মেইন ম্যেনু

এই দুর্গে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এক খুনির ভয়ংকর প্রেতাত্মা

image-1

মধ্যযুগে নির্মিত শ্রিউসবেরি দুর্গ ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অসংখ্য ওঠানামার সাক্ষী। দুর্গের আনাচে কানাচে কথা বলে ইতিহাস। কিন্তু সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে এই দুর্গ উঠে এসেছে সম্পূর্ণ এক অন্য কারণে। এক সিরিয়াল কিলারের প্রেত এই দুর্গে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

শ্রিউসবেরি এলাকার এক প্রাচীন কিংবদন্তি ‘ব্লাডি জ্যাক’ নামের এক সিরিয়াল কিলারকে ঘিরে। ১২ সতক নাগাদ জ্যাক ব্লন্ডেল নামের এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে কুখ্যাত হয়ে ওঠে। জ্যাক ছিল শ্রিউসবেরি কাসল-এর রক্ষী। তার শ্রিউসবেরি আগমনের পর থেকেই স্থানীয় গ্রামগুলি থেকে একের পরে এক যুবতী নিরুদ্দেশ হতে থাকেন। জানা যায়, জ্যাকই নাকি এই মেয়েদের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে তাদের দুর্গে নিয়ে এসে ধর্ষণ করে খুন করত। তাদের দেহগুলোকে সে নিকটবর্তী সেভার্ন নদীর জলে ভাসিয়ে দিত।

জযাক এক সময়ে মেরি অ্যান নামের এক যুবতীকে টার্গেট করে। সে মেরিকে দুর্গে নিয়ে যেতেও সমর্থ হয়। মেরির বোন কোনও সন্দেহের বশে জ্যাকের কক্ষে গিয়ে পৌঁছয়। জ্যাক তখন মেরিকে হত্যা করে তার দেহ পাচারের তাল করছে। মেরির বোন সেখান থেকে তখন পালিয়ে গেলেও পরে অন্যান্য রক্ষীদের নিয়ে ফিরে আসে। জ্যাককে বন্দি করা হয়। তার কক্ষের এক চেস্ট থেকে বেশ কিছু মেয়ের কাটা আঙুল পাওয়া যায়, এগুলিকে ট্রোফি হিসেবে জ্যাক রেখে দিয়েছিল।
পরে জ্যাককে প্রাণদণ্ড প্রদান করে প্রশাসন। শ্রিউসবেরির প্রাইড হিলে তার প্রাণদণ্ড কার্য কর হয়। শোনা যায়, বিচার ও দণ্ডের সময়েও জ্যাক ছিল অবিচলিত।

গত কয়েক বছরে শ্রিউসবেরি কাসল-এ বার বার হানা দিয়েছে ব্লাডি জ্যাকের প্রেত। অনেকেই নাকি দেখেছেন, এক ছায়ামূর্তিকে কোনও ভারী কিছু মাটিতে ঘষটে নিয়ে যেতে। তথাতথিত প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওই ভারী বস্তুটি মেরি অ্যানের দেহ। এ ছাড়াও শ্রিউসবেরি দুর্গে প্রায়শই শোনা যায় নারীকণ্ঠে আর্ত চিৎকার। খবর প্রকাশিত হলে প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞ আর গোস্ট হান্টাররা সফর করতে শুরু করেন শ্রিউসবেরি। এই মুহূর্তে পর্যটন বেশ জমজমাট সেখানে।