মেইন ম্যেনু

উল্টোপথে এফবিআই : চুলচেরা বিশ্লেষণে চলছে শেষ মুহূর্তের হিসাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনে এসে চলছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হিসাব-নিকেশ। দীর্ঘ কয়েক মাসের নির্বাচনী প্রচারণা শেষে মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ করা হবে দেশটিতে। মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডেমোক্রেট দলীয় হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত কর্মকাণ্ডের চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। এদিকে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এসে হিলারি ক্লিনটনের দীর্ঘদিনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর উল্টোপথে হাঁটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ বিতর্ক থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে গেছে হিলারির ই-মেইল কেলেঙ্কারির এ ঘটনা। নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এসে হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল ফাঁসের তদন্তে কোনো ধরনের অপরাধের প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে এফবিআই। গত অক্টোবরে হিলারির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে মার্কিন এ প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা। সে সময় হিলারির জনপ্রিয়তায় ধস নামে। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগে উল্টোপথে এফবিআইর পদক্ষেপে সংশয় দেখা দিয়েছে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে। এ ঘটনার পেছনের কারণও অনুসন্ধান করছেন অনেকেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারির বিরুদ্ধে এফবিআইর এ ঘোষণার আড়ালে থাকতে পারে অন্য হিসাব।

এদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসে হিলারির নীল প্রাচীরে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের বিতর্কিত অতীত মন্তব্যের কারণে দেশটির ল্যাটিনো ভোটারদের একটি বিশাল ঢেউ ডেমোক্রেট শিবিরে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন হিলারি।

নির্বাচনের চূড়ান্ত মুহূর্তের আগে দুই প্রার্থীই দোদুল্যমান ভোটার রাজ্য হিসেবে পরিচিত ফ্লোরিডা, পেনসিলভানিয়া ও নর্থ ক্যারোলিনায় নজর রাখছেন। উভয় প্রার্থীই মিশিগানের উত্তরে ও নিউ হ্যাম্পশায়ারে প্রচারণা চালিয়েছেন। এর আগে, ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী এসব এলাকায় জয়ী হলে এবার তা ফসকে যেতে পারে।

ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিততে হলে বিশ্বাসযোগ্য পথেই হাঁটতে হবে। এজন্য তাকে মিট রমনির পথ অনুসরণ করতে হতে পারে। গত চার বছর আগে মিট রমনি দুটি ব্যাটেলগ্রাউন্ড নর্থ ক্যারোলিনা ও অ্যারিজোনায় জিতেছিলেন; ট্রাম্পের জন্যও এর বিকল্প নেই। এছাড়া প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জয়ী রাজ্য ফ্লোরিডা, ওহিও এবং আইওয়াতে জিততে হবে ট্রাম্পকে। এসবের যে কোনো একটি রাজ্য ফসকে গেলে নির্বাচনী ফলের হিসাব-নিকেশের গ্যাঁড়াকলে পড়তে পারেন এ রিপাবলিকান প্রার্থী। মিশিগান এবং পেনসিলভানিয়া যদি ডেমোক্রেট থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেন ট্রাম্প; তবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারেন। কেননা এর আগে টানা ছয়বার ডেমোক্রেট শিবির এই রাজ্যে জয়ী হয়েছে। এছাড়া নর্থ ক্যারোলিনায় হেরে গেলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে ট্রাম্প শিবিরের ফলে।

তবে বিপর্যয় এড়ানো ট্রাম্পের জন্য সম্ভব হবে, যদি নর্থ ক্যারোলিনা ও অ্যারিজোনা ধরে রাখতে পারেন। এবং ফ্লোরিডা, ওহিও ও আইওয়া ডেমোক্রেট শিবির থেকে ছিনিয়ে নিতে পারলে ট্রাম্পের থলেতে জমা পড়বে ২৬০ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। এছাড়াও যে কোনো উপায়ে আরো ১‌০ ইলেকটোরাল ভোটের প্রয়োজন হবে ট্রাম্পের জন্য। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা উড়ে যেতে পারে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ৪ ও নেভাদার ৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট যদি রিপাবলিকান শিবিরে পড়ে। এদিকে, কলোরাডোর ৯, মিশিগানের ১৫ ও পেনসিলভানিয়ার ২০ ইলেকটোরাল ভোটও হিসাব-নিকেশের মাপকাঠি হবে।

ডেমোক্রেট দলের জন্য নীল প্রাচীর হিসেবে পরিচিত পেনসিলভানিয়া, মিশিগান এবং উইসকনসিন ধরে রাখাই হবে হিলারি ক্লিনটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্প এ তিন অঙ্গরাজ্যকে এরই মধ্যে টার্গেট করে প্রচারণা চালালেও এতে মতামত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন হিলারিই। নির্বাচনের দিন মিশিগান, পেনসিলভানিয়ার অধিকাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রদান করবেন; এর অর্থ হচ্ছে, আগাম ভোটে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করতে পারেনি তার দল। তবে ক্লিনটন যদি নর্থ ক্যারোলিনা, ফ্লোরিডা অথবা ওহিওর মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর যে কোনো একটি ধরে রাখতে পারলেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে আর কোনো বাধা থাকবে না।

কিন্তু আশঙ্কার কথা হচ্ছে, এ তিন রাজ্যের একটিতেও যদি হিলারি জয়ী হতে না পারেন, তাহলে ভার্জিনিয়ায় জয়ের বিকল্প নেই তার। হিলারি ক্লিনটন যদি জেতেন তাহলে সেখানে থাকবে নারী, শিক্ষিত ও ল্যাটিনো ভোটারদের একটি বিশাল সমাহার। নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটে ল্যাটিনো ভোটারদের ডেমোক্রেট শিবিরে ঝুঁকতে দেখা গেছে। গত শুক্রবারে ৫৭ হাজার ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন নাভাদায়। এদের অনেকের হাতে ক্লিনটনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

এদিকে, নির্বাচনের আগে বেশ কিছু জরিপে দেখা যাচ্ছে, এগিয়ে রয়েছেন হিলারি ক্লিনটন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স-ইপসসের জরিপ বলছে, ট্রাম্পের চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে আছেন হিলারি। এনবিসি নিউজ ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত জরিপে বলা হয়, তীব্র লড়াই হতে যাচ্ছে দুই মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর মধ্যে। ওই জরিপে ট্রাম্পের চেয়ে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্রেট দলীয় প্রার্থী হিলারি।

এছাড়া এনবিসি ও সার্ভে মানকির সাপ্তাহিক এক অনলাইন জরিপ বলছে, হিলারি ৪৭ শতাংশ, ট্রাম্প ৪১ শতাংশ, জনসন ৬ শতাংশ ও স্টেইন ৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন; যা গত সপ্তাহ থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। এবিসি-ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপ বলছে, ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন হিলারি। এছাড়া বিবিসির জরিপে হিলারি ৪ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

নির্বাচনের একদিন আগে এনবিসির ব্যাটেলগ্রাউন্ড মানচিত্র বলছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্লিনটনের কলামে ২৭৪টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে; যা গত সপ্তাহ থেকে অপরিবর্তিত আছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭০ ইলেকটোরাল ভোটের চেয়ে বেশি পেয়েছেন। গত সপ্তাহে এনবিসির ওই মানচিত্রে ট্রাম্পের কলামে ১৮০ ইলেকটোরাল ভোট থাকলেও বর্তমানে তা কমে ১৭০ হয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)