মেইন ম্যেনু

আরো বেশি সফল হতে আপনাকে যে পাঁচ কাজ ছাড়তে হবে

এটা সত্য যে সাফল্যে জন্য অধ্যাবসায় জরুরি। তবে অনেক সময় ত্যাগ করা সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হয়ে ওঠে। হোক তা কোনো ব্যর্থ প্রকল্প, ধন্যবাদহীন কর্ম, দণ্ডপ্রাপ্ত সম্পর্ক, ত্যাগ করাটা হতে পারে একটি সদগুন।

“ত্যাগ করার মানে নেতৃত্ব দেওয়াও”- নেলসন ম্যান্ডেলা।

আর এটা প্রমাণিত যে, আমাদের অনেকেই কখন ত্যাগ করতে হবে তা খুব ভালো করেই জানেন। তবে অনেকে বাঁধনহীন হতে বেশ কঠোর সময় পার করেন।

কখন ত্যাগ করতে হবে তা জানাটা এমন এক দক্ষতা যা শেখা যায়। আপনি যা করছেন তা পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরও আপনি যদি কোনো কিছুতে লেগে থাকেন তাহলে আপনি আরো ভালো করার জন্য নিজেকে প্রশিক্ষিত করে তুলতে পারেন। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো ত্যাগের চর্চা করা। আর সৌভাগ্যক্রমে জীবন এটা করার জন্য প্রচুর পরিমাণ সুযোগ সরবরাহ করে। এখানে এমন কিছু জিনিস তুলে ধরা হলো যা আমাদের প্রত্যেকেরই ত্যাগ করা উচিৎ।

১. বারবার একই জিনিস করা এবং একটি ভিন্ন ফলাফল প্রত্যাশা করা
আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, একই জিনিস বারবার করে ভিন্ন একটি ফল লাভের প্রত্যাশা করা পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিষয়টি একদম সোজা: আপনি যদি একই ভঙ্গি বজায় রাখেন তাহলে আপনি একই ফলাফল পেতে থাকবেন। বিপরীত ফল লাভের যতই আশা করেন না কেন তাতে কিছুই যায় আসে না। আপনি যদি ভিন্ন ফল পেতে চান তাহলে আপনাকে আপনার ভঙ্গি বদলাতে হবে। এমনকি যদিও তা করাটা একটু বেদনাদায়ক।

২. “হ্যাঁ” বলা ত্যাগ করুন
আপনি যতবার “হ্যাঁ” বলেন ততবারই আপনি অন্য কিছুর প্রতি “না” বলছেন। কর্মস্থলে বেশি সময় দেওয়ার জন্য “হ্যাঁ” বলার মানে হলো জিম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে “না” বলা।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ফ্রান্সিসকো এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি “না” বলতে যত বেশি কাঠিন্য অনুভব করবেন ততই আপনি মানসিক চাপ ও জ্বালাপোড়া এবং এমনকি মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হবেন। “না” বলা প্রকৃতপক্ষে অনেক লোকের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

“না” একটি শক্তিশালি শব্দ যা ব্যবহারে আপনার ভয় পাওয়া উচিৎ নয়। যখন “না” বলার সময় হবে তখন “আমি মনে করি না যে আমি পারব বা আমি নিশ্চিত নই” এই ধরনের শব্দগুচ্ছের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। নতুন কোনো প্রতিশ্রুতিতে “না” বললে বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলোকে সম্মান করা হয়। এবং এতে আপনি বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো সফলভাবে পূরণ করার সুযোগ পাবেন।

আপনি যখন “না” বলতে শিখবেন তখন নিজেকে আপনি অপ্রয়োজনীয় বাধ্যবধকতা থেকেও মুক্ত রাখতে পারবেন। এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর জন্য নিজের সময় ও শক্তি ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

৩. নিজেকে সন্দেহ করার অভ্যাস ত্যাগ করুন
সাফল্য লাভের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস একটি বিশাল ভুমিকা পালন করে। অনেক সময় শুধু আত্মবিশ্বাসই পরবর্তী ধাপে পৌঁছাতে সহায়তা করে। কৌশলটি হলো, আপনাকে এটি বিশ্বাস করতে হবে। আপনি যদি নিজেকে সন্দেহ করেন, তাহলে কাজ হবে না। তবে নকল আত্মবিশ্বাসেও একই ফল লাভ করা সম্ভব নয়।

৪. কাজ ফেলে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন
পরিবর্তন কঠিন। আত্মউন্নয়নও কঠিন। আপনি যা চান তা অর্জনের জন্য সাহসের সঙ্গে সামনে এগিয়ে যাওয়াও কঠিন। আর তেমনই কঠিন তা এর জন্য যে কাজ দরকার তা করা।
যখন কোনো জিনিস কঠিন লাগে তখন তা আগামীকালের জন্য ফেলে রখাটা সহজ। কিন্তু সমস্যা হলো আগামী কাল আর কখনো আসে না। কাজটি আপনি আগামী কাল করবেন বলার মানে হলো আপনি শুধু অজুহাত সৃষ্টি করছেন। আর এর অর্থ হলো আপনি হয় বিষয়টি সত্যিই সত্যিই করতে চান না বা এটি করার জন্য যে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে তা করা ছাড়াই আপনি ফল লাভ করতে চান।

৫. সবকিছু আপনাতেই সম্পন্ন হবে এমন চিন্তা ত্যাগ করুন
সবকিছু অবশেষে আপনাতেই সম্পন্ন হবে এমন চিন্তা করাটা লোভনীয় বটে। কিন্তু সত্য হলো আপনাকে এটিকে কার্যকর করতে হবে। এর অনেক ধরনের তাৎপর্য রয়েছে। এমনটা আশা করবেন না যে, আপনার প্রমোশনের সময় হলে আপনার বসই নিজে থেকে বিষয়টি বুঝবেন। আর আপনি যদি সবসময়ই করতে আগ্রহী থাকেন ভাববেন না যে, আপনার সহকর্মীরা আপনার ওপর তাদের কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করবেন। আর আপনি যতক্ষণ না প্রতিরোধ করছেন ততক্ষণ লোকে আপনার ওপর দিয়ে মাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেই। সবকিছুই আপনা থেকে সংগঠিত হবে না। আপনার নিজেকে সক্রিয় হতে হবে এবং নিজের দায়িত্ব নিজের হাতে গ্রহণ করতে হবে।

সূত্র: ফোবর্স