মেইন ম্যেনু

কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে না.গঞ্জ সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা

123

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাকিয়ে আছেন নিজ নিজ দলের প্রধানদের দিকে। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাই এখানে আওয়ামী লীগের দুইজন হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় দলের সাধারণ নেতাকর্মীরাও রয়েছেন দো’টানায়। অন্যদিকে, বিএনপি আদৌ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে না হওয়ায় জোরালোভাবে মাঠে নামছেন না নেতাকর্মীরা। গত সিটি নির্বাচনে ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বিএনপি তাদের দলীয় প্রার্থী তৈমুরকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়ার কারণে এবার নিজ উদ্যোগে কোনও প্রার্থী সরব হচ্ছেন না।খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি নারায়ণগঞ্জ সিটির দ্বিতীয় ভোট। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে সিটি করপোরেশন গঠনের পর ওই বছরের ৩০ অক্টোবর সেখানে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও আওয়ামী লীগ শামীম ওসমানকে ও বিএনপি তৈমূর আলম খন্দকারকে সমর্থন দেয়। আর বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়ে মেয়র হওয়া সেলিনা হায়াত আইভী ওই নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হন। তিনি এক লাখেরও বেশি ভোটে শামীম ওসমানকে পরাজিত করে প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। আর ভোটের মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে তৈমূর আলমকে সরিয়ে দেয় বিএনপি। ওই সময়ে তৈমূর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমাকে গোসল ছাড়াই কোরবানি দেওয়া হয়েছে।’

সে নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন সরাসরি আইভীর পক্ষে কাজ করলেও ২০১৪ সালের জুন থেকে তিনি প্রভাবশালী ওসমান পরিবারপন্থী বনে গেছেন। সঙ্গে নিয়ে গেছেন জেলা কৃষক লীগের সেক্রেটারি রোকনউদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি জিএম আরাফাতসহ ১০-১২ জন নেতাকে, যারা একসময় ছিলেন ওসমান পরিবারবিরোধী।

এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সোমবার বিকাল থেকেই সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। কারণ গত কয়েক মাস ধরেই কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনের জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার তফসিল ঘোষণার পর থেকে অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যানার ফেস্টুনের কাজটিও শেষ করেছেন। ফেসবুকে চালাচ্ছেন প্রচারণা।

তবে একেবারেই ‘চুপ’ হয়ে আছেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার, সাবেক এমপি আবুল কালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইলের নাম এখন পর্যন্ত শোনা গেছে।

এদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনকে গত ২১ জুলাই নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেন যেখানে এমপি শামীম ওসমান উপস্থিত থেকে সেই সমর্থনকেও দৃঢ় করেন। সবশেষ গত ২৯ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশেও আনোয়ার হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে সবার সমর্থন চান। ওই সমাবেশে এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘যদি আনোয়ার হোসেন মনোনয়ন পান তাহলে তার জন্য আমরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করবো।’ ওই ঘোষণার আগেই থেকেই শামীম ওসমান সামনা সামনিই আনোয়ার হোসেনের পক্ষে কাজ করছেন।

এদিকে প্রায় ১৪ বছর পর গত ৯ অক্টোবর আইভীকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছে। অথচ গত বছরের ডিসেম্বরে ঘোষিত মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে আইভীকে রাখা হয়নি। এরই মধ্যে আনোয়ার শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীক পাবেন কিনা সে সন্দেহও ছড়িয়ে পড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে। কারণ ইতোমধ্যে সরকার আইভীকে উপমন্ত্রীর মর্যাদা, উন্নয়নের জন্য ১৯১ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে আইভীর সঙ্গে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের সভায় আইভীর পক্ষে নৌকার ইঙ্গিতের রব উঠে যায় নেতাকর্মীদের ভেতরে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও এখনই এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ সেলিনা হায়াত আইভী। তিনি বলেন, ‘আপাতত আমি কিছু মন্তব্য করবো না।’ এর আগে সিটি করপোরেশনের সবশেষ বাজেট অনুষ্ঠানে আইভী বলেছিলেন, ‘আমি কাজ করলে আমার কাজের মূল্যায়ন করবে জনগণ। আর নৌকার মালিক হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সময়মত তিনিই নৌকার মাঝি ঠিক করবেন।’

তবে আইভীর ভগ্নিপতি আবদুল কাদির যিনি জেলা যুবলীগের সভাপতি তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আইভীই পাচ্ছেন নৌকা প্রতীক। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আমাদের এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অচিরেই আমরা আইভীর পক্ষেই মাঠে নামবো।’

আনোয়ার হোসেন জানান, দলের তৃণমূল আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি নৌকা প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করবো আশা করছি। আমি দলের একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। নেত্রী অবশ্যই আমাকে মূল্যায়ন করবেন।’

আওয়ামী লীগের মধ্যে যখন দুইজন প্রার্থীর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তখন বিএনপির ভেতরেও দুই জন প্রার্থীর মধ্যে চলছে অঘোষিত মনস্তাত্বিক লড়াই। তারা হলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তিনবারের সাবেক এমপি আবুল কালাম।

তৈমূর আলম খন্দকার খন্দকার জানান, ‘গত নির্বাচনে বিএনপির এক লাখ ভোট থাকার পরেও কেন আমাকে মাত্র ৭ ঘণ্টা আগে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে প্রশ্নের উত্তর জানা হয়নি। আমাকে গোসল ছাড়াই কোরবানি দেওয়া হয়েছে। তাই এবার আমার নির্বাচনের কোনও ইচ্ছে নেই। তবে সব সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন।’

আর সাবেক এমপি আবুল কালাম জানান, ‘দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মেয়র প্রার্থী নির্বাচন করবেন।’

এদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইলের পক্ষে শহরে প্রচুর ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। চলছে তার প্রচারণা। ইসমাইল বলেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চায়। আমি পরিবর্তন ও উন্নয়নের মনোবাসনা নিয়েই মেয়র প্রার্থী হবো।’