মেইন ম্যেনু

ইউনেস্কোর ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা

mongol-sobazatra-bg20130414013944

ইউনেস্কোর ঘোষিত ঐতিহ্যের তালিকায় এবার বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ঠাঁই পেয়েছে। বুধবার এক বিতর্ক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তার ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এমন খবর জানিয়েছেন।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, “ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শহিদুল ইসলাম, যিনি UNESCO তে বাংলাদেশের প্রতিনিধি একটু আগে জানালেন আমাদের বাংলা নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ ইউনেস্কো কর্তৃক Intangible Cultural Heritage of Humanity হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে আজকে। আমরা বেশ কিছুদিন যাবৎ এটা নিয়ে কাজ করছিলাম এবং আজকে সকালে দুই ঘণ্টাব্যাপী বিতর্কের পর এটা নিশ্চিত করা গেছে। সবাইকে অভিনন্দন!!!”

এর আগে ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ’র তালিকায় বাংলাদেশের কারুশিল্প জামদানি এবং বাউল গানও স্থান পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল মঙ্গল শোভাযাত্রা। সে বছরই লোকজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় এই আনন্দ শোভাযাত্রা। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে প্রথমবারের মতো।

শোভাযাত্রায় থাকে বিশালাকার চারুকর্ম পাপেট, হাতি ও ঘোড়াসহ বিচিত্র সাজসজ্জা। থাকে বাদ্যযন্ত্র ও নৃত্য। পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। তারপরের বছরও চারুকলার সামনে থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।

১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তবে বর্ষবরণ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা চারুকলায় ১৯৮৯ সালে শুরু হলেও এর ইতিহাস আরো কয়েক বছরের পুরনো।

১৯৮৬ সালে চারুপীঠ নামের একটি প্রতিষ্ঠান যশোরে প্রথমবারের মতো নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরনো বাদ্যসহ আরো অনেক শিল্পকর্ম। শুরুর বছরই যশোরে সেই শোভাযাত্রা আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে যশোরের সেই শোভাযাত্রার আদলেই ঢাকার চারুকলা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।