মেইন ম্যেনু

আমি মালাউন বলছি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ‘আমি মালাউন বলছি’ শীর্ষক প্রতিবাদী পারফরম্যান্সের আয়োজন করেছিলেন অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। এটি ছিলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নর-নারী, শিশু-বৃদ্ধসহ আবহমান কাল ধরে বসবাসরত মানুষের ওপর সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, লুট ও তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী পরিবেশনা।

গেল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী ও অগণিত জনতার উপস্থিতিতে থিয়েটার অ্যান্ড পারফম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, নাট্যকার, নির্দেশক ও চিন্তক শাহমান মৈশানের ভাবনা ও নির্দেশনায় ‘আমি মালাউন বলছি’র বক্তব্যে উঠে এসেছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র মন্দিরে বাসস্থানে তুলসীতলায় পূজার ঘটে ভাতের থালায় সর্বোপরি মনুষ্যত্বের মর্মস্থলে বেদরদী মোনাফেকি বেঈমানি বর্বর সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের কথা।

‘আমি মালাউন বলছি’ মূলত পারফরম্যান্স নির্মাণের একটি মহড়া। যে মহড়া সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিপ্লবের মহড়ার দিকে ইঙ্গিত করতে চায়। এই পারফরম্যান্স পূর্বনির্দিষ্ট সুসম্পন্ন কোনো পারফরম্যান্স নয়, নাসিরনগরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা ও তাদের সম্পত্তি লুটের ঘটনা, রাষ্ট্র ও সমাজের যে অন্তর্গত অনৈতিক ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল বিন্যাসকে সামনে নিয়ে আসে এবং আমাদের যুগপৎ দীর্ঘ ও আশু কর্তব্যের মুখোমুখি করে, এর সমান্তরালে এই পারফরম্যান্স একটি মহড়া আকারে উপস্থাপিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নাট্যকার ও নির্দেশক শাহমান মৈশান বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশ কেবল মুসলমানের দেশ নয়, এই দেশ হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবার। সংখ্যার হিসেবে জনমিতির দিক থেকে অধিপতিশীল ইসলামের অনৈসলামিক জজবায় মত্ত হয়ে কিছু মুসলমান নামধারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি বেরহম হয়ে ‘অপরে’র জীবন ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর ওপর হিংসাপ্লাবন ঘটায় তখন থিয়েটারের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা মনে করি আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে, বিনাশের কালে শিল্পকলা কেবল সৌন্দর্য সৃষ্টির ভূমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিল্প ও জ্ঞান যদি হয় অপরের প্রতি সহিষ্ণুতা দেখাবার সংবেদনা প্রকাশিবার ও শ্রদ্ধা করতে শেখাবার মার্গ, তবে নাসিরনগরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর এই ঘৃণ্য হামলা ও লুটের ঘটনায় আমাদের নিশ্চুপ নিস্তব্ধ ও একাডেমির গুহাবাসী হয়ে থাকাটা জ্ঞানের অসারতা ও জীবন-বিচ্ছিন্নতার সত্যকেই তুলে ধরবে। তাই আমরা, জ্ঞান ও নাট্যশিল্পকে জনগণের নিত্যদিনের জীবনের সংগ্রাম ও সঙ্কটের সাথে সম্পৃক্ত করতে সকলের মানবিক বোধনে সাড়া তুলবার লক্ষ্যে সৃজন করেছি একটি হ্যাপেনিংস, একটি পারফরম্যান্স ‘আমি মালাউন বলছি’।