মেইন ম্যেনু

এই ‘রাজকুমারী’র কাছে রয়েছে ৭ কোটি বছরের পুরানো ডায়নোসরের ডিম

1477478614

‘রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া’। আর এই ‘রাজকুমারী’র কাছে যা রয়েছে তা অনেককেই অবাক করে দেবে। তিনি ভারতের গুজরাতের বালাসিনোরের সাবেক রাজ পরিবারের কন্যা আলিয়া সুলতানা বাবি। কার্যত ভারতীয় ‘জুরাসিক পার্কে’র দেখভাল করেন তিনি। তাদের এলাকায় এক গ্রামবাসী মশালা গুঁড়ো করার জন্য একখণ্ড পাথর যোগাড় করেছিলেন। খবর এবিপি’র।

বালানিসোরের ‘রাজকন্যা’ সেটি দেখতে পেয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। তখনও অবশ্য সেটি কী তা জানা ছিল না। তাঁর সংগ্রহের প্রাক-ঐতিহাসিক জীবাশ্মগুলির মধ্যে রয়েছে ডায়নোসরের ওই ডিম। একদা তার পূর্বপুরুষরা যে এলাকা শাসন করতেন সেখানকার প্রাক-ঐতিহাসিক জীবাশ্ম সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সাবেক রাজকুমারী।

৪২ বছরের আলিয়া ‘ডায়নোসর-রাজকুমারী’ নামেও পরিচিত। গ্রামেরই একজনের হাতে জীবাশ্মটি দেখতে পেয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে জানতে পারেন সেটি ৯.৯০ কোটি থেকে ৬.৫০ কোটি বছর আগের টিটাননোসারাস ডিমের জীবাশ্ম। সুলতানা আদর করে বলেন, ‘মশালা ডিম’। বাড়িতে সযত্নে লাল ভেটভেটের গয়নার বাক্সে সাদা সিল্কের কাপড়ে জড়িয়ে রেখেছেন সুলতানা।

বালনিসোরের সাবেক রাজপরিবারের মালিকানাধিন ৭২ একর জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ডায়নোসরের জীবাশ্ম। ১৯৮০-র দশকে রুটিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষায় সময় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, ৬.৭০ কোটি বছর আগের পাওয়া একটি জীবাশ্মের নাম বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন রাজাসারাস নর্মদেনসিস। উল্লেখ্য, নর্মদা নদীর আশেপাশেই এই এলাকা।

ডায়নোসরের এই দীর্ঘদেহী মাংসাশী প্রজাতিটির উচ্চতা প্রায় ৩০ ফুট। দীর্ঘ গলার এই প্রাণীর মাথায় ছিল ঝুঁটিওয়ালা শিং। তৃণভোজী ডায়নোসরদেরও বিচরণভূমি ছিল এই এলাকা।স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের অনুমান, প্রায় সাতটি প্রজাতির ডায়নোসর এখানে বসবাস করত।

বর্তমানে বালানিসোর ঘুরতে যারা আসেন তাদের চোখে পড়ে এই সুবিশালাকৃতি জন্তুর ফাইবারগ্লাসের মডেল। সুলতানা কিন্তু মনে করেন, এই এলাকায় এখনও অনেক জীবাশ্ম রয়েছে।

ডায়নোসরের ফসিল হয়ে যাওয়া প্রায় ১০ হাজার ডিম এখানে পাওয়া গিয়েছে। বেশ কিছু সংখ্যক জীবাশ্ম বিভিন্ন মিউজিয়ামকে দেওয়া হয়েছে।

পার্কটি বর্তমানে সেভাবে সুরক্ষিত রাখার বন্দোবস্ত নেই। হঠাৎ করে ঘুরতে এলে কিছুই বোঝা যাবে না। সেখানে সঠিকভাবে জীবাশ্মগুলির পরিচয় লেখা নেই। তাই সেগুলিকে পাথর বলেই মনে হতে পারে। সরকারি এই জমিতে রয়েছেন মাত্র একজন রক্ষী।

কর্তৃপক্ষে নিকটবর্তী একটি জায়গায় মিউজিয়াম তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু সেটির কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। যেভাবে ঢিমেতালে এর কাজ এগোচ্ছে তাতে হতাশ স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, মিউজিয়াম গড়ে উঠলে তাদের কর্মসংস্থানও হতে পারে।

এখানে কনডাক্টেড ট্যুরোর আয়োজন করেন সুলতানা। এলাকায় জীবাশ্মগুলির সংরক্ষণে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের দ্বারস্থও হয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয়নি।

এই এলাকা ইউনেস্কো জিও পার্কের মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করেন স্থানীয়রা। কিন্তু সরকারি বিভাগগুলির সমন্বয়ের অভাবেই এ ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থাতেও শীতের মরশুমে মূলত সুলতানার উদ্যোগে কয়েক হাজার পর্যটক এখানে আসেন।

লাক্সারি টুরিস্ট ট্রেন মহারাজা এক্সপ্রেসের যাত্রীরা এখানে আসার আগে রাজপ্রাসাদে থাকতে পারেন। বিশ্বে এটাই একমাত্র এলাকা, যেখানে ডায়নোসরের ডিম হাতে তুলে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়। এমনটাই বলছেন স্থানীয় ভূতাত্ত্বিকরা।

সুলতানা বিদেশি ভূতাত্ত্বিকদের এই ফসিল পার্কে নিয়ে আসতে শুরু করেছিলেন।তখন থেকেই ডায়নোসর সম্পর্কে তাঁর আগ্রহ গড়ে উঠেছিল।