মেইন ম্যেনু

কাঁচা মাছ খেয়ে জঙ্গলে বেঁচে ছিলেন তারা

mexico-britons

মেক্সিকান জঙ্গলে আটকা অবস্থায় টানা ৫ দিন। লোকালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। নেই টিকে থাকার মতো যথেষ্ট রসদ। এমন অবস্থায় মাত্র এক প্যাকেট বাদাম আর কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকার গল্প শোনালেন ব্রিটিশ তরুণী রেচেল ব্র্যাডলি।

ব্রিটেনের স্টকটন-অন-টিজ শহরের ৩১ বছর বয়সী রেচেলের সঙ্গে ছিলেন তার সহকর্মী প্লাইমাউথের অধিবাসী ৫২ বছর বয়সী আরেক ব্রিটিশ মাইক বার্জেস। তাদের সঙ্গে জিব্রাল্টার এবং মেক্সিকোর আরও দু’জন ছিলেন।

৪ জনের এই দলটি মেক্সিকোর জঙ্গলে গিয়েছিলেন পরিবেশ বিষয়ক পরামর্শ সংস্থা ‘নাইন্‌থ ওয়েভ গ্লোবাল’র পক্ষ থেকে এলাকাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু ইউকাটান উপত্যকায় ঝর্ণা আর জলাভূমির এক ‘গোলকধাঁধা’র মতো জায়গায় গত ১৭ অক্টোবর তাদের দু’টো কেনুই (বিশেষ ধরণের ডিঙি নৌকা) ডুবে যায়।

রেচেল জানান, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ঝর্ণা আর জলাভূমির পানিতে অস্বাভাবিক তীব্র স্রোত ছিল। সেই স্রোতের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যান তারা। কেনুর সঙ্গে ডুবে যায় তাদের সব পোশাক, খাবার আর যোগাযোগের সরঞ্জাম। ওই অবস্থায় নিরাপত্তার খাতিরে দিনের বেশিরভাগ সময়ই তাদের কাটাতে হতো গাছের ওপরে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে রেচেল বলেন, “পানি দ্রুত থেকে আরও দ্রুত বয়ে যাচ্ছিল, এবং একটা সময় আমরা বুঝতে পারলাম আমাদের আর ফেরার উপায় নেই। একে একে দু’টো নৌকা হারিয়ে আমরা পায়ে হেঁটে জঙ্গল থেকে বের হতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বুঝতে পারলাম ওই মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ কাজ হলো হাঁটা থামিয়ে সাহায্যের জন্য কোথাও অপেক্ষা করা।”

সঙ্গে থাকা এক প্যাকেট এমঅ্যান্ডএম চকোলেট প্রথম সন্ধ্যায়ই চারজনে মিলে শেষ করে দিলেন রেচেলরা। পরদিন থেকে সাথে থাকা এক ব্যাগ বাদাম ভাগ করে খাওয়া শুরু করলেন – একেক বসায় জনপ্রতি ৫টা বাদাম। আর পানি পান করতেন নদী থেকে।

“তৃতীয় দিন থেকে আমার সহকর্মীরা একটা পরিচিত স্থানীয় ফল খেতে শুরু করেন আর আমার একমাত্র সম্বল মশারিকে জাল বানিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। শুধু মাথাটা কেটে আমরা পুরো মাছটা গিলে ফেলতাম।”

পাম বনসহ আশপাশে বন থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজতে গিয়ে কমবেশি আহতও হয়েছেন সবাই। রেচেল পায়ে আঘাত পান। তাই নিরাপদ একটা জায়গা দেখে সাহায্যের আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন।

টানা ৫ দিন এভাবে কাটানোর পর অবশেষে স্থানী একটি উদ্ধারকারী দল তাদের খুঁজে পায় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠা রেচেল এবার অভিযানে বেরিয়েছেন মেক্সিকোর উসুমাচিন্তা নদীতে।