মেইন ম্যেনু

‘আমাকে ১০ টাকার চাল কেনার কার্ড কেউ দিল না’

kurigram-news

‘আমার ভাগ্যে বছরে একদিনও মাছ মাংস জোটে না। কোনো দিন খাবার মেলে, কোনো দিন মেলে না। অথচ আমাকে ১০ টাকার চাল কেনার কার্ড কেউ দিল না।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে এসব কথা বলেছেন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের ফুলসাগর পাড় সংলগ্ন পানিমাছকুটি গ্রামের অসহায় দিনমজুর মোজাম্মেল হক (৫০)।

মোজাম্মেল হক অন্যের দেওয়া দেড় শতাংশ জমির মধ্যে ভাঙা ঘরে প্রায় ২০ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তিনি আগে কুড়িগ্রাম সদরের ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করতেন। এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসার পেছনে তার সবকিছু শেষ হয়ে যায়। পরে ফুলবাড়ীতে এসে তার বড়ভাই হায়দার আলীর আশ্রয়ে থাকছেন। তার উপার্জনের মূল মাধ্যম ৪ থেকে ৫শ’টাকা পুঁজির মনিহারীর চুড়ি, ফিতা, নাক ফুল বিক্রি।

সকালে বের হয়ে গ্রামের পর গ্রাম বাড়ি বাড়ি গিয়ে মনিহারী এসব পণ্য বিক্রি করে লাভের টাকায় চাল ডাল কিনে স্ত্রী সন্তান মিলে ৩ সদস্যের জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সারাদিন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পায়ে হেঁটে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফিতা, নাক ফুল, চুড়ি বিক্রি করে আয় হয় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। দৈনিক এই আয়ে ৪০ টাকা কেজিতে ২ কেজি চাল ৮০ টাকায় কিনতে হয়। বাকি টাকায় শাক সবজি কিনে জীবন চালাতে হয়। টাকার স্বল্পতায় ইচ্ছা থাকার পরও বছরে একদিনও ভাগ্যে মাছ মাংস জোটে না।’

তার প্রশ্ন, ‘এই আর্থিক দূরবস্থায় আমি কি সরকারের ১০ টাকার চাল কেনার কার্ড পাওয়ার উপযোগী নই? সরকার কেন আমার মতো অসহায় মানুষকে চোখে দেখল না?’

তিনি বলেন, ‘অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ১০ টাকায় চাল কেনার কার্ড পাইনি। কেউ এই কার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেয়নি। আমাকে যদি ১০ টাকায় চাল কেনার কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো তাহলে দিনের সামান্য উপার্জনের টাকা বাঁচিয়ে একদিন মাছ মাংস কিনে খেতে পারতাম।’

জানা গেছে, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকায় প্রতি কেজি চাল কেনার কার্ড সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে চালু করা হয়।

এই কর্মসূচিতে ফুলবাড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যবিত্তসহ প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ৪৩৫ জন মানুষের মাঝে এ কার্ড বিতরণ ও তাদেরকে চাল কেনার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অসহায় মোজাম্মেল হক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এই কার্ড পাওয়ার উপযোগী হলেও কেউ এই অসহায় মানুষটিকে চোখে দেখেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম জানান, এসব কার্ড বাছাই করে ৮/৯ সদস্যের কমিটি। এর মধ্যে নিজ নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা থাকেন। তারপরও অসহায় মোজাম্মেল হকের বিষয়টি দেখবেন বলেও জানান তিনি।

অসহায় মোজাম্মেল হকের ১০ টাকার চাল কেনার কার্ড না পাওয়ার ব্যাপারে ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান মইনুল হক বলেন, ‘সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকায় চাল কেনার কার্ডের তালিকা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও সরকার দলীয় লোকজন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা অসহায়দের বাদ দিয়ে স্বাবলম্বীদের মাঝে এ কার্ড দিয়েছে। আমাদের কাছ থেকে এই তালিকা নেওয়া হয়নি। এ কারণে অনেক গরীব অসহায় মানুষ ১০ টাকার চাল কেনার খাদ্যবান্ধব কার্ড পায়নি।’