মেইন ম্যেনু

কাটছে না ধোঁয়াশা : ঝুলছে সিটিসেল, ঝুলছে গ্রাহকরাও

সরকারের পাওনা পরিশোধ না করায় দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বৃহস্পতিবার সিটিসেলের তরঙ্গ বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকসেবা বন্ধ থাকলেও চলছে প্রধান কার্যালয়ের দাফতরিক কর্মকাণ্ড। ফলে অপারেটরটির পুনরায় চালু হবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আর এর সঙ্গে গ্রাহকেরাও ঝুলে রইল অনিশ্চয়তায়।খবর পরিবর্তনের।

সিটিসেল অপারেটর ব্যবহার করেন এমন কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা হলে তারা বিপাকে পড়ার কথা জানান।

কথা হয় বাচ্চু নামে এক ক্ষু্দ্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি প্রায় দশ বছর ধরে সিটিসেল ব্যবহার করি। তাহলে বোঝেন কত মানুষের কাছে আমার এই নম্বর আছে। এখন আমি নতুন নম্বর নিলে যাদের কাছে আমার আগের নম্বর রইছে তারা আমারে কেমনে পাবে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন গ্রাহক জানান, দোষ করছে কোম্পানি আর ভুগছি আমরা। দেখেন আমাদের কাছে তো আর কোম্পানি টাকা পাবে না। তাহলে কেন তারা টাকা পরিশোধ করলেন না? তাদের ভুলের মাশুল আমরা কেন দেব? এসব বলে লাভ নেই। সব ভোগান্তি জনগণকেই সইতে হয়।

তিনি বলেন, এই যে সিটিসেল বন্ধ হলো। বন্ধ থাকবে না কি আবার চালু হবে এটা কিন্তু আমরা জানি না। যেহেতু এখন এটি বন্ধ সেহেতু আমাকে কিন্তু বিকল্প হিসেবে আরেকটি নাম্বার নিতে হবে। তারপর আবার যদি চালু হয় তখন কী করব? বাড়তি আরেকটি মোবাইল নিয়ে ঘুরব? প্রশ্ন করেন তিনি।

শনিবার রাজধানীতে সিটিসেলের কয়েকটি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলো বন্ধ রয়েছে। অবশ্য অপারেটরটির মহাখালীর অফিস খোলা পাওয়া যায়। কিন্তু অফিসে কোনো কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি।

সেখানে কথা হয় কয়েকজন সিকিউরিটি গার্ডের সঙ্গে। তারা জানান, সরকারি ছুটির দিন স্যারেরা অফিসে আসেন না। কালকে আসলে পাইতে পারেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সিটিসেলে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি ছুটির দিন সাধারণত হেড অফিস ছাড়া অন্য অফিসগুলো বন্ধ থাকে। আজকে তারই অংশ হিসেবেই অফিসগুলো বন্ধ রয়েছে। অন্য কোনো কারণে নয়।

কর্মকর্তারা জানান, পাঁচ মাস আগে আমাদের যে অবস্থা ছিল এখনও সেই অবস্থাতেই আছে। বিটিআরসি আমাদের তরঙ্গ বন্ধ করে দিয়েছে মানে এই নয় যে, আমাদের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের অফিসিয়াল সব কার্যক্রম আগের মতোই চলছে। শুধু গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছেন না।

তাদের একজন বলেন, কিছু গণমাধ্যমে দেখলাম বলছে সিটিসেল অফিস সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আসলে এ তথ্যটি সঠিক নয়। অফিস সিলগালা করা হয়নি। গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার কাজ বন্ধ থাকলেও আমাদের অফিসিয়াল কাজ চলমান আছে।

তারা আরো জানান, প্রতিষ্ঠান বন্ধ হবে কি না এ বিষয়ে এখনও আমাদের কিছু জানানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত কী হয় তা আমরা এই সপ্তাহের মধ্যেই জানতে পারব।

বকেয়া পাওনার কথা জানতে চাইলে তারা জানান, বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে। তারপরও ক্যাটাগরি অনুযায়ী একেক জনের একেক ধরনের বকেয়া পাওনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে সমস্যা হবে কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, সমস্যা তো হবেই। একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে তাদের চাকরি আর থাকবে না। তখন তাদের নতুন কর্মসংস্থান খোঁজা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। ম্যানেজমেন্ট হয়ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।

গ্রাহকদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, কী আর করা। গ্রাহকরা চলতি নাম্বার ব্যবহার কারতে চাইলে শেষের ডিজিটগুলো ঠিক রেখে অন্য অপারেটরদের নাম্বার ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়াতো কোনো উপায়ও দেখছি না।

সিটিসেল প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইলে বিটিআরসির সচিব ও মুখপাত্র মো. সারওয়ার আলম জানান, এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় বিস্তারিত বলে দিয়েছেন।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা র‌্যাব-পুলিশ নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালীতে কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে বন্ধের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেন।

সেদিন সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানান, বিটিআরসির বকেয়া না দেওয়ায় সিটিসেলের তরঙ্গ স্থগিত করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও টেলিটক এ পাঁচটি মোবাইল ফোন অপারেটর সক্রিয় রইল।