মেইন ম্যেনু

এক যুগ পেরিয়েও এমপিওভূক্ত হয়নি কলারোয়া বেত্রবতী হাইস্কুল

unnamed-4

কামরুল হাসান,কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : দীর্ঘ একযুগ পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভূক্ত হয়নি কলারোয়া পৌরসদরের বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি(ইআইআইএন-১১৮৬৫৩)। ১৯৯৫ সালে পৌরসদরের বেত্রবতী নদীর কাছাকাছি সুন্দর মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা নদীর নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ভলাফল করে আসছে।

কিন্তু দু:খের বিষয় হলো এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোপূর্বে ১৩টি ব্যাচ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সুনামের সাথে কৃতকার্য হলেও এর পিছনে যাদের অবদান সেই শিক্ষকদের মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ শিক্ষকের এখনও পর্যন্ত বেতন হয়নি। যদিও প্রায় প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় শতকরা ৯০ ভাগের ওপরে পাশের হার থাকে।

এদিকে, বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক ও ১ নৈশ প্রহরী। এই বিদ্যালয়ের এক মধ্যবয়সী শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, আমরা বোধ হয় বিনা বেতনে অবসরে যাবো। তিনি সরকারের কাছে তাঁর আকুতি তুলে ধরে বলেন, যোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনো ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্তি না হওয়াটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

এ বিষয়ে আলাপকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান সব ধরনের যোগ্যতার প্রমাণ রেখে চললেও মাধ্যমিকে বেতন হচ্ছে না। নিরন্তর সকল চেষ্টা চালিয়েও শিক্ষকবৃন্দের হাতে বেতন তুলে দিতে পারিনি। পাবলিক পরীক্ষায় নজরকাঁড়া ফলাফলের পাশাপাশি সকল জাতীয় ও আন্তজার্তিক কর্মসূচিসহ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিতে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে ধারাবাহিকভাবে। তার পরেও চরম অবহেলার শিকার হচ্ছেন সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ।

এছাড়া তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিবছর বিদ্যালয়ের মাঠটি পানিতে ডুবে থাকে। তাছাড়া জরাজীর্ণ পুরাতন টিনশেড ভবনে একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষার্থীদের ভিজে পড়ে ক্লাস করতে হয়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রায় সব সময় কোন না কোন অসুবিধার মধ্যে দারুন কষ্টে ক্লাস করে থাকে।

এ ব্যাপারে একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের অবগত করিয়েও কোনো ফল আসেনি। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই মাঠে পানি ভরে গেছে। অনেক সমস্যার সাথে জলাবদ্ধতা যোগ হয়ে দুর্ভোগ এখানে নতুন মাত্রা নিয়েছে।

দীর্ঘ এক যুগ ধরে বেতন বঞ্চিত ভুক্তভোগী শিক্ষকবৃন্দ তাদের চরম দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুততার ভিত্তিতে এমপিওভূক্তির আকুল নিবেদন জানিয়েছে।

বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দের মনে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে- আর কতবার এসএসসি পরীক্ষা দিলে মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভূক্ত হবে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে এসএসসি ও গত জেএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাশ করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়।