মেইন ম্যেনু

কাঠকয়লার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতা

activated-charcoal

আপনি হয়তো ফেস ক্রিম বা ফেস ওয়াশের বিজ্ঞাপনে সক্রিয় কাঠকয়লার কথা শুনেছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন এই সক্রিয় কাঠকয়লার আরো অনেক উপকারিতাও আছে। সক্রিয় কাঠ কয়লা বহুকাল আগে থেকেই সাপের কামড়, রাসায়নিক বা ঔষধের বিষক্রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে এবং পানির ফিল্টারের একটি সাধারণ উপাদান হচ্ছে সক্রিয় কাঠকয়লা। বর্তমানে এক্টিভেটেড চারকোল ফার্মেসিতে ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়। সাধারণ কাঠকয়লা থেকে সক্রিয় কাঠকয়লা ভিন্ন হয়। সক্রিয় কাঠকয়লা মানুষের হজম উপযোগী ও স্কিনকেয়ার পণ্য প্রস্তুতের জন্য উপযোগী করে অক্সিজেনের সাথে কার্বন যুক্ত করে তৈরি করা হয়। চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সক্রিয় কাঠকয়লার স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য উপকারিতার বিষয়ে।

১। দাঁত সাদা করতে

সক্রিয় কাঠকয়লা শুধু দাঁত সাদা করতেই সাহায্য করেনা বরং মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সাহায্য করে pH এর ভারসাম্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে। এছাড়াও ক্যাভিটি, নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ ও মাড়ির রোগের যত্ন নিতে সাহায্য করে সক্রিয় কাঠকয়লা। এটি টুথপেস্টের মত ব্যবহার করতে পারেন অথবা টুথপেস্টের সাথে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন। এটি ব্যবহারের পর মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলবেন এবং সপ্তাহে ৩-৪ বারের বেশি ব্যবহার করবেন না।

২। এলকোহলের বিষক্রিয়া দূর করতে

সক্রিয় কার্বন অনেক বেশি শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রসাধন উপাদান। এটি শরীর থেকে এলকোহল শোষণ করেনা কিন্তু বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে এমন বিষাক্ত উপাদান দ্রুত সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা রাখে।

৩। দাগহীন ও ব্রণহীন ত্বকের জন্য

সক্রিয় কার্বন ব্রণ নিরাময়ে অত্যন্ত কার্যকরী এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এর বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করার ক্ষমতাটি ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রে অনেক বেশি উপকারী। তৈলাক্ত ও ব্রণ প্রবণ ত্বকের জন্য এটি আদর্শ উপাদান। ব্রণ দূর করার পণ্যে সক্রিয় কাঠকয়লা প্রধান উপাদান হিসেবে থাকে। ব্রণ দূর করা ছাড়াও ত্বকের ধুলোময়লা ও বিষাক্ততা দূর করতেও সাহায্য করে এবং পোকামাকড়ের কামড়ের অস্বস্তি ও র‍্যাশ মুক্ত হতেও সাহায্য করে সক্রিয় কাঠকয়লা। ত্বকের এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সক্রিয় কাঠকয়লার গুঁড়ার সাথে নারিকেল তেল বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে হবে। মুখে লাগানোর ক্ষেত্রে ফেসপ্যাকের সাথে মিশিয়ে অথবা অলিভ ওয়েলের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন।

৪। বিষমুক্ত পরিপাক তন্ত্র

পরিপাক তন্ত্রকে পরিষ্কার করতে এবং অন্ত্রের গ্যাস কমতে সাহায্য করে সক্রিয় কাঠ কয়লা। জাঙ্কফুড ও ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে পাকস্থলীতে বিষাক্ত উপাদান জমা হতে থাকে, যা দূর করতে পারে এই ম্যাজিকেল পাউডারটি। এজন্য আপনি এক্টিভেটেড চারকোলের ট্যাবলেট গ্রহণ করতে পারেন। যদি দীর্ঘদিন যাবত পরিপাক তন্ত্রের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে একজন ডায়েটিশিয়ানের সাথে কথা বলে সক্রিয় কাঠকয়লা গ্রহণের সঠিক মাত্রা জেনে নিতে পারেন।

৫। কোলেস্টেরল কমায়

চিকিৎসা গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর জন্য অন্য যেকোন ঔষধের চেয়ে সক্রিয় কাঠকয়লা অনেক বেশি কার্যকরী। তাই যারা উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন তারা সক্রিয় কাঠকয়লা সেবন করতে পারেন।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া :

সক্রিয় কাঠকয়লা ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে চুম্বকের মত কাজ করে বলে পুষ্টি উপাদানও শোষণ করে নিতে পারে। তাই খাওয়ার ৯০ মিনিটের মধ্যে এটি গ্রহণ করা উচিৎ নয়। আপনি যদি কোন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে থাকেন তাহলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সময় সক্রিয় কাঠকয়লা গ্রহণ করবেন না। আপনি যদি কোন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ঔষধ গ্রহণ করে থাকেন তাহলে সক্রিয় কাঠকয়লা সেবনের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নিতে হবে।