মেইন ম্যেনু

হুমকির মুখে পড়েছে সেচ ব্যবস্থা

কিশোরগঞ্জে সাইফোন ও সেচখালের ইট চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি॥ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের মুশরুত পানিয়াল পুকুর গ্রামের সাইফোন ও সেচ খালের ইট খুলে নিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় নির্মিত সাইফোন ও সেচ খালটি হুমকির মুখে পড়েছে। গত ২৫ অক্টোবর গ্রাম পুলিশ অহিদুল হক ও ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম চুরি যাওয়া ৬শত ইট উদ্ধার করে চোর আটক করলেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে চোরকে ছেড়ে দেয়। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে সেচ প্রদানের জন্য চাড়ালকাটা নদীতে একটি সাইফোন দিয়ে বড়ভিটা প্রধান খাল থেকে খাতামধুপুর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার এস সেভেনটি সেচখাল নির্মান করা হয়।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে,সাইফোন ও সেচখালে এক লক্ষ ইট ব্যবহার করা হয়। এই ব্যবহৃত ইটগুলো সংঘবদ্ধ চক্রের হোতা মুশরুত পানিয়াল পুকুর বাঁশবাড়ী গ্রামের আব্দুল হামীদের ছেলে জেয়ারুল হক ও আব্দুল জলিল রাতের অন্ধকারে খুলে নিয়ে গিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। ইট চোরের হোতা জেয়ারুলকে গত ২৫ অক্টোবর ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ ও ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম এস ডব্লিউ নামের ৬শত ইট চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের হাতে নাতে আটক করে। পরে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। স্থানীয়রা জনান,সাইফোন ও সেচখালে লক্ষাধিক ইট ব্যবহার করা হলেও এখন সেখানে ১০হাজার ইটও নেই। ইটসহ চোর আটককারী ৪নং ওয়ার্ড সদস্য শফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের চুরি যাওয়া ৬শত ইটসহ চোরকে আটক করে ওই সাইফোন ও সেচখালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের হাতে দেয়ার পর চোরকে ছেড়ে দেয়। এমনকি আজ পর্যন্ত কোন আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করছে কিছু ব্যক্তি। নিতাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারূক উজ জামানের সাথে কথা হলে তিনি ঘটনার বিষয় স্বীকার করে বলেন, এটি আপোষ মিমাংসার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোডের্র সাব ডিভিশনাল কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন,বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় কমিটিকে জানিয়েছি। সমন্বয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান ট্রেনিংয়ে থাকায় ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। তিনি আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।