মেইন ম্যেনু

উল্টো মাথা নিয়ে তেরো বছরের লড়াই! শেষ পরিণতি কী হল এই ছেলেটির?

ঘাড়ের থেকে মাথা ঝুঁকে থাকত নীচের দিকে। ঘাড় থেকে প্রায় একশো আশি ডিগ্রি কোণে নীচের দিকে এই ঝুলন্ত মাথা নিয়েই জীবনের প্রথম ১২ বছর কাটিয়ে দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা মহেন্দ্র আহিরওয়ার। কনজেনিটাল মায়োপ্যাথির শিকার ওই বালকটি নতুন জীবনের আশা দেখতে শুরু করেছিল। কারণ, ইংল্যান্ডের লিভারপুলের বাসিন্দা জুলি জোনসের সৌজন্যে মহেন্দ্রর সফল অস্ত্রোপচারও হয়েছিল। সেই অস্ত্রোপচারের আট মাসের মাথায় আচমকা মৃত্যু হল মহেন্দ্রর। যদিও অস্ত্রোপচার করে মহেন্দ্রর গলা সোজা করার পরে সুস্থই ছিল সে।

গত শনিবার দুপুরে খাওয়ার পরে নিজের বাড়িতেই টিভি দেখছিল মহেন্দ্র। সেই সময়ে আচমকাই মৃত্যু হয় তার। যে চিকিৎসক মহেন্দ্রর জটিল অস্ত্রোপচার করেছিলেন, সেই রাজাগাপালান কৃষ্ণনও এই বালকের আচমকা মৃত্যুতে হতবাক। তাঁর ধারণা, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে মহেন্দ্রর। ছেলের আচমকা মৃত্যু বিশ্বাস করতে পারছেন না মহেন্দ্রর মা-বাবাও। কারণ ছেলের সুস্থ হয়ে ওঠার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে থেকে ক্রমশ সুস্থ হয়ে উঠতে শুরু করেছিল মহেন্দ্র। স্কুলেও যাচ্ছিল সে। মহেন্দ্রর মা জানিয়েছেন, একটি দোকান খুলতে চেয়েছিল সে। দোকান খুলতে ছেলেকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তুতও হচ্ছিলেন তাঁরা। তার মধ্যেই ঘটে গেল এই বিপর্যয়।

মহেন্দ্রকে নিয়ে একটি চ্যানেলে বিশেষ তথ্যচিত্র হয়েছিল। তার পরেই এই বালকের যন্ত্রণার কথা সামনে আসে। মহেন্দ্রর জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য এগিয়ে আসেন দেশ-বিদেশের অনেকেই। তার অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ অর্থও সংগ্রহ করা হয়। মহেন্দ্রর চিকিৎসক জানিয়েছেন, অত্যন্ত সাহসী ছিল সে। আর সেই কারণেই জটিল অস্ত্রোপচারের ধাক্কা সামলে উঠেছিল বছর তেরোর এই বালক।

মহেন্দ্রর গ্রামেই তাকে সমাহিত করা হয়েছে। মহেন্দ্রর এক দাদা এবং এক বোন রয়েছে। গোটা বাড়ি জুড়েই মহেন্দ্রর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। সেই স্মৃতি আঁকড়ে আর নিজেদের দুই সন্তানকে নিয়েই এখন বেঁচে থাকতে হবে মহেন্দ্রর বাবা-মাকে। যদিও যেভাবে মহেন্দ্রর জন্য দেশ বিদেশের অসংখ্য মানুষ এগিয়ে এসেছিলেন, তাতে কৃতজ্ঞ তার বাবা-মা। কিন্তু যার জন্য এতকিছু করা, সেই মহেন্দ্রই আর থাকল না।