মেইন ম্যেনু

কিশোরগঞ্জে এলজিএসপি-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

অনিয়ম ও দুর্নীতি durniti

খাদেমুল মোরসালিন শাকীর, কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় লোকাল গর্ভন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি)-২ এর আওতায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১১৯টি প্রকল্পের মধ্যে কিছু প্রকল্পের যেমন তেমন ভাবে কাজ করা হলেও বেশির ভাগ প্রকল্পের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এ উপজেলার এলজিএসপি-২ প্রকল্প নিয়ে সংবাদকর্মীরা প্রতিটি ইউনিয়নের সচিবদের নিকট প্রকল্পে নাম সহ কাজের বিবরন জানতে চাইলে তারা এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ওই সব প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহে তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত ফর্মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সংবাদকর্মীরা এ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী অনুসন্ধান করে দেখা যায় ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১১৯টি প্রকল্পে মোট বরাদ্দ দেয়া হয় এক কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার ৮৪ টাকা । এর মধ্যে বড়ভিটা ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্পে ১৬ লাখ,পুটিমারী ইউনিয়নে ১৩টি প্রকল্পে ২০লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০, নিতাই ইউনিয়নের ১৯টি প্রকল্পে ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৩২০,বাহাগিলি ইউনিয়নে ২৮টি প্রকল্পে ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৩৮৫, চাঁদখানা ইউনিয়নে ১৩টি প্রকল্পে ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৩৯,কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১৭টি প্রকল্পে ২৩ লাখ ৬০ হাজার,রণচন্ডি ইউনিয়নে ১০টি প্রকল্পে ১৭ লাখ,গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে ২১ টি প্রকল্পে ২৬ লাখ ও মাগুড়া ইউনিয়নে ১৩টি প্রকল্পে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্প সমুহের মধ্যে রয়েছে হত দরিদ্রদের মাঝে রিং স্লাব সহ ল্যাট্রিন বিতরন, ইউ ড্রেন নির্মান,এইচবিবি পাকা রাস্তা নির্মান, ওয়াড ভিত্তিক শিক্ষা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃতকরন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,রাস্তা আধাপাকা করন, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কক্ষ মেরামত ও ল্যাটিন স্থাপন,কমিউনিটি ক্লিনিকের বারান্দা সহ বসার স্থান নির্মান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জোড়া ব্রেঞ্চ সরবরাহ করন, ডিজিটাল সেন্টারে ফটোকপি মেশিন সরবরাহ এবং মালামাল ক্রয়,পাবলিক টয়লেট নির্মান, ছোট কালর্ভাট নির্মান,মহিলাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষন,নদীর বাধ রক্ষায় গাইড ওয়াল নির্মান, রাস্তার পার্শ্বে যাত্রী ছাউনী সহ বিভিন্ন প্রকল্প ।

সোমবার এ ব্যাপারে উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজলার রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান গত ১০ নভেম্বর উপজেলা সম্বয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তিনি এলজিএসপি-২ প্রকল্প কাজের ইউপি সচিবদের অনিয়মের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি তদন্ত টিম গঠনের দাবি করেন। তিনি বলেন এই উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউপি সচিবগন ব্যাপক অনিয়ম করেছে। ওই বরাদ্দকৃত টাকায় নামমাত্র কাজ করে ইতোমধ্যেই সমূদয় টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

তবে পুটিমারী ইউপি সচিব আনোয়ার বেগম জানান, তার ইউনিয়নে ১৩টি প্রকল্পের ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ১২টি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে পারেননি। শুধু মাত্র ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে কালিকাপুরে ইউ-ড্রেন নির্মান করতে পেরেছেন। বাকী কাজ তিনি করতে না পারায় ওই সব প্রকল্পের অর্থ ব্যাংকে জমা রয়েছে।

বড় ভিটা ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্পের মধ্যে ২টি প্রকল্পের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। প্রকল্প গুলো হলো চার লাখ ৯৫ হাজার টাকার ৪ নম্বর ওয়াডের পশ্চিমপাড়া বড় জামে মসজিদ হতে দিঘিরপাড় পর্যন্ত এইচবিবি পাকা রাস্তা তৈরী করন ও এক নম্বর ওয়াডে দুই লাখ ২০ হাজার টাকায় ডালিয়া – রংপুর রাস্তা হতে ক্যানেল পর্যন্ত ইটের আদলা(খোয়া) দারা রাস্তা নির্মান।

রণচন্ডি ইউনিয়নে ১০টি প্রকল্পের মধ্যে ৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানো হয়। এখানকার ইউপি সচিব মফিজুল ইসলাম জানান ১০ প্রকল্পের জন্য ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ব্যাংকে টাকা পাওয়া যায় ১০ লাখ। ওই টাকায় স্কুল কলেজে বেঞ্চ সরবরাহ, কমিউনিটি ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এটি তিনি করেননি। পূর্বের ও পুনরায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোকলেছার রহমান বিমান নিজে করেছে। এখানে তার কোন হাত ছিল না।

এদিকে রনচন্ডি সামছুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ব্রেঞ্চ সরবাহের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দকৃত টাকায় নিম / মেহগনী কাঠের বেঞ্চ দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবায়নকারী কতৃপক্ষ অপরিপক্ক বট কাঠের ৫৪ সেট বেঞ্চ সরবরাহ করে। যা ইদানিং ঘুনে ধরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ওই মাদ্রসার সুপার আজহারুল ইসলাম বট কাঠের বেঞ্চ দেয়ার কথা স্বীকার করেন। এসব প্রকল্প এলাকার গণ্যমান্য বাসিন্দারা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও ব্যাপক ঘাপলার অভিযোগ করেন।

উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের একই অবস্থা। এলাকাবাসী জানায় সরকার উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। সরকার যদি কঠোরহস্তে সুষ্ঠভাবে তদন্ত করলে দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়ে যাবে।