মেইন ম্যেনু

এসএমএসে উত্তর, জবি ছাত্রলীগের নেতাসহ ৪ জন কারাগারে

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে ছাত্রলীগের এক পরীক্ষার্থীসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদভুক্ত) ৮২৫টি আসনের বিপরীতে ৬৪ হাজার ৩০৬ জন আজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত একযোগে ৩১টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্রসহ ক্যাম্পাসসংলগ্ন পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুলকেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার আবদুর রহমান ও নরসিংদী সদর উপজেলার মোস্তাক আহম্মেদ নামের দুই পরীক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিসিএস কনফিডেন্স কোচিং সেন্টারে অভিযান চালায়। সেখানে দেখা যায়, দুই তরুণ জবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের উত্তর মুঠোফোনের খুদেবার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে কোথাও পাঠাচ্ছিলেন। এ সময় এক তরুণ পালিয়ে যান। আটক করা হয় জবির বাংলা বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সাইফ আহম্মেদ লিখনকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় কোচিং খোলা রাখার অপরাধে কোচিং সেন্টারের পরিচালক মফিজুর রহমান রনিকে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নে ডাবল লেয়ারিং কোডসহ কড়াকড়ি ব্যবস্থা থাকলেও প্রশ্নপত্র সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু শিক্ষক ও কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রের কাছে সরবরাহ হয়। জালিয়াতি চক্র মুঠোফোনের এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটস অ্যাপ ও ইমোর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক দুই বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন।