মেইন ম্যেনু

কিশোরকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে নগ্ন করে মজা দেখল কলকাতার রাস্তা

28

রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্টে প্রথমেই পিছমোড়া করে বেঁধে ফেলা হল হাত। ওই অবস্থায় কিশোরকে বিবস্ত্র করে ‘উলঙ্গ মজা’ দেখলেন স্থানীয় এবং পথচারীদের অনেকে।

ত্রস্ত, ক্রন্দনরত কিশোরের এটা ছিল ‘কথা না শোনার শাস্তি’। শাস্তির ধরন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শাস্তিদাতার হাস্যবিস্মিত উত্তর, ‘‘কই, তেমন তো কিছু করিনি। এটা আর এমন কী!’’

উত্তর কলকাতার শশিভূষণ দে স্ট্রিটে বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই ঘটনার ছবি শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে ‘এবেলা’য়। এদিন ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে ফুটপাথবাসী ওই কিশোরকে দোকানের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখতে বলেছিল পাড়ার মুরগির মাংসের দোকানের মালিক ছোটু।

তার কথা অগ্রাহ্য করাতেই নাকি ছোটু ওই কিশোরকে বেঁধে শাস্তি দেয়। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ছোটু প্রথমে অবাকই হয়। তারপরে বলে, ‘‘আমাকে গালাগালি দিয়েছিল বলেই এটা করেছি। এ আর এমন কী শাস্তি! কিছুই তো করিনি।’’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ল্যাম্পপোস্টে বাঁধার সময়েই তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বহুবার আকুতি করেছিল ওই কিশোর। জবরদস্তি করেই তাকে বেঁধে ফেলে ছোটু। তাকে বিবস্ত্র করার সময়ে ওই কিশোর কেঁদে ফেললেও কেউ কান দেয়নি। প্রসঙ্গত, ওই কিশোরের বাবা ওই এলাকাতেই ভ্যান চালান।

৩৭/১ শশিভূষণ দে স্ট্রিটের লক্ষ্মী ফুড সেন্টার নামে এক দোকানের সামনের ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল ওই কিশোরকে।

ওই দোকানের মালিক এদিন বলেন, ‘‘আমি কিছুই দেখিনি।’’ ওই ফুটপাথের আরেকটি দোকানের মালিক রাধে মাসী ওই কিশোরের গায়ে মাখাবেন বলে পাশের পানের দোকান থেকে একদলা চুন এনেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘একটু মজা করেছিলাম। এটা যে অন্যায়, পুলিশ কেস হতে পারে, তা জানতাম না।’’

তবে পরে হলেও স্থানীয়মহলে ওই ঘটনার প্রতিবাদও হয়েছে। এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, ‘‘এটা লজ্জাজনক। যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তি চাই।’’ স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্য নূপূর ঘোষ বলেন, ‘‘ফুটপাথবাসী গরিব বলেই এই সাহস পেয়েছে। এটা শিশু অধিকার-রক্ষা আইনে জঘন্য অপরাধ।’’ তবে, ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী মুচিপাড়া থানায় এই অপরাধের খবর এখনও পৌঁছয়নি।