মেইন ম্যেনু

এবার রামেক হাসপাতাল ভবনে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার

rmc-bamboo_29327_1477987972

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নতুন একটি চারতলা ভবনের লিফটের পাশ থেকে দুটি বাঁশের বাতা বেরিয়ে এসেছে। বাতার ওপর থেকে টাইলস উঠে গেলে সোমবার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

এ নিয়ে হইচই শুরু হলে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান, মাসুম আল হাসান, আবু হেলাল আনসারী ভবনটি পরিদর্শন করেন।

পরে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনা যা-ই হোক না হোক না কেন, যেহেতু ভবনের ভেতর থেকে বাঁশ বেরিয়েছে সেহেতু তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে রামেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান ডা. মোসাদ্দেক হোসেনকে প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম ও তাদের একজন ভবন বিশেষজ্ঞ। তিনদিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পরিচালক।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা দাবি করেছেন, ভবন থেকে বাঁশ বের হলেও এ ঘটনায় কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ লতিফুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কোনো সমস্যা নয়। মূল ভবনের মেঝে বরাবর লিফটের সংযোগ স্থাপনে সামান্য ফাঁকা রাখা হয়। এটি নিয়ম। এই ফাঁকা জায়গাটি ঢালাই করে দেওয়া হলে লিফটের রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হয়। প্রকৃতপক্ষে রামেক হাসপাতালের নতুন ভবনের ফ্লোর এবং লিফটের দরজার মাঝে দুই ইঞ্চি পরিমাণ জায়গা আছে। সেখানে বাঁশের বাতার সাপোর্ট দিয়ে টাইলস বসানো হয়েছিল। ব্যবহারজনিত কারণে টাইলস ভেঙে যাওয়ায় সাটার দেখা যাচ্ছিল। এটি কোনোভাবেই কাঠামোগত কোনো ত্রুটি নয়। এর সঙ্গে মূল ভবনের কোনো সম্পর্কই নেই।’

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বেরিয়ে পড়া বাঁশের চারটি বাতা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনতলার লিফট ও মূল ভবনের মেঝের মধ্যে প্রায় পাঁচ ইঞ্চি জায়গা ফাঁকা অবস্থায় রয়েছে। লিফটের দরজায় দাঁড়িয়ে ওপরের দিকে চোখ রেখে দেখা যায়, সেখানেও বাঁশের বাতার ব্যবহার করা হয়েছে।

রডের পরিবর্তে বাঁশের বাতা ব্যাবহারের যৌক্তিকতা কতটুকু, জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম বলেন, সেখানে বাঁশের বাতার পরিবর্তে লোহার অ্যাংগেল বা টিনের প্লেট ব্যবহার করা যেত। তবে বাঁশের বাতা ব্যবহারেও ভবনের কোনো ক্ষতি হবে না।

‘রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ ও তদন্তের দাবি জানিয়ে পেজটিতে লেখা হয়- ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনের তৃতীয় তলায় লিফটের সামনে ভাঙা অংশে দেখা যায়, সেখানে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ওই ভবনে অবস্থানরত কয়েক শ রোগীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। যারা এ কাজ করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর আবেদন জানাচ্ছি।’

তবে রামেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, চার বছর ধরে ভবনটি ব্যবহার করা হচ্ছে। যদি বাঁশ দিয়েই ভবনটি করা হতো, তবে ভবনটি এতদিনে ভেঙে পড়ত। যেহেতু ভবনের তিনতলার লিফটের সামনের টাইলস উঠে বাঁশ বের হয়েছে, তাই আর কোথাও এমন কোনো ফল্ট আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ জন্য বিশেষজ্ঞ দ্বারা বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

২০০৮ সালে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এরপর ২০১২ সালের ১৭ জুলাই তৎকালীন স্বাস্থমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক রামেক হাসপাতালের নতুন ভবনটির উদ্বোধন করেন। চারতলা এ ভবনটি নির্মাণ করা হয় রামেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনগুলোর ঠিক মাঝখানে।

এর আগে গত এপ্রিল মাসে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের কার্যালয় ও গবেষণাগার ভবন নির্মাণে একাধিক জায়গায় লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

একই মাসে গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগারের ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি, শিক্ষার্থীদের বেঞ্চের লোহার কাঠামো (ফ্রেম) ভেঙে তা ব্যবহারের বিষয়টি প্রকাশিত হয়।