মেইন ম্যেনু

আয়নাবাজির অনলাইন পাইরেসি রুখতে সতর্ক ডিএমপি

untitled-1-copy

দেশের সাম্প্রতিক সময়ের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘আয়নাবাজি’। মুক্তির মাত্র তিন সপ্তাহে সিনেমাটি পাইরেসি হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ফেসবুক লাইভ, ওয়েবসাইটে ছবিটি দেখানো হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ‘আয়নাবাজি’র পাইরেসি বন্ধে কাজ করছে পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ফেসবুক পাতায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কিছু অসাধু মানুষ ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার কপি করে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ও ফেসবুক লাইভে প্রচার করছে যা দেশের বিদ্যমান সাইবার আইন ও কপি রাইট আইনের পরিপন্থী। এ সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ অভিযোগ পেয়েছে এবং রমনা থানায় সিনেমা কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।’

অভিযোগের ভিত্তিতে সাইবার সিকিউরিটি এন্ড ক্রাইম বিভাগ ইতোমধ্যে ফেসবুকে লাইভ দেওয়া কয়েকটি প্রোফাইল শনাক্ত করেছে এবং যেসব ডোমেইন বা ওয়েবসাইটে উক্ত সিনেমার কপি প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলা জানানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

একই সঙ্গে ‘আয়নাবাজি’ চলচ্চিত্র নিয়ে পাইরেসি বিষয়ে যে কোন তথ্য পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে এই ঠিকানায়- [email protected]

আয়নাবাজি নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলেন, ‘আয়নাবাজি আমার প্রথম সিনেমা। গত চার বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে সিনেমাটা বানিয়েছি, যার এক বিন্দু ছাড় দেই নাই কোনো কিছুতে। অনেক মানুষের পরিশ্রম এখানে আছে। এই সব কিছু সম্ভব হয়েছে যখন আমার উপর ভরসা করে কেউ লগ্নি করেছে। মুক্তির আগে আয়নাবাজি কেউ স্পনসর করতে এগিয়ে আসে নাই। আমার আপত্তি ছিলো কোনো নিবেদিত আয়নাবাজি হতে দিবো না। মাত্র ২০ হলে আমাদের সিনেমা নিয়েছিল, যা আয়নাবাজির লগ্নি আসার অসম্ভব কিছু। তারপর ভরসা করে আমরা মুক্তি দেই। কোনো প্রিমিয়ার শো ছাড়া সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছে। টিকেট কেটে সিনেমা দেখাই ছিল আমার ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য। আমি, চঞ্চল ভাইসহ সবাই টিকেট কেটে সিনেমা দেখেছি।

আয়নাবাজি অনলাইনে মুক্তি দেওয়া প্রসঙ্গে অমিতাভ রেজা বলেন, ‘আমাদের ডিজিটাল পার্টনার শুধু রবি। কিন্তু রবির কাছে সিনেমার রাইট বিক্রির প্রশ্নই আসে না। শুধুমাত্র রবি টিভিতে অর্থাৎ মোবাইল ডিভাইস ছাড়া এটা আর কোথাও দেখা যাবে না। তাও তিন দিনের জন্য, কেউ সাবস্ক্রাইব করলে আমরা রেভ্যিনিউ শেয়ার পাবো আর কিছু না। শর্ত ছিল আমাদের পুরোপুরি গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সাইবার ক্রিমিনালরা অনেক মেধাবী।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভুল সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমাদের ছিলো। কিন্তু গত দুই দিন যাবত যখন ‘লোভী’ ‘প্রতারক’ বলে আমাদের মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন তখন খবর পাই সিয়াটল এশিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবে আয়নাবাজি সেরা বর্ণনাত্মক চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে। এটাই আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের প্রথম পুরস্কার। কিন্তু আমি পুরস্কার পেয়েছি এ দেশের মানুষের কাছে যখন ২০ হল থেকে ৭৪টা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে সিনেমাটি। যে যত গুজব ছড়াক আমি বলছি আয়নাবাজির একমাত্র পাওয়া আপনাদের ভালবাসা।’