মেইন ম্যেনু

এখনও বিশাল পার্থক্য আছে নায়ক ও নায়িকার পারিশ্রমিকে: বিদ্যা

mjdjkmd

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা বালান।অভিনয়ের শুরু থেকে নানা কারণে বেশিরভাগ সময়েই আলোচনায় এসেছেন তিনি। অভিনয়ের এতদিন পরেও বেশ সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে জন্ম নেয়া এই অভিনেত্রী বলিউডে অভিনয়ের পাশাপাশি বাংলা, তামিল, মালয়ালম ছবিতেও অভিনয় করেছেন।যদিও ছোটপর্দা থেকেই তার যাত্রা শুরু।১৯৯৫ সালে ‘হাম পাঞ্চ’ হিন্দি কমেডি সিরিয়ালের মাধ্যমে প্রথম অভিনয়ে আসেন। অভিনয় জীবনে তিনি এ যাবৎ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে একটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং পাঁচটি স্ক্রিন পুরস্কার রয়েছে। ২০১৪ সালে ভারত সরকার কর্তৃক তাকে দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী পদকে ভূষিত করা হয়। বিদ্যা ২০১২ সালে ১৪ ডিসেম্বর ইউটিভি মোশন পিকচার্সের সিইও সিদ্ধার্থ রায় কাপুরের সঙ্গে সংসার শুরু করেন।

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবন শুরু করার আগে থেকেই ভিন্ন-ভিন্ন পেশায় ব্যর্থ হয়েছিলেন বিদ্যা। বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার পর ২০০৩ সালে তিনি ‘ভালো থেকো স্বাধীন বাংলা’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথম লাইমলাইটে আসেন। তবে চূড়ান্ত সফলতা পান ২০০৫ সালে ‘পরিণীতা’ ছবির কল্যাণে। এরপর অসংখ্য ছবিতে ভালো অভিনয় করলেও নজর কাড়েন ‘পা’, ‘নো ওয়ান কিলড জেসিকা’ ও ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ ছবির কারণে। ‘ডার্টি পিকচার’ সিনেমায় খোলামেলা অভিনয় করে আলোচিত হলেও ‘কাহানি’ ছবিতে অভিনয়ের কারণে বেশি প্রশংসিত হন বিদ্যা।

এবার কাজ করেছেন ‘কাহানি ২’ তে। আগামী ২ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। সেখানেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। কয়েকদিন আগে এ ছবির পোস্টারে ও একটি ভিডিও ট্রেলারে আলোড়ন তুলেছিলেন বিদ্যা। চমকে দেওয়া এ প্রচারণার মতো তার নতুন ‘কাহানি’তেও থাকছে চমক। এক সাক্ষাৎকারে এই অভিনেত্রী জানান, ‘আমি তো খুব ভাল ভাল চরিত্রের প্রস্তাব পাচ্ছি, তাই আমার কোনও অভিযোগ নেই। নারীকেন্দ্রিক ছবিতে অভিনয় করতে পেরে আমি খুব খুশি। প্রথাগত নায়িকা হওয়ার কোনও ইচ্ছেও আমার নেই। আর এই ছবিটাকে আমরা একটু অন্য রকম ভাবে প্রেজেন্ট করতে চেয়েছিলাম।সে জন্যই ও রকম চমকে দেওয়া পোস্টার। ‘কাহানি’ থেকে ‘কাহানি ২’ একেবারে অন্য রকম। চরিত্রগুলো আলাদা। তাদের জীবনযাপন ভিন্ন। এটা পুরোপুরি একটা আলাদা জগৎ’।

বিদ্যা বালান বলেন, ‘কাহানি’র পর আমরা একদিন আলোচনা করছিলাম ,একটা ‘কাহানি ২’ বানালে কেমন হয়? কিন্তু তেমন কোনও আইডিয়া তখন মাথায় আসছিল না। তার পরে একদিন ‘দুর্গা রানি সিং’ লিখল সুজয়। শুটিং শুরু করতে যাব, এমন সময় আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তাই আর ছবিটা এগোল না।বছরখানেক আগে সুজয় হঠাৎই একদিন জানাল, আমাকে যে আইডিয়াগুলো শুনিয়েছিল, তার মধ্যে একটার স্ক্রিপ্ট ও তৈরি করে ফেলেছে।ভাল লাগল গল্পটা। এটাই তো আমাদের পরের ‘কাহানি’।

‘কাহানি ২’ ছবির পরিচালক সুজয় ঘোষ। সিনেমায় এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন অর্জুন রামপাল। আগের মতোই সুজয় ঘোষের এই ছবিতেও থাকছেন কলকাতার এক ঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রী। ছবিতে রয়েছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, টোটা রায় চৌধুরী। এই সিনেমা প্রসঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিলেন বিদ্যা, যা প্রিয়.কমের পাঠকদের জন্য দেয়া হল।

শোনা যায়, এই ছবি নির্মাণের আগে প্রায় দেড় বছর সুজয়ের সঙ্গে আপনার ঝগড়া চলছিল। পরে সব ঠিকঠাক হল কীভাবে?
বিদ্যা: আমি একটা কফিশপে ছিলাম একদিন। হঠাৎ করেই সুজয়ের সঙ্গে দেখা। আমার দিকে পিছন ঘুরে ছিল সুজয়। আমি যে এসেছি, সেটা জানান দিতে তার পিঠে একটা চাপড় মেরেছিলাম। ঘুরে তাকাতে বললাম, চিনতে পারছ? আমরা একসঙ্গে কাজ করেছিলাম…? তখন সুজয় বলল, ‘ও হ্যাঁ, তুমিই তো সেই প্রেগন্যান্ট মহিলা তাই না’? তারপর দশ মিনিটের মধ্যেই আবার পুরনো দিনের মতো আড্ডায় মেতে গিয়েছিলাম! এটাও প্রায় এক বছর আগের গল্প। তার আগে দেড় বছর আমাদের কথা বন্ধ ছিল।

এত লম্বা সময় ধরে কথা বন্ধ থাকাটা পেশাদারিত্বের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়?
বিদ্যা: আমার স্ক্রিপ্ট পছন্দ হচ্ছিল না বলে ঝামেলাটা বেধেছিল । সুজয় ‘কাহানি’র পর যতগুলো স্ক্রিপ্ট এনেছিল, কোনটাই ভালো লাগে নি। তারপর ‘দুর্গা রানি সিং’ এর স্ক্রিপ্ট আসে। এই ছবির গল্পটা ভাল লেগেছিল। কিন্তু তখনই আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তারপর সুজয়ও রেগে গেল! সেখান থেকেই কথা বন্ধ হওয়ার ব্যাপারটা।

এবার কি ‘কাহানি ৩’ এর প্ল্যানটাও করে নিচ্ছেন?
বিদ্যা: হা হা! এটা সুজয়কেই বলতে হবে।‘কাহানি’ সিরিজের যোগ্য কিছু না ভাবতে পারলে বানিয়ে তো লাভ নেই। এই গল্পটা যখন আমাকে বলেছিল, বলেছিলাম ছবির নাম ‘কাহানি টু’ কেন, অন্য কি‌ছুও তো হতে পারে। এটা তো সিক্যুয়েল নয়। তখন আমাকে গল্পটা পড়ে দেখতে বলল সুজয়। পড়ে বুঝলাম, ছবিটায় এমন একটা ফ্লেভার আছে, যেটা ‘কাহানি টু’ নাম রাখার মত।

সিরিজ সিনেমা বলিউডে যা আছে, তাতে মূল চরিত্রগুলো একরকমই থাকে। কিন্তু এখানে বিদ্যা বালান থাকলেও চরিত্রটা আলাদা। দর্শকের সংযুক্ত করতে অসুবিধা হবে বলে মনে করেন?
বিদ্যা: এখনও পর্যন্ত যা প্রতিক্রিয়া পেয়েছি, তাতে তো মনে হয় না অসুবিধা হবে। সবাই খুবই পছন্দ করেছেন ট্রেলার-টিজার। তবে ছবিটা দেখলে বোঝা যাবে ‘কাহানি’ কেন এই ছবিরও নাম হল।

আপনি বলেছিলেন, অর্জুন রামপালের হাসি নাকি সংক্রামক। সুজয়ের সঙ্গে আপনার মজার কথা তো অজানা নয় কারও। সেটে কি প্রচুর হাসাহাসি করতেন আপনারা?
বিদ্যা: আমি আসলে এমনিই ভীষণ হাসি! অর্জুনকেও দেখি, খুব হাসে! কখনও কখনও এমনও হয়েছে, হয়তো অনেকক্ষণ চুপচাপ বসে আছে, আমিই তখন গিয়ে তাকে হাসাই! তারপর দু’জনে হাসতে শুরু করি। অর্জুনের রসিকতার বুদ্ধিমত্তা দারুণ।প্রোমোশনে গিয়ে আরও ভাল বুঝতে পারছি।সেটে তো সারাক্ষণ একটা টেনশনের আবহ থাকত।তাছাড়া প্রবল ঠান্ডায় শুটিং করেছি, আবার কাঠফাটা গরমেও! ফলে চাপে থাকতাম আমরা। কিন্তু প্রচারনায় সবাই স্বাভাবিক।

বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন কঠিন চরিত্রে কাজ করার পর তার প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনেও পড়ে…
বিদ্যা: আমি অভনিয় করার সময় চরিত্রের গভীরে ঢুকে পড়ি। ফলে প্রতিটা চরিত্রের জন্য আমাকে আলাদা করে অনেক খাটুনি দিতে হয়। এই ছবিটার প্রভাবও পড়েছে আমার উপর। একে তো চরম আবহাওয়া, তার উপর আবেগের চাপ। সবটা একসঙ্গে হলে তার একটা প্রভাব তো পড়বেই। আর সেটা আমার মধ্যে অনেকদিন থাকেও।মনে হয়, সারাজীবনই থাকবে।প্রতিটা চরিত্রেরই কিছু না কিছু আমার মধ্যে রয়ে গিয়েছে। আর এটা হয়, কারণ আমি চরিত্রগুলোকে ভালোবেসে ফেলি। তাদের গল্পগুলো ভাবি। তাই হয়তো তাদের মতো বেঁচেও থাকি মাঝে মাঝে!

মেয়েদের প্রতি বৈষম্যমূলক মনোভাবের কথা অনেকবার বলেছেন আপনি। পারিশ্রমিকের পার্থক্য নিয়েও। একক নায়িকা প্রজেক্টে কাজ করাটা কি এর একটা সমাধান হতে পারে?
বিদ্যা: তা মনে হয় না। এটা সমাধান নয়। সব ধরনের ছবিই তো বানাতে হবে। আমি বহুদিন বৈষম্যের মুখে পড়িনি, কারণ একা-নায়িকা হয়ে বহু প্রজেক্টে কাজ করছি।কিন্তু তার মানে বৈষম্য উধাও হয়ে যায়নি। এখনও বিশাল পার্থক্য আছে নায়ক ও নায়িকার পারিশ্রমিকে।তবে এখন অভিনেত্রীরা সকলেই সচেতন, ব্যাপারটা নিয়ে কথাও বলছেন খোলাখুলি, তারাও ইন্ডাস্ট্রি চালাচ্ছেন।যদিও সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি শুধু পাল্টালে তো চলবে না, সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও বদলটা আসতে হবে।