মেইন ম্যেনু

আ.লীগে নারী নেতৃত্ব বেড়েছে ৭ শতাংশ, বিএনপিতে ১

hasina-khaleda

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ। আর ক্ষমতাসীন দলটির রাজনীতির মাঠে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। ৮১ সদস্যের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫ জন নারী রয়েছেন। অন্যদিকে, ৫০২ সদস্যের বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী আছেন ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ৬৪ জন।খবর প্রথম আলো’র।

আওয়ামী লীগের ১৯তম কাউন্সিলের পর গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে ১৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, অর্থাৎ ১০ জন নারী ছিলেন। তিন বছর পর দলটির ২০তম কাউন্সিলের পর গঠিত কমিটিতে ১৫ জন নারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, বর্তমানে ঘোষিত ৭৪ সদস্যের কমিটিতে নারী আছেন ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চম কাউন্সিলের পর ঘোষিত ৩৮৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে নারী ছিলেন ৪৬ জন। অর্থাৎ, ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী নেতৃত্ব ছিল। কিন্তু ছয় বছর চার মাস পর অনুষ্ঠিত দলের ষষ্ঠ কাউন্সিলের পর ৫০২ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ৫০০ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে নারী আছেন ৬৪ জন, শতাংশ হিসাবে যা দাঁড়ায় ১২ দশমিক ৮০। অর্থাৎ, বিগত কমিটির তুলনায় নারী প্রতিনিধিত্ব দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়েছে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের নেতৃত্ব আছেন নারী। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। আর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপির ১৯ সদস্যের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটিতে খালেদা জিয়া ছাড়া আর কোনো নারী নেই। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের ১৯ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীতে শেখ হাসিনাসহ নারী আছেন চারজন।

রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্তে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে প্রতিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সব স্তরের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রাখতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দলই এই সংখ্যার কাছাকাছি যেতে পারেনি। এখন পর্যন্ত প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্ব সবচেয়ে বেশি।

দুই দলের মধ্যে বিএনপির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছে চলতি বছরের মার্চে। আর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হয়েছে অক্টোবরে। দুই দলের কমিটিই পরবর্তী তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ফলে ২০২০ সালের মধ্যে দুটি দল আর একটি করে কাউন্সিল করার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ, কমিটির বর্তমান আকার ঠিক থাকলে আওয়ামী লীগের আগামী কমিটিতে ২৭ জন নারী প্রতিনিধিত্ব থাকতে হবে। আর বিএনপিতে থাকতে হবে ১৬৮ জন। অর্থাৎ, বর্তমানে নারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কমিটিতে আরও ১২ জনকে নিয়োগ নিতে হবে। আর বিএনপির কমিটিতে বর্তমানের ৬৪ জন ছাড়াও আরও ১০৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, তাঁদের দল লিঙ্গসমতায় বিশ্বাস করে। এ কারণে কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বাড়ানো হচ্ছে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের শর্তপূরণের লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সব সময় নারীদের রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে উৎসাহ দেন। এ কারণে ধারাবাহিকভাবে কমিটিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে।

অবশ্য বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বিএনপিতে অনেক নারীই দায়িত্বশীল পদে আছেন। দলে নারী নেতৃত্ব বাড়ছে। রাজনীতিতে নারীরা যত বেশি সক্রিয় হবেন, কমিটিতে সেই অনুযায়ী নেতৃত্ব আসবে। তাঁদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বেশ কিছু বড় পদে নারীরা আছেন।