মেইন ম্যেনু

কী চমক থাকছে আ.লীগের সম্মেলনে

33

দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। সভাপতির পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছিলেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। তবে সে আলোচনা আপাতত বন্ধ। তবে দ্বিতীয় প্রধান পদ সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন- এ নিয়ে শেষ মুহূর্তে শোনা যাচ্ছে পরিবর্তনের সম্ভাবনা।

শনি ও রবিবারের জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে উত্তেজনা মূলত সাধারণ সম্পাদক পদে সবশেষ গুঞ্জন নিয়েই। বিশেষ করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরের অনুসারীরা ভীষণভাবে উত্তেজিত। আগেভাগেই এই নেতাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় এমনকি মিষ্টি বিতরণও করেছেন তারা।

তাহলে ওবায়দুল কাদেরের পদোন্নতি কি নিশ্চিত? আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, জাতীয় সম্মেলন শেষের দিন রবিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে এই গুঞ্জনটিই প্রায় নীরস একটি সম্মেলনটিকে কেবল দলের বিষয় হিসেবে না রেখে গোটা দেশের আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, দলের সম্মেলনে কারা নেতৃত্ব পাবেন, কারা পদোন্নতি পাবেন সে নিয়ে জল্পনা কল্পনা বা কথাবার্তা যাই থাক, একটি চমক অবশ্যই দেবেন শেখ হাসিনা। তবে সেটি কী-সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ রাতে জানিয়েছেন, সম্মেলনে কী চমক থাকছে সেটা জানেন দলীয় সভাপতি আর তিনি।

নেতারা বলছ্নে আওয়ামী লীগের বিগত সম্মেলনগুলোর প্রত্যেকটিতেই কোনো না কোনো নতুনত্ব দেখিয়েছেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। সেটা কখনো করেছেন বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে আবার কখনো ত্যাগী ও কর্মঠ নেতাদের মূল্যায়নের মাধ্যমে। তারুণ্যনির্ভর ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়িয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। এবারও ব্যতিক্রম হবে না।

সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের পরেই আওয়ামী লীগ নেতারা বলছিলেন, সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের তেমন কোনো সম্ভাবনাই নেই। কিন্তু দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা কাউন্সিলরদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান করার পরই দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে নানা গুঞ্জন।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ছয় বছর পর শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আগেই তাকে দলের সভাপতি নির্বাচন করেছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে অসংগঠিত দলকে সংগঠিত করে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। কিন্তু ইদানীং শেখ হাসিনা বলছেন, তিনি ক্লান্ত। সরকার পরিচালনা করে দলে দূর থেকে উপদেষ্টা হিসেবে থাকতে চান।

এক দিন বা একবার নয়। দুটি অনুষ্ঠানে আলাদা বক্তব্য জোর দিয়েই শেষ হাসিনা বলেছেন, দলের নেতৃত্বে আর থাকতে চান না তিনি। বলেছেন, ‘৩৫ বছর হলো, আর কতো’।

এরপর বুধবার রাত থেকে দলের মধ্যে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন হচ্ছে এবার। দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদেরকে প্রস্তুতি নেয়ার কথা বলছেন। তার অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচার চালাচ্ছেন, দলের সাধারণ সম্পদক পদে তিনিই প্রথম পছন্দ। ওবায়দুল কাদেরকে তার ঘনিষ্ঠজনদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বলেছেনও সে কথা।

আলোচনার সবশেষ খোরাক জাতীয় নেতা তাজউদ্দিন আহমেদের ছেলে সোহেল তাজকে ঘিরেও। গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় সোহেল হঠাৎ করেই সম্মেলনের দুই দিন আগে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের বাসায় গিয়েছেন, কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে কী নিয়ে বৈঠক হয়েছে সেটা জানা যায়নি। তবে ছবিটি প্রকাশ হয়েছে এবং ছড়িয়েছে তা বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ গতিতেই। আর শেষ মুহূর্তে গাজীপুর থেকে কাউন্সিলরও হয়েছেন তিনি। অভিমানে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়া সোহেলও কি দলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ পাচ্ছেন-এই আলোচনাও দলের ভেতরে বাইরে পাচ্ছে গুরুত্ব।

নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ একদিকে ক্ষমতায় আসীন, অন্যদিকে জাতির জনকের আদর্শে গড়া সংগঠন। দলীয় সম্মেলনে চমক থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের কমিটি সাজানো, ভবিষ্যৎ কার্যপদ্ধতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রে সংযোজন-বিয়োজনের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আমি ঠিক চমক কথাটা বলবো না। তবে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সব সময় নতুনত্ব থাকে। প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের কর্মচঞ্চলতা দিয়েই আমাদের সম্মেলন হয়। এবারও আপনারা তাই দেখবেন। তাই অপেক্ষা করুন, দেখুন কী হয়।’



« (পূর্বের সংবাদ)