মেইন ম্যেনু

ইনি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ

1480491048

উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ধ্যান এবং সমবেদনার ওপর দীর্ঘ ১২ বছর যাবত একটি গবেষণায় অংশগ্রহণ করার পরই ৭০ বছর বয়সী বিজ্ঞানীরা মেথিউ রিকার্ডকে সুখী মানুষ হিসেবে উপাধী দেওয়া হয়। কিন্তু রিকার্ড নিজে এই উপাধী গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছেন।

মূলত ফ্রান্স থেকে আসা এবং বর্তমানে নেপালের একটি আশ্রমে বসবাসকারী রিকার্ড জিকিউ ম্যাগাজিনকে বলেন যে, এই উপাধী তার কাছে ‘কিম্ভুতকিমাকার’ মনে হয়েছে। একটানা সারাদিন ধ্যান করতে পারা এই বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বলেন, ‘আমি জানি আমি সুখী সন্ন্যাসী।’

এই গবেষণার কাজের জন্য যে মনোযোগ প্রয়োজন ছিল তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে চেষ্টারত অবস্থায় রিকার্ড একবার দালাই লামাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এই প্রচেষ্টা থেকে তিনি পিছু হটতে পারেন কিনা। কিন্তু দালাই লামা তাকে বলেন, বিশ্বের তার কাছ থেকে নির্দেশনা প্রয়োজন। দালাই লামা বলেন, ‘যদি তারা তোমাকে সুখী মানুষ হিসেবে দেখতে চায়, তাহলে তুমি সুখী মানুষই হও।’

রিকার্ড-ই বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ কিনা এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য স্নায়ুবিজ্ঞানী রিচার্ড ডেভিডসন ধ্যান করার সময় সন্ন্যাসীর গাঁয়ে ২৫৬টি সেন্সর লাগিয়ে দেন। এরপর ডেভিডসন দেখতে পান যে রিচার্ডের মস্তিষ্ক থেকে এক ধরনের গামা তরঙ্গ উত্পাদিত হচ্ছে যা চেতনা, মনোযোগ, লার্নিং এবং মেমোরির সঙ্গে সংযুক্ত। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এমনটি এর আগে কখনো দেখা যায়নি।

ডেভিডসন এ সময় লিখেন, ‘স্ক্যানে তার মস্তিষ্কের ডান পাশের তুলনায় মস্তিষ্কের বাম সম্মুখভাগের বহিরাবরণের মধ্যে অত্যাধিক কার্যকলাপ দেখা গেছে। আর এটিই তাকে সুখী হওয়ার জন্য এক ধরনের অস্বাভাবিক বৃহৎ ক্ষমতা দান করেছে এবং নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে হ্রাসের দিকে টেনে নিয়ে গেছে।’

তবে এই উপাধী পরিহার করলেও রিকার্ড তার জীবনদর্শন ব্যাপকভাবে ‘আলট্রুরিজম, অন দ্য পাথ টু এনলাইটটেনমেন্ট, অ্যান্ড হ্যাপিনেস’ নামক বইটিতে তুলে ধরেছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন ফটোবুকস ও প্রকাশ করেছেন।

কিভাবে অন্যরাও সুখ অর্জন করতে পারে এই প্রশ্নের উত্তরে রিকার্ড গত বছর বিজনেস ইনসাইডারকে বলেন, ‘দয়াশীলতা ও নিঃস্বার্থতা-ই মূল বিষয়। নিজেকে সুখী ভেবে দিনে ১৫ মিনিট একটানা ধ্যান এক্ষেত্রে ভালো কাজে আসবে।’

ডেভিডসন এর গবেষণায়ও দেখা গেছে যে, একটানা ২০ মিনিটের ধ্যানে একজন ব্যক্তি সুখী বোধ করতে পারেন।

জিকিউ এর সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আরো বলেন, ‘অন্যদের সঙ্গে তুলানায় নিজেকে বড় করে দেখাটাও ক্ষতিকর। তুলনা সুখ হত্যাকারী।’