মেইন ম্যেনু

এক পা দিয়ে রাসেলের পরীক্ষার লড়াই

দুই হাত নেই। ডান পা নেই। বাঁ পা রয়েছে, তা-ও আবার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ছোট। বাঁ পায়ের দুই আঙুলের মাঝে কলম ধরে এক এক করে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর লিখে চলেছে শিশুটি। শিশুটির নাম রাসেল মৃধা (১২)। এবার নাটোরের সিংড়া উপজেলার দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে। সে সিংড়া শহরের শোলাকুড়া গ্রামের কৃষক আবদুর রহিম মৃধার ছেলে।

রোববার সকালে দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, রাসেল কয়েকটি সিট বেঞ্চের ওপর বসে আছে। সামনে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র রাখা আছে। বাঁ পায়ের দুই আঙুলের মাঝে কলম চেপে রেখেছে। প্রশ্নের ওপর চোখ বুলিয়ে পা দিয়ে কলম ঠেলে একের পর এক উত্তর লিখছে। স্পষ্ট অক্ষরে সোজা লাইনে লিখে যাচ্ছে। কোথাও কাটাকাটি করছে না। মাঝেমধ্যে কর্তব্যরত শিক্ষক এসে প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র উল্টে দিচ্ছেন। শিশুটির আশপাশেই অন্য পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে। তার দিকে অন্যরা দৃষ্টি দিলেও অন্য কারও প্রতি তার মনোযোগ নেই।

পরীক্ষা শেষে কথা হয় কেন্দ্রের সচিব বিলকিস আকতার বানুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শুধু ছোট্ট একটি পা দিয়ে রাসেল নিষ্ঠার সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে। এতে আমরা সবাই হতবাক হয়েছি। উৎসাহিত হয়েছি ছেলেটির মনোবল দেখে। সে নিজে থেকে কোনো বাড়তি সুযোগ-সুবিধা দাবি করেনি। পরীক্ষার বিধিবিধান মেনেই আমরা ওকে কিছুটা বাড়তি সময় দিয়েছি।’

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে আসা তার মা লাভলী বেগম জানান, তাঁর দুটি ছেলে। বড় ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। রাসেল জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, তাকে পড়ালেখা করাবেন না। কিন্তু রাসেলের পড়ালেখার প্রতি ভীষণ আগ্রহ। পড়ালেখা শিখে ভবিষ্যতে কিছু করতে পারবে, এমন আশা নিয়েই তাঁরা রাসেলকে স্থানীয় একটি ব্র্যাক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। সেখানকার শিক্ষক উফুন্নেছা বেগম তাকে পা দিয়ে লেখা শেখান। অভ্যাস করতে করতে এখন স্বচ্ছন্দে লিখতে পারে।

রাসেলের বাবা আবদুর রহিম পরের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করে সংসার চালান। তিনি বললেন, এক ছেলে পড়ছে। অন্য ছেলে পড়বে না, তা তো হয় না। তাই তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। পরে স্থানীয় শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই এবার সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বললেন, রাসেলের পরীক্ষা দেওয়াটা বিস্ময়কর। পড়ালেখার প্রতি তার অদম্য স্পৃহা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।