মেইন ম্যেনু

ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী সোমালিয়ান মুসলিম তরুণ

125653a

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহত হামলাকারীর নাম আবদুল রাজ্জাক আলী আর্তান (১৮)। তিনি একজন সোমালি বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণ যিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলায় আহত ১১ জন চিকিৎসাধীন।

আর্তান তার পরিবারের সঙ্গে ২০০৭ সালে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। গত দুই বছর ধরে পরিবারটি দেশটিতে বসবাস করছে। এর আগে তারা পাকিস্তানে ছিলেন বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আর্তান যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী অধিবাসী বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আর্তান বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি দিয়ে হামলা চালান। পরে গাড়ি থেকে বেরিয়ে মাংস কাটার বড় ছুরি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করেন। সেখানে দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন তিনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আর্তানকে গুলি করা পুলিশ কর্মকর্তার নাম অ্যালান হরুজকো। ২৮ বছর বয়সী ওই কর্মকর্তা ২০১৫ সাল থেকে ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

ক্যাম্পাস পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, হামলাকারী একাই গাড়ি চালিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে এবং তার কোনো সহযোগী ছিল না। উল্লেখ্য, হামলাকারী আর্তান নিজেও ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে, পুলিশ প্রধান কিম জ্যাকবস সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এই হামলাটিকে তিনি জঙ্গি তৎপরতা বলেই সন্দেহ করছেন। তিনি বলেন, “যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেঁটে চলার রাস্তায় সজোরে গাড়ি চালিয়ে ওই আহতদের ওপর হামলা করা হয়েছে, তাতে বোঝা যায়, এটি পরিকল্পিত হামলা। আমার ধারণা, এটি জঙ্গি হামলা হতে পারে।”

তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে। এর সঙ্গে কোনো জঙ্গি তৎপরতার সংযোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের সঙ্গে যোগ দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

উল্লেখ্য, ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাম্পাসের ওয়াটস হল ভবনের কাছে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে আর্তান সজোরে চালানো গাড়িটি শিক্ষার্থীদের ওপর তুলে দেয় বলে ওয়াইও পুলিশের প্রধান ক্রেইগ স্টোন জানিয়েছেন। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী, শিক্ষার্থীসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে কারো অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।