেশ ও জাতি নিয়ে।
……………………….

বেঁচে থাকা দায়
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

মনটা আমার আকাশেতে
উড়ে যেতে চায়,
পৃথিবীতে বেঁচে থাকা
এখন বড় দায়!

মানুষগুলো দেখি শুধু
মানবতা নাই,
কোথায় গিয়ে পাবো বল
একটু খানি ঠাঁই।

ধোকাবাজের বাজার গরম
শরম লাগে হায়!
ভরসাটা রাখি কোথায়
আগুন ধরে গায়।

যায় যায় যায় কলজে পুড়ে যায়
সাত সাগরের পানি ঠেলেও
শান্তি পাওয়া দায়- বড় দায়!
……………………………….

মন ভরে না
-আবদুল হাই ইদ্রিছী

একটি পাখি পুষছে আবুল
অনেক বছর ধরে,
দিবা নিশি পাখির পেছন
থাকে যে সে পড়ে।

খাবার খাওয়ায় দামী দামী
যত্ন করে রাখে,
তবু পাখি পালাবার যে
চেষ্টা নিয়ে থাকে!

এমন কেন করছে পাখি
থাকতে কেন চায় না,
সারাবেলা ভাবনা মনে
শান্তি তো সে পায় না।

আসল কথা ময়না ভেবে
পুষছে কাকের ছানা,
আবুল মিয়ার আগে এটি
ছিলো না তো জানা।

দামী খাবার খেয়ে কাকের
মন কি ভরা থাকে,
হাঁস মোরগের নাড়ি-ভুড়ি
দিতে হয় যে তাকে।