মেইন ম্যেনু

কিশোরীকে কুপিয়ে বখাটের থানায় আত্মসমর্পণ

big-790x425-px-20161120203053

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মুনিয়া আক্তার (১৫) নামে এমইপি কারখানার এক কিশোরী শ্রমিককে কুপিয়ে জখম করে পরে থানায় গিয়ে আত্নসমর্পণ করে মো. মনির হোসেন (২৫) নামে এক বখাটে যুবক। রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর কলাপট্টি নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এতে মুনিয়ার দুই পা ও ডান হাত জখম হয়।

অভিযুক্ত মনির হোসেন নগরীর কলাপট্টি এলাকার ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে ও ফলের আড়তের শ্রমিক।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুনিয়া বলেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মনির তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। এনিয়ে মাস ছয়েক আগে স্থানীয় কাউন্সিলর মনিরকে শাসিয়ে দিলে কিছু দিন নিশ্চুপ থাকার পর মাস খানিক ধরে ফের উৎপাত শুরু করে। রোববার দুপুরে কারখানায় ডিউটিতে যাওয়ার পথে কলাপট্টি ব্রীজের গোড়ায় পৌঁছেলে মনির তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়ে সঙ্গে যেতে বলে। কিন্তু এতে সে রাজি না হওয়ায় মনির তার হাত ধরে টানাটানি করে।

মুনিয়া আরো জানায়,একপর্যায়ে মনির তাকে লাঠি দিয়ে বেধড় পেটায়। এরপর পাশের দোকান থেকে দা এনে দুই পায়ের রগ কাটতে কোপ দেয়। পরে মুখে কোপ দেয়ার সময় হাত দিয়ে ঠেকালে ডান হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। এসময় সে চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে মনির পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মুনিরার মা শিউলী বেগম বলেন, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হবার পর বখাটে মনিরের কারণে স্কুল যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এমইপি কারখানায় কাজ নিলেও মনিরের উৎপাত থেকে রেহাই মেলেনি। নেশাগ্রস্থ মনির ওর প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেছে বলে জানান শিউলী বেগম।

মনির বলেন, আমার সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার পরও আমাকে অস্বীকার করতে চাইলে আজকের এই ঘটনার সৃষ্টি। দা দিয়ে কোপানো নয়, কলমি লতার ডাল দিয়ে মুনিয়া আক্তারকে কয়েকটা আঘাত করেছেন মাত্র। এসময় তিনি নেশা বলতে কেবল গাঁজা সেবন করেন বলে স্বীকার করেন। আর প্রথম স্ত্রী ব্রেইনস্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে জানায়।

শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, আহত মুনিয়া আক্তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত এবং এখানেই চিকিৎসা সম্ভব। রোগির দুই পায়ে এবং ডান হাতের আঙ্গুলে সেলাই দিতে হয়েছে। তবে পায়ের রগের কোন ক্ষতি হয়নি।

পুলিশ জানায়, কিশোরীকে কুপিয়ে আহত করার প্রায় এক ঘণ্টা পর মনির থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন। মনির হামলার কথা স্বীকার করে দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে ওই কিশোরী অনেক টাকাপয়সা হাতিয়ে নিয়ে এখন তাঁকে পাশ কাটিয়ে আরেক ছেলেকে বিয়ে করতে চাইছে। এই আক্রোশে মুনিয়াকে তিনি কুপিয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমীন বলেন, অভিযুক্ত মনির থানায় গিয়ে নিজেই ধরা দেন এবং তিনি কিশোরীকে কুপিয়ে আহত করার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।