মেইন ম্যেনু

আয়োডিনের ঘাটতির ফলে হয় যে সমস্যাগুলো

iodine

স্বাস্থ্যকর নিউরোলজিকেল এবং এন্ডোক্রাইন ডেভেলপমেন্টের জন্য আয়োডিন অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। আমাদের শরীর আয়োডিন তৈরি করতে পারেনা বলে খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয় আয়োডিন। বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতির ঝুঁকিতে আছে। আয়োডিনের ঘাটতির ফলে যে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো হয় সেগুলোর বিষয়েই জানবো এই ফিচারে।

১। গয়টার

আয়োডিনের ঘাটতির ফলে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বড় হয়ে যায়। একে গয়টার বলে। এই সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ঢোক গিলতে সমস্যা হয়, শ্বাসকষ্টে ভোগে এবং কন্ঠরোধ হয়ে আসার সমস্যায় ভোগে, বিশেষ করে শুয়ে থাকার সময় হয় এই সমস্যাগুলো বেশি হয়।

২। হাইপোথাইরয়ডিজম

যদি শরীরের আয়োডিনের মাত্রা কমে যায় তাহলে থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন প্রভাবিত হয়। কারণ থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন প্রয়োজনীয়। সারা বিশ্বজুড়ে হাইপোথাইরয়ডিজমের সবচেয়ে সাধারণ কারণটি হচ্ছে আয়োডিনের ঘাটতি। হাইপোথাইরয়ডিজমের সাধারণ লক্ষণ হচ্ছে চূড়ান্ত রকমের অবসাদে ভোগা এবং ঠান্ডার প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া।

৩। প্রেগনেন্সির জটিলতা

এটি হয়তো অনেকেই জানেন না যে আয়োডিন প্রেগন্যান্ট এবং দুধ পান করান এমন নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রেগনেন্সির সময়ে তীব্র আয়োডিনের ঘাটতির ফলে গর্ভপাত, মৃত বাচ্চা, অপরিণত প্রসব এবং জন্মগত অস্বাভাবিকতার সমস্যা হতে পারে। এমনকি মায়ের মাঝারি ধরণের আয়োডিন ঘাটতির কারণে বাচ্চার বুদ্ধিমত্তা কম হতে পারে।

৪। বামনত্ব

গুরুতর আয়োডিন ঘাটতির ফলে থাইরয়েড গ্রন্থি অকার্যকর হয়ে পরে, ফলে গর্ভজাত সন্তান বামন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটি হলে শারীরিক বৃদ্ধি বাঁধাগ্রস্থ হয়, মানসিক প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়, মূক ও বধির হয় এবং মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।

৫। অ্যাংজাইটি

আয়োডিন এবং হরমোনের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্কের কারণেই আয়োডিনের ঘাটতির ফলে হরমোন রিসেপ্টরের কাজ এবং যোগাযোগ সঠিকভাবে হয়না। ফলে অ্যাংজাইটি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৬। ব্রেস্টে সিস্ট হতে পারে

কানাডিয়ান জার্নাল অফ সার্জারিতে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, ফাইব্রোসিস্টিক ব্রেস্ট ডিজিজে ভুগছেন এমন রোগীদের ৭০ শতাংশের অবস্থার উন্নতি হতে দেখা যায় আয়োডিনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করার ফলে। তাই বলা যায় যে, আয়োডিনের ঘাটতি ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক বিদ্যমান। যদিও এই বিষয়ে আরো অনেক গবেষণার প্রয়োজন আছে।