মেইন ম্যেনু

কম্পিউটার আমদানিতে শুল্ক বসানোর দাবি

computer

বাংলাদেশে কম্পিউটার উৎপাদনে প্রণোদনা দিতে আস্ত কম্পিউটার আমদানিতে অল্প হলেও শুল্ক বসানোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস(বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। তবে একই সঙ্গে তিনি কম্পিউটার ও ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ আমদানি আগের মত শুল্পমুক্ত রাখার কথা বলেছেন।

রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় তথ্য প্রযুক্তি নিয়ে দেশের বৃহত্তম আয়োজন ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড ২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জব্বার এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীকে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমি একদিন আপনাকে কম্পিউটার আমদানি শুল্কমুক্ত করতে বলেছিলাম। আপনি সেই আবেদন রেখেছেন, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন আমিই আপনাকে বলছি, স্বল্প হলেও শুল্ক আরোপ করা হোক। এতে করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটার উৎপাদন করতে আগ্রহী হবে। আমরা আমদানি নির্ভর জাতি হতে চাই না। আমরা চাই হার্ডওয়ার এবং সফটওয়ার উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারক জাতি হতে।’

মোস্তফা জাব্বার যখন এই কথা বলছিলেন, তখন দর্শকদের সারিতে উপস্থিত অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত চওড়া হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে এই বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কম্পিউটারের দাম জনগণের সাধ্যের মধ্যে রাখতে শুল্ক পুরোপুরি ‍তুলে দেয়। এরপর কম্পিউটার ও ল্যাপটপের দাম অনেকাংশে কমে আসে। আর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করেন।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কর্মসূচি গ্রহণ করে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ নেয়।

এখন দেশে ল্যাপটপ উৎপাদনও শুরু করেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। মোস্তফা জাব্বার বলেন, দেশে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সরকারি নীতিমালার কারণে। পুরো কম্পিউটার আমদানি শুল্কমুক্ত হলেও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। এই ভ্যাট তুলে দিতেও আহ্বান জানান বেসিস সভাপতি। বলেন, ‘এই মেলাতেই দেশীয় ল্যাপটপ দেখতে পারবেন আপনারা।’

একই অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের দাম আরও কমাতে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেটের দাম এখনও জনগণের ক্রয় সীমার মধ্যে আসেনি। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে ইন্টারনেটের দাম সবার সাধ্যের সীমার মধ্যে আনতে হবে।